কোম্পানি সংবাদ

প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের দর বেড়েছে ২৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বিমা খাতের কোম্পানি প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড ঈদের আগের সপ্তাহে দর বৃদ্ধির তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে। আলোচিত সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে ২৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্রমতে, গত সপ্তাহে কোম্পানিটির প্রতিদিন গড় লেনদেন হয়েছে দুই কোটি ৭৬ লাখ তিন হাজার ২০০ টাকার শেয়ার। সপ্তাহ শেষে মোট লেনদেনের পরিমাণ ১৩ কোটি ৮০ লাখ ১৬ হাজার টাকা।
এদিকে সম্প্রতি রাইট শেয়ার ইস্যু এবং অনুমোদিত মূলধন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ। কোম্পানিটি বিদ্যমান একটি সাধারণ শেয়ারের বিপরীতে দুটি রাইট শেয়ার ইস্যু করবে। প্রিমিয়ামসহ রাইট শেয়ারের ইস্যু মূল্য ১৫ টাকা, যেখানে পাঁচ টাকা প্রিমিয়াম। রাইট শেয়ার ইস্যু করে বাজার থেকে অর্থ উত্তোলনের পাশাপাশি কোম্পানিটি অনুমোদিত মূলধন ২৫ কোটি টাকা থেকে ১০০ কোটি টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সিদ্ধান্তটি কার্যকর করতে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ও বিনিয়োগকারীদের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে। বিনিয়োগকারীদের অনুমোদনের জন্য আগামী ২৫ আগস্ট বেলা ১১টায় রাজধানীর কেআইবিসি অডিটরিয়ামে (কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ কমপ্লেক্স, সাউথ ব্লক, লেভেল-১, কৃষি খামার সড়ক, ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫) বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) অনুষ্ঠিত হবে।
২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ও ১৫ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ডসহ সর্বমোট ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে বিমা খাতের কোম্পানি প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড। ঘোষিত লভ্যাংশ বিনিয়োগকারীদের সম্মতিক্রমে অনুমোদনের জন্য আগামী ২৫ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ কমপ্লেক্স (কেআইবিসি) অডিটরিয়ামে বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে সর্বশেষ কার্যদিবসে ডিএসইতে কোম্পানিটির শেয়ারদর চার দশমিক ৬৭ শতাংশ বা ৬ টাকা ২০ পয়সা বেড়ে প্রতিটি সর্বশেষ ১৩৯ টাকায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল ১৩৯ টাকা। ওইদিন দুই লাখ ৮৮ হাজার ৮০৯টি শেয়ার মোট এক হাজার ৫৪৭ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর তিন কোটি ৯৫ লাখ ১২ হাজার টাকা। দিনভর শেয়ারদর সর্বনিম্ন ১৩১ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১৩৯ টাকা ৬০ পয়সায় ওঠানামা করে। এক বছরের মধ্যে শেয়ারদর ৯১ টাকা থেকে ১৬৫ টাকা ৭০ পয়সায় ওঠানামা করে।
এর আগে ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাববছরে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের জন্য ১৫ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছে। আর তার আগের বছর অর্থাৎ ২০১৬ সালে আট শতাংশ নগদ ও ১৭ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছিল। বিমা খাতের এ কোম্পানিটি ২০০৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে বর্তমানে ‘এ’ ক্যাটেগরিতে অবস্থান করছে। ২৫ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ১৩ কোটি ৩৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা। কোম্পানিটির এক কোটি ৩৩ লাখ ৪৯ হাজার ১৭৫টি শেয়ার রয়েছে। ডিএসই থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্যমতে, কোম্পানির মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে ৩৯ দশমিক ৫৯ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক ২৮ দশমিক ৫ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে ৩২ দশমিক ৩৬ শতাংশ শেয়ার।
তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আলহাজ্ব টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড। কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে ১৮ দশমিক ৮০ শতাংশ। আলোচ্য সপ্তাহে কোম্পানিটির প্রতিদিন তিন কোটি ৫০ লাখ ৫৮ হাজার ২০০ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আর পুরো সপ্তাহে লেনদেন হয়েছে ১৭ কোটি ৫২ লাখ ৯১ হাজার টাকার শেয়ার।
এদিকে ডিএসইতে ঈদের আগের সবশেষ কার্যদিবসে কোম্পানিটির শেয়ারদর ছয় দশমিক ৪২ শতাংশ বা তিন টাকা ৮০ পয়সা বেড়ে প্রতিটি সর্বশেষ ৬৩ টাকায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল ৬৩ টাকা ২০ পয়সা। দিনজুড়ে পাঁচ লাখ ৪৫ হাজার ১৮৫টি শেয়ার মোট এক হাজার ৫২১ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর তিন কোটি ৪৩ লাখ ১৪ হাজার টাকা। দিনভর শেয়ারদর সর্বনিম্ন ৫৭ টাকা ৪০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ৬৪ টাকা ৯০ পয়সায় হাতবদল হয়। গত এক বছরে শেয়ারদর ৪২ টাকা ৮০ পয়সা থেকে ১২৩ টাকার মধ্যে ওঠানামা করে।
৩০ জুন ২০১৮ সমাপ্ত হিসাববছরে কোম্পানিটি ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছে। ওই সময় শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৪৮ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) হয়েছে ১২ টাকা ৩৮ পয়সা। ওই সময় কর-পরবর্তী মুনাফা করেছে প্রায় ৯৭ লাখ টাকা।
কোম্পানিটি ১৯৮৩ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে বর্তমানে ‘এ’ ক্যাটেগরিতে অবস্থান করছে। কোম্পানির ৫০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ২২ কোটি ২৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা। কোম্পানির মোট দুই কোটি ২২ লাখ ৯৮ হাজার ৫৪৯টি শেয়ার রয়েছে। মোট শেয়ারের মধ্যে ১২ দশমিক ৭৮ শতাংশ উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের, প্রাতিষ্ঠানিক ৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে ৭৭ দশমিক ৭৬ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন ও বাজারদরের ভিত্তিতে শেয়ারের মূল্য আয় (পিই) অনুপাত ১৩১ দশমিক ৬৭।
তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে মুন্নু জুট স্টাফলার্স লিমিটেড। কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে ১৮ দশমিক ৫২ শতাংশ। আলোচ্য সপ্তাহে কোম্পানিটির প্রতিদিন আট কোটি ২৭ লাখ ১২ হাজার ৬০০ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আর পুরো সপ্তাহে লেনদেন হয়েছে ৪১ কোটি ৩৫ লাখ ৬৩ হাজার টাকার শেয়ার।
এদিকে সর্বশেষ কার্যদিবসে ডিএসইতে কোম্পানিটির শেয়ারদর এক দশমিক ৩৩ শতাংশ বা ১৬ টাকা ৪০ পয়সা বেড়ে প্রতিটি শেয়ার সর্বশেষ এক হাজার ২৫০ টাকায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল এক হাজার ২৪৯ টাকা ৩০ পয়সা। দিনজুড়ে ৪১ হাজার ৪৬৭টি শেয়ার মোট দুই হাজার ৬৯৫ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর পাঁচ কোটি ১৯ লাখ ২২ হাজার টাকা। দিনভর শেয়ারদর সর্বনিম্ন এক হাজার ২২০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ এক হাজার ২৯০ টাকায় হাতবদল হয়। গত এক বছরে শেয়ারদর ৬৪১ টাকা ১০ পয়সা থেকে পাঁচ হাজার ৬৩৪ টাকা ২০ পয়সায় ওঠানামা করে।
২০১৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সমাপ্ত হিসাববছরে নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বিনিয়োগকারীদের ৩৫০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছে। আলোচিত সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে আট টাকা ৭৪ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ৫৩ টাকা ৩০ পয়সা।
১৯৮২ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ‘এ’ ক্যাটেগরির এ কোম্পানি। অনুমোদিত মূলধন ১০০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন দুই কোটি সাত লাখ টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ ৩৮ লাখ ২০ হাজার টাকা।
কোম্পানিটির মোট ২০ লাখ ৭০ হাজার শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের ৪২ দশমিক ৯৮ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক চার দশমিক ৫৩ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে শূন্য দশমিক শূন্য এক শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ৫২ দশমিক ৪৮ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।
তালিকার চতুর্থ স্থানে রয়েছে খুলনা পওয়ার কোম্পানি লিমিটেড। কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে ১৫ দশমিক ৪২ শতাংশ। আলোচ্য সপ্তাহে কোম্পানিটির প্রতিদিন ১০ কোটি ৪৯ লাখ ২৬ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আর পুরো সপ্তাহে লেনদেন হয়েছে ৫২ কোটি ৪৬ লাখ ৩০ হাজার টাকার শেয়ার।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..