নিজস্ব প্রতিবেদক : ‘…একটা হারিয়ে যাওয়া স্বর্ণমুদ্রা যেমন এক পয়সার মোমবাতি জ্বালিয়ে খুঁজে বের করা যায়, তেমনি সাধারণ একটা গল্পের মধ্য দিয়েও মেলে জীবনের পরম সত্য।’
কথাগুলো নেওয়া হয়েছে আতাউর রহমানের ‘প্রজ্ঞা পরম্পরা’ বই থেকে, যেটি মূলত অ্যান্থনি ডি মেলোর লেখা ‘ওয়ান মিনিট উইজডম’ গ্রন্থ থেকে বেছে নেওয়া দেড় শতাধিক গল্পালাপের মর্মানুবাদ। অ্যান্থনি ডি মেলো, যিনি টনি ডি মেলো নামেও সুপরিচিত, ছিলেন একাধারে ধর্মযাজক, সাইকোথেরাপিস্ট, শিক্ষক ও বক্তা।
‘ওয়ান মিনিট উইজডম’ প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৮৬ সালের জুন মাসে, আজ থেকে চল্লিশ বছর আগে। ইতোমধ্যে ৩৫টিরও বেশি ভাষায় অনূদিত হয়েছে রূপক গল্পকথনের চমৎকার এ বইটি। আর সুলেখক আতাউর রহমানের প্রাঞ্জল লেখনীতে বাংলা ভাষায় এ অনুগল্পগুলো পেয়েছে নতুন ব্যঞ্জনা।
চিকিৎসাবিজ্ঞানে স্নাতক ডা. আতাউর রহমানের জন্ম, বেড়ে ওঠা ও পড়াশোনা চট্টগ্রামে। দায়িত্ব পালন করছেন কোয়ান্টাম স্বেচ্ছা রক্তদান কার্যক্রমে। একক ও যৌথ সম্পাদনায় এ যাবৎ প্রকাশিত হয়েছে ১০টি বই।
ছোট্ট ছোট্ট গল্পালাপ। বেশিরভাগ কাহিনি এক পৃষ্ঠায় শেষ। অনায়াসে আকৃষ্ট করবে রিলসপ্রেমী নতুন প্রজন্মকে। একেকটি অনুগল্প পড়ার পর কয়েক সেকেন্ডের জন্য হলেও থমকে যাবেন পাঠক, একটু ভাবতে বাধ্য হবেন। যত পৃষ্ঠা ওল্টাবেন, পরতে পরতে খুলতে থাকবে অন্তর্দৃষ্টি। অনুবাদগ্রন্থ হলেও এখানে অনুবাদকের সিকি শতাব্দীর সত্যাভিযাত্রা থেকে অর্জিত আত্মোপলব্ধির ছাপ সুস্পষ্ট।
‘প্রজ্ঞা পরম্পরা’ নামকরণের মধ্য দিয়ে প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়েছেন আতাউর রহমান। যুগে যুগে প্রজন্ম-পরম্পরায় প্রবাহিত হয় সত্যজ্ঞান। দুটি শব্দের মধ্যে তিন জায়গায় ‘প’ ধ্বনির উপস্থিতি সৃষ্টি করেছে অপূর্ব ধ্বনিব্যঞ্জনা, ছন্দবিজ্ঞানের ভাষায় যাকে ‘অনুপ্রাস’ বলা হয়।
আসলে আলোকিত মানুষ হওয়ার জন্য অনেক বড় তাত্ত্বিক হওয়ার প্রয়োজন নেই। খুব সহজ কিছু সূত্র মেনে চলতে পারলেই জীবনে সুখী হওয়া যায়। ‘আত্মস্বীকৃতি’ গল্পে যেমনটি বলা হয়েছে: ‘আমি কীভাবে আপনার মতো একজন বিরাট মানুষ হতে পারি?’
‘বিরাট মানুষ হতে হবে কেন? মানুষ হয়ে উঠতে পারাটাই তো যথেষ্ট বিরাট অর্জন!’—গুরু বললেন।
এখানে কোনো অতিকথন নেই, অতিরঞ্জন নেই। নেই বর্ণনার বাহুল্য। আলাপচারিতার মধ্য দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে সহজ সত্য।
আমাদের অস্থিরতা ও অশান্তির কারণ ভুল জীবনদৃষ্টি। জীবনদৃষ্টিকে শুধরে নেওয়া তাই জরুরি। কিন্তু এ জন্য চাই সদিচ্ছা। আন্তরিক আকাঙ্ক্ষা না থাকলে আত্মশুদ্ধি লাভ করা যায় না। ‘বিচক্ষণতা’ গল্পে আমরা দেখি:
এক শিষ্য এলো গুরুর কাছে।
‘জুয়া খেলায় ভোজবাজি করতে গিয়ে গতকাল আমি প্রতিপক্ষের কাছে ধরা পড়েছি। মেরেটেরে আমাকে সে দোতলার জানালা দিয়ে একেবারে বাইরে ছুড়ে ফেলেছে! বলেন আমার এখন কী করা উচিত?’
গুরু সরাসরি তাকালেন লোকটার দিকে, তারপর বললেন, ‘তোমার জায়গায় আমি হলে এখন থেকে নিচতলায় বসে খেলতাম।’
শিষ্যরা এতক্ষণ শুনছিল এসব কথাবার্তা।
লোকটা চলে যেতেই আশ্চর্য হয়ে ওরা জানতে চাইল গুরুর কাছে—‘তাকে আপনি জুয়া খেলাটা ছাড়তে বললেন না যে?’
‘কারণ আমি জানি ওটা সে ছাড়বে না।’ গুরুর সহজ ও বিচক্ষণ উত্তর।
ঝকঝকে উন্নত অফ হোয়াইট কাগজে ছাপা ১৭৬ পৃষ্ঠার বইটির মুদ্রিত মূল্য ৪০০ টাকা। প্রকাশ করেছে পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স। রকমারি থেকে অনলাইনে সংগ্রহ করতে পারেন বিশেষ ছাড়ে। পাওয়া যাচ্ছে পাঞ্জেরী প্রকাশনীর ৭৮৫-৭৮৯ নং স্টলে।
প্রিন্ট করুন









Discussion about this post