“দুধ ও মাংস উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রুভেন বুল তৈরী” শীর্ষক প্রকল্পের দরপত্র বিষয়ে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচারের বিপরীতে প্রকৃত সত্য প্রকাশ প্রসঙ্গে
গত ১২ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে দৈনিক শেয়ার বিজ পত্রিকায় “দুধ ও মাংস উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রুভেন বুল তৈরী” শীর্ষক প্রকল্পের আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে জনবল নিয়োগ সংক্রান্ত দরপত্র বিষয়ে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, যা সম্পূর্ণরূপে মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর ও অতিরঞ্জিত তথ্যসম্বলিত। প্রকাশিত সংবাদে এমন ভাষা ও উপমা ব্যবহার করা হয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর, প্রকল্প পরিচালক, দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে এবং তাদের প্রতি অযৌক্তিক সন্দেহ ও অবিশ্বাস সৃষ্টি করেছে।
উক্ত সংবাদের বিপরীতে প্রকৃত ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য নিম্নে উপস্থাপন করা হলো-
১। প্রকল্পটি গত ০১ জুলাই ২০২৫ তারিখে কার্যক্রম শুরু করে । তৎকালীন প্রকল্প পরিচালক ডাঃ মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান (রোকন) ৩১ আগস্ট ২০২৫ তারিখে আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে জনবল নিয়োগের জন্য দরপত্র আহ্বান করেন ।
২। দরপত্র মূল্যায়নের জন্য ডেলিগেশন অব ফাইন্যান্সিয়াল পাওয়ার (DFP) অনুযায়ী মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় কর্তৃক ৭ (সাত) সদস্যবিশিষ্ট একটি দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি গঠন ও অনুমোদন করেন। উক্ত কমিটি অত্যন্ত স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সাথে মোট ১৪টি দরদাতার দরপত্র ডকুমেন্টসমুহ যাচাই-বাছাই ও মূল্যায়ন কার্যক্রম সম্পন্ন করে । মুল্যায়ন কার্যক্রমে প্রকল্প পরিচালক কোন পর্যায়েই কোন সদস্য ছিলেন না ।
৩। পিপিআর-২০২৫ অনুযায়ী আর্থিক ক্ষমতার সীমা বিবেচনায় এই দরপত্রের অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ ছিল মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় । মূল্যায়ন কমিটির সভাপতি দরপত্র মূল্যায়ন শেষে রেসপনসিভ ও নন-রেসপনসিভ দরদাতাদের সকল কাগজপত্র সিলগালা অবস্থায় মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করেন। পিপিএ ধারা ৭ (৫) অনুযায়ী দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সভাপতি সরাসরি অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের নিকট (মন্ত্রণালয়) প্রতিবেদন প্রেরণ করেন, যা প্রকল্প পরিচালকের দেখার বা হস্তক্ষেপ করার কোনো সুযোগ বা এখতিয়ার নেই ।
৪। সেই প্রেক্ষিতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় গত ২৭-১২-২০২৫ তারিখে উক্ত দরপত্রটি “ধলেশ্বরী সিকিউরিটি এন্ড ক্লিনিং সার্ভিসেস (প্রাঃ) লিঃ” এর অনুকূলে অনুমোদন প্রদান করে ।
৫। পরবর্তীতে তৎকালীন প্রকল্প পরিচালক ডাঃ মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান (রোকন) পদত্যাগ করলে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় গত নভেম্বর ২০২৫ মাসে নিম্নস্বাক্ষরকারীকে প্রকল্প পরিচালক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করেন। উল্লেখ্য, দরপত্র সংক্রান্ত প্রায় সকল প্রক্রিয়া ও কার্যক্রম নিম্নস্বাক্ষরকারীর প্রকল্প পরিচালক হিসেবে যোগদানের পূর্বেই সম্পন্ন হয়েছে।
৬। পিপিআর বিধি ৪৮(৫)(ক) অনুযায়ী মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদন প্রাপ্তির পর প্রকল্প পরিচালককে সর্বোচ্চ ৩ (তিন) কর্মদিবসের মধ্যে
নোটিফিকেশন অব এওয়ার্ড (NOA) ইস্যু করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেই অনুযায়ী নিম্নস্বাক্ষরকারী শুধুমাত্র প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেছেন। এর বাইরে কোনো প্রকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা অন্যকোন ভাবে বিলম্বিত করার সুযোগ ছিল না ।
৭। অথচ প্রকাশিত সংবাদে কোনো প্রকার প্রমাণ বা তথ্যভিত্তিক অনুসন্ধান ছাড়াই অনুমাননির্ভর, সন্দেহমূলক ও কাল্পনিক বক্তব্য উপস্থাপন করে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, মানহানিকর, অপমানজনক এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিপন্থী। উক্ত সংবাদ সরকারি বিধি-বিধান ও প্রশাসনিক কাঠামোর বাস্তবতা সম্পর্কে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে, পাশাপাশি একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত ।
এমতাবস্থায়, গত ১২ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে শেয়ার বিজ পত্রিকায় প্রকাশিত উক্ত বিভ্রান্তিকর ও অসত্য সংবাদের বিপরীতে প্রকৃত, বস্তুনিষ্ঠ ও যাচাইযোগ্য তথ্যসমৃদ্ধ এই প্রতিবাদ ও ব্যাখ্যামূলক বিবরণ যথাযথ গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করলে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটিত হবে, জনসাধারণ সঠিক তথ্য জানতে পারবে এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরসহ কর্মকর্তার মর্যাদা – সুনাম অক্ষুণ্ণ থাকবে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি ।
প্রিন্ট করুন







Discussion about this post