প্রচ্ছদ প্রথম পাতা বাজার বিশ্লেষণ

প্রকৌশল খাতে লেনদেন বাড়লেও চাহিদার শীর্ষে বিমা খাতের শেয়ার

রুবাইয়াত রিক্তা:ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল ইতিবাচক গতিতে লেনদেন শুরু হলেও তা বেশি সময় স্থায়ী হয়নি। লেনদেন শুরুর এক ঘণ্টার মধ্যে বিক্রির চাপ বাড়তে থাকে। শেষ ঘণ্টায় হঠাৎ কেনার চাপ বাড়লে শেষ পর্যন্ত সূচক ইতিবাচক থাকে। তবে ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক নেতিবাচক অবস্থানে চলে যায়। গতকাল প্রকৌশল খাতে লেনদেন বাড়লেও শেয়ার কেনার চাহিদা বেশি ছিল বিমা খাতে। প্রকৌশল খাতের ন্যাশনাল টিউবসের লেনদেনে একক প্রাধান্যই এ খাতে লেনদেন বৃদ্ধির কারণ। ব্যাংক ও আর্থিক খাত তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে ছিল। পুঁজিবাজারে বিমা খাতের ৪৭ প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত রয়েছে। বাকি যে ২৮টি প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত নয়, সেগুলোকে পুঁজিবাজারে আনার জন্য গতকাল জোর তাগিদ দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। এ কারণে লেনদেনের শেষ ঘণ্টায় বিমা খাতে শেয়ার কেনার চাপ বেড়ে যায়। ফলে সূচক ইতিবাচক হয়। গতকাল দরবৃদ্ধির শীর্ষ দশের তালিকা শতভাগই ছিল বিমা খাতের দখলে। তবে বিমা খাতের কোম্পানিগুলো ছোট মূলধনি হওয়াতে ৫২ শতাংশ কোম্পানির দরবৃদ্ধিতেও সূচকে সেভাবে প্রভাব পড়েনি। এছাড়া কারসাজির ঘটনা নিয়ন্ত্রক সংস্থার গোচরে আসায় কয়েকটি কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এর ফলে সম্প্রতি দর ও লেনদেন বাড়তে থাকা বেশ কিছু কোম্পানির বড় দরপতন হয়।
মোট লেনদেনের ২২ শতাংশ বা ৬৮ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়ে শীর্ষে উঠে আসে প্রকৌশল খাত। এ খাতে ৫১ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে। ৩২ কোটি ২৬ লাখ টাকা লেনদেন হয়ে শীর্ষে অবস্থান করে ন্যাশনাল টিউবস। দর বেড়েছে চার টাকা। যদিও চলতি হিসাববছরের তৃতীয় প্রান্তিক শেষে কোম্পানিটির ইপিএস ৯৬ পয়সা লোকসানে আছে। এছাড়া ইস্টার্ন কেব্লসের সোয়া ছয় কোটি টাকা লেনদেন হয়, দর বেড়েছে ১৪ টাকা ৩০ পয়সা। এরপরে ২০ শতাংশ লেনদেন হয় ওষুধ ও রসায়ন খাতে। এ খাতে ৬২ শতাংশ কোম্পানি দরপতনে ছিল। লেনদেনের শীর্ষ দশে অবস্থান করা জেএমআই সিরিঞ্জের সাড়ে ১৪ কোটি টাকা লেনদেন হলেও ৩২ টাকা ৩০ পয়সা দরপতন হয়। এছাড়া বীকন ফার্মার প্রায় ৯ কোটি টাকা লেনদেন হয়। দর কমেছে ৮০ পয়সা। ওয়াটা কেমিক্যালের সোয়া আট কোটি টাকা লেনদেন হলেও দরপতন হয় সাড়ে ১৩ টাকা। বিমা খাতে লেনদেন হয় ১০ শতাংশ। এ খাতে ৪৫টি কোম্পানির দর বেড়েছে, কমেছে একটির, অপরিবর্তিত ছিল একটির। ব্যাংক খাতে ৪৬ শতাংশ এবং আর্থিক খাতে ৬২ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ৫২ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে। ইউনাইটেড পাওয়ারের সোয়া সাত কোটি টাকা লেনদেন হয়। দরপতন হয় চার টাকা ১০ পয়সা। এছাড়া লিগ্যাসি ফুটওয়ারের সোয়া সাত কোটি টাকা লেনদেন হয়, দরপতন হয় ৬০ পয়সা। স্টাইল ক্রাফটের সোয়া ছয় কোটি টাকা লেনদেন হলেও দর কমেছে ৬৬ টাকা। বঙ্গজের লেনদেন হয় ছয় কোটি টাকা, দরপতন হয় সাড়ে ১০ টাকা। ভিএফএস থ্রেডের প্রায় ছয় কোটি টাকা লেনদেন হয়. দরপতন হয় এক টাকা ৩০ পয়সা। এছাড়া টেলিযোগাযোগ খাত শতভাগ ইতিবাচক ছিল।

ট্যাগ »

সর্বশেষ..