সম্পাদকীয়

প্রণোদনার পরও রফতানি আয় কমা উদ্বেগজনক

যে কোনো দেশের অর্থনীতির জন্য রফতানি আয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। তাই রফতানি বাড়াতে নানা ধরনের প্রণোদনার পাশাপাশি বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এরপরও রফতানি আয় কমে যাওয়া হতাশাজনক বৈকি। রফতানির উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ প্রতিবেদনে রফতানির উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো, দেশের রফতানি বাণিজ্য কয়েকটি পণ্যে নির্ভর হয়ে পড়েছে। এর থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসা জরুরি। এত সুবিধা পাওয়ার পরও রফতানি কমার দায় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা এড়াতে পারেন না বলে মনে করি।

গতকালের শেয়ার বিজে ‘টানা তিন মাস কমল রফতানি আয়’ শিরোনামে খবর ছাপা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, নানা প্রণোদনা ও সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের পরও তিন মাস ধরে কমছে রফতানি আয়। চলতি অর্থবছরের অক্টোবর শেষে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রফতানি আয় কমেছে ১১ দশমিক ২১ শতাংশ। আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে এ আয় ছয় দশমিক ৮২ শতাংশ কম। রফতানির এমন চিত্র সুখকর নয়। এভাবে চলতে থাকলে শিগগিরই তা অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

রফতানি আয় কমার পেছনে রফতানি আদেশ ও পণ্যমূল্য কমা, অবকাঠামোগত সমস্যা, ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন না কমানো, ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদহারসহ বিভিন্ন কারণের কথা বলছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। অবশ্য এগুলো নতুন কিছু নয়। বিশ্বের প্রতিযোগিতামূলক বাজারে প্রতিদ্বন্দ্বীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। এ অবস্থায় বিদ্যমান সমস্যাগুলোর কার্যকর সমাধান করতে না পারলে সংকট আরও বাড়াবে। সে ক্ষেত্রে প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে সরকারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। রফতানিকারকদেরও আরও দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন। কারণ ব্যাপক সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার পরও তারা রফতানি বাণিজ্যে কার্যকর ভূমিকা রাখতে না পারা হতাশাজনক।

খবরে উল্লেখ করা হয়েছে, অক্টোবরে রফতানি আয় হয়েছে ৩০৭ কোটি ৩২ লাখ ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১১ দশমিক ৭১ শতাংশ কম। অক্টোবর শেষে পোশাক রফতানিতে আয় হয়েছে এক হাজার ৫৭ কোটি ৭৩ লাখ ৮০ হাজার ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১২ দশমিক শূন্য সাত শতাংশ কম। মূল সমস্যা হলো, রফতানিতে পোশাকনির্ভরতা সর্বাধিক। অথচ পাট, চা, চামড়ার মতো সম্ভাবনাময় অনেক পণ্যের রফতানি বাজার হারিয়েছি। পোশাক খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সামনে রফতানি আরও কমবে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিয়ে চিহ্নিত সমস্যাগুলো সমাধান করতে উচিত। এছাড়া পোশাক রফতানিনির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প পণ্যের বাজার খুঁজে বের করা সবচেয়ে জরুরি বলে আমরা মনে করি।

সর্বশেষ..