শেষ পাতা

প্রতিকূলতার মধ্যেও মুনাফা ধরে রেখেছে রবি আজিয়াটা

নিজস্ব প্রতিবেদক: দুই অঙ্কের রাজস্ব প্রবৃদ্ধির ওপর ভর করে ২০১৯ সালে দেশের শীর্ষ ডিজিটাল সেবা প্রদানকারী কোম্পানি রবি আজিয়াটার কর-পরবর্তী মুনাফার (পিএটি) পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৭ কোটি টাকা। ডেটা খাতে আয়ের ওপর ভর করে ২০১৯ সালে রবি’র মোট রাজস্বের পরিমাণ ছিল সাত হাজার ৪৮১ কোটি টাকা, যা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ১০ শতাংশ বেশি।

সংবাদ সম্মেলনে গতকাল এ তথ্য তুলে ধরেন রবি আজিয়াটার ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও মাহতাব উদ্দিন আহমেদ। রাজধানীর গুলশানে কোম্পানিটির প্রধান কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, টেলিকম খাতে করপোরেট করের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪৫ শতাংশ। তবে ২০১৯ সালে রবি’র কার্যকর করের পরিমাণ ছিল ৯০ শতাংশ। ন্যূনতম টার্নওভার করহার দশমিক ৭৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে দুই শতাংশ, সিম করের পরিমাণ দ্বিগুণ করে ২০০ টাকা, স্মার্টফোনের ওপর সম্পূরক শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে ২৫ শতাংশ, মোবাইল সেবার সম্পূরক শুল্ক পাঁচ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ করায় কোম্পানির আর্থিক পরিস্থিতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

অন্যদিকে ডেটার জন্য কোনো ন্যূনতম মূল্য না থাকায় চাপের মুখে পড়েছে কোম্পানি। ডেটা ব্যবহারের মাত্রা লক্ষণীয় পরিমাণে বৃদ্ধি পেলেও ডেটার জন্য ন্যূনতম মূল্য না থাকায় এই শিল্পে আত্মঘাতী প্রতিযোগিতা চলছে। ফলে ক্রমবর্ধমান ওটিটি (ওভার দ্য টপ) সেবার কারণে যে লোকসান হচ্ছে, তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হচ্ছে না। সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো, সর্বোচ্চ দক্ষতার সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করার কারণেই পর্বতসম করের বোঝা সত্ত্বেও ২০১৯ সালে রবি মুনাফা অর্জনে সক্ষম হয়েছে।

তথ্যমতে, ২০১৯ সালে ২১ লাখ নতুন গ্রাহকসহ বর্তমানে রবি’র মোট গ্রাহকসংখ্যা চার কোটি ৯০ লাখ, যা দেশের মোট মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর ২৯ দশমিক ছয় শতাংশ। ২০১৮ সালের তুলনায় গ্রাহকসংখ্যা বৃদ্ধির হার চার দশমিক পাঁচ শতাংশ। মোট চার কোটি ৯০ লাখ গ্রাহকের মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা তিন কোটি ১৩ লাখ। উদ্ভাবনী ও প্রতিযোগিতামূলক অফারের ফলে ২০১৯ সালের তৃতীয় প্রান্তিকের তুলনায় চতুর্থ প্রান্তিকে রবি’র গ্রাহকসংখ্যা এক দশমিক সাত শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

২০১৯ সালে দুই অঙ্কের রাজস্ব বৃদ্ধির ফলে গ্রাহকপ্রতি গড় রাজস্বের (অ্যাভারেজ রেভিনিউ পার ইউজার বা এআরপিইউ) পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২৩ টাকায়; পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় যা তিন দশমিক সাত শতাংশ বেশি। ২০১৯ সালে ডেটা ব্যবহারের মাত্রা ৯৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ৪.৫জি সেবায় রবি’র প্রাধান্যেরই প্রতিফলন। মেশিন লার্নিং সল্যুশনের সহায়তায় বাণিজ্যিকভাবে ডাইন্যামিক স্পেকট্রাম শেয়ারিং চালু করায় অপারেটরটির সার্বিক নেটওয়ার্ক সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে গ্রাহকরা সেরা ডেটা নেটওয়ার্ক উপভোগ করছেন। গ্রাহকদের মধ্যে রবি’র ডেটা নেটওয়ার্ক নিয়ে ব্যাপক সাড়া পড়ায় মোবাইল নাম্বার পোর্টেবিলিটি (এমএনপি) সেবার মাধ্যমে যারা অপারেটর পরিবর্তন করেছেন, তাদের প্রতি সাতজনের পাঁচজনই রবিতে এসেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০১৯ সালে ৩৮ দশমিক পাঁচ শতাংশ মার্জিনসহ আয়, অবচয় ও অ্যামোর্টাইজেশন (ইবিআইটিডিএ) পূর্ববর্তী অপারেটরটির আয় ছিল দুই হাজার ৮৮০ কোটি টাকা। ২০১৯ সালের তৃতীয় প্রান্তিকের তুলনায় রবি’র রাজস্ব আয় শূন্য দশমিক ছয় শতাংশ কম হয়েছে এবং ইবিআইটিডিএ ১৭ দশমিক পাঁচ শতাংশ কম হওয়ায় চতুর্থ প্রান্তিকে ৯৭ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। চতুর্থ প্রান্তিকে ৩১ দশমিক পাঁচ শতাংশ মার্জিনসহ ইবিআইটিডিএ ছিল ৫৯৫ কোটি টাকা।

বিক্রয় ও বিপণন খাতে এগিয়ে থাকতে প্রচুর ব্যয় ও স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার স্কিমের (ভোলান্টারি সেপারেশন স্কিম বা ভিএসএস) আওতায় এককালীন ব্যয় হওয়ায় ২০১৯ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে, যার প্রভাবে ইবিআইটিডিএ’ও কমেছে।  অন্যদিকে টেলিযোগাযোগ সেবা গ্রহণে মৌসুমি প্রভাব, ওটিটি সেবার ক্রমবর্ধমান ব্যবহার এবং ন্যূনতম মূল্যের অভাবে ডেটা সেবায় কঠোর প্রতিযোগিতার ফলে ২০১৯ সালের তৃতীয় প্রান্তিকের তুলনায় চতুর্থ প্রান্তিকের রাজস্ব শূন্য দশমিক ছয় শতাংশ কমেছে। পুরো বছরের মুনাফার ওপরই এর প্রভাব পড়েছে।

রবি’র ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও মাহতাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমরা যখন দেখি এমএনপি সেবার মাধ্যমে অপারেটর পরিবর্তন করা প্রতি সাতজন গ্রাহকের মধ্যে পাঁচজনই রবিতে আসছেন, তখন আর সন্দেহের কোনো সুযোগ থাকে না যে আমরাই সেরা ডেটা সেবা প্রদান করছি। ৪.৫জি সেবা ঘিরে ব্যবসা আরও প্রসারিত করা এবং ব্যবসার প্রতিটি ক্ষেত্রে উদ্ভাবনের ওপর জোর দেওয়ায় আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্যবস্থাপনা পরামর্শক সংস্থা অলিভার ওয়াইমেনের মতে, সাত দশমিক চার শতাংশ ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন ইনডেক্স নিয়ে বৈশ্বিক মানের ডিজিটাল টেলকোতে পরিণত হয়েছে রবি।’

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ »

সর্বশেষ..