সম্পাদকীয়

প্রজন্মান্তরে ছড়িয়ে পড়ুক বঙ্গবন্ধুর আদর্শ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের অবিসংবাদিত নেতা। বলা যায়, বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু এ শব্দ দুটি সমার্থক। রাজনৈতিক নেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশের আগেও তিনি ছিলেন ন্যায়ের পক্ষে প্রতিবাদী। কৈশোর, তারুণ্য, যৌবন ও প্রৌঢ়ত্ব জীবনের সব পর্যায়ে তিনি সাধারণ মানুষের পক্ষে ভাষার জন্য ও দেশের জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক চাওয়া-পাওয়া বিসর্জন দিয়ে মানুষের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবনে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল দেশ-জাতির জন্য নিবেদিত। অনুপম ব্যক্তিত্বসম্পন্ন শেখ মুজিব আদর্শের প্রশ্নে ছিলেন আপসহীন। ধাপে ধাপে এগিয়ে তিনি নিজেকে জাতির জন্য অপরিহার্য করে তুলে হয়েছেন বঙ্গবন্ধু, জাতির পিতা। তাঁর নেতৃত্বেই বাঙালি জাতি পেয়েছে স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র।

বাংলার এ কৃতী পুরুষের অবদান কোনোভাবেই বিস্মৃত হওয়ার সুযোগ নেই। বরং তাঁর রাজনৈতিক জীবন ও দেশপ্রেম চিরদিন বাঙালির অনুসরণীয় হয়ে থাকবে। তাই তাঁর জীবনী সম্পর্কে প্রজন্মের সম্যক ধারণা থাকা উচিত। দেশমাতৃকার এই মহামানবের জন্মশতবার্ষিকী আজ। দিনটি থেকে জাতি পালন করবে ‘মুজিববর্ষ’। আজ জাতীয় শিশু দিবসও। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে আনুষ্ঠানিকতায় কাটছাঁট হলেও গুরুত্বপূর্ণ দুটি দিবস পালিত হবে যথাযোগ্য মর্যাদায়।

আজকের শিশু দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ কর্ণধার। জাতির পিতা বঙ্গন্ধুর আদর্শ প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে ছড়িয়ে দেওয়া গেলে শিশুরা যোগ্য নেতা হিসেবে গড়ে উঠতে পারবে। একটি বিষয় অবিসংবাদিত সত্য যে, তাঁর চিন্তা-চেতনা ও ধ্যান-ধারণা ছিল বাংলার নির্যাতিত মানুষকে ঘিরে আবর্তিত। মানুষ হিসেবে কেউ সবাইকে খুশি করতে পারে না। বঙ্গবন্ধুও হয়তো পারেননি; কিন্তু তিনি সর্বাত্মক চেষ্টা করেনেনিÑএমনটি বলতে পারবে না তাঁর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষও। নিশ্চিত করে বলা যায়, তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, সহনশীলতা, সততা, নৈতিকতা ও ত্যাগ নিয়ে প্রশ্ন তোলার ন্যূনতম সুযোগ নেই।

বঙ্গবন্ধু আজীবন স্রোতের বিপরীতে চলে সৃষ্টি করেছেন নতুন ধারা। প্রতিকূল পরিবেশ পক্ষে আনতে নিরলস যে পরিশ্রম করেছেন, তা অনুপ্রেরণা জোগাবে রাজনৈতিক কর্মীদের। মুজিববর্ষে রাজনৈতিক কর্মীরা তাঁকে কতটা অনুশীলন করতে পারেন, সেটিই বিবেচ্য। তাঁর লেখা ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ পাঠে কর্মীরা জানবেন নিজের সম্পর্কে তাঁর মূল্যায়নÑ‘আমাকে যে কাজ দেওয়া হতো, আমি নিষ্ঠার সঙ্গে সে কাজ করতাম।… আমি মুখে যা বলি, তা-ই বিশ্বাস করি; যা বিশ্বাস করি, বলি। সেজন্য বিপদেও পড়তে হয়।’ রাজনৈতিক জীবনে বঙ্গবন্ধু দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সে ধরনের দৃষ্টান্ত স্থাপনই হবে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের সর্বোত্তম পন্থা। তাহলে পরকালেও ভালো থাকবে তাঁর বিদেহী আত্মা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..