বাণিজ্য সংবাদ শিল্প-বাণিজ্য

প্রতিটি ওয়ার্ডে কৃষকের বাজার স্থাপনের আহ্বান

নগরবাসীর পুষ্টির চাহিদা নিশ্চিতকরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশে বর্তমানে প্রচুর শাকসবজি ও ফলমূল উৎপাদন হচ্ছে এবং উৎপাদিত এসব পণ্য দেশের জনগণের চাহিদা পূরণে সক্ষম। কিন্তু সবজি ফলনের ভরা মৌসুমেও কৃষকরা তাদের উৎপাদিত সবজির সঠিক মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। একটি যথাযথ বাজার ব্যবস্থার অভাব এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যের কারণে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অন্যদিকে ভোক্তারাও সাশ্রয়ী মূল্যে নিরাপদ সবজি প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। শুধু শাকসবজি নয়, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে মৎস্য উপখাত এবং প্রাণিসম্পদ উপখাতেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

ঢাকা নগরবাসীর জন্য নিরাপদ খাদ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) ‘ঢাকা ফুড সিস্টেম’ শীর্ষক একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এ প্রকল্পের আওতায় তারা কৃষকের বাজার স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর অফিসের সহযোগিতায় মিরপুরের ৬ নং ওয়ার্ডের রূপনগর আবাসিক এলাকার ট-ব্লকে কৃষকের বাজার কার্যক্রমের তিন মাস মেয়াদি পরীক্ষামূলক প্রকল্প বাস্তবায়নে সহযোগী সংস্থা হিসেবে কাজ করছে ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট (ডব্লিউবিবি ট্রাস্ট)। প্রতি শুক্রবার সকাল ৭টা থেকে বিরুলিয়া থেকে ১০ জন কৃষক তার কৃষিপণ্য এনে এখানে বিক্রি করেন। যারা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে যাচাইকৃত নিরাপদ সবজি উৎপাদনকারী কৃষক। এমতাবস্থায় গতকাল বেলা ১১টায় ‘কৃষকের বাজার এবং নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্যের সহজলভ্যতা’ শীর্ষক গণমাধ্যমের সঙ্গে ভার্চুয়াল মতবিনিময় সভায় আয়োজন করা হয়।

ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের সিনিয়র প্রজেক্ট অফিসার জিয়াউর রহমানের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের প্রকল্প কর্মকর্তা নাঈমা আকতার। তিনি তার উপস্থাপনায় বলেন, কৃষকের বাজার এমন একটি বাজার ব্যবস্থা, যেখানে কৃষক সরাসরি তার উৎপাদিত পণ্য ক্রেতার কাছে বিক্রি করেন।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার ন্যাশনাল প্রোজেক্ট কো-অর্ডিনেটর জয়নাল আবেদীন বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে পুষ্টিকর খাদ্যের জোগান প্রায় নেই বললেই চলে। বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচনায় পুষ্টিকর, নিরাপদ ও সুলভমূল্যে খাদ্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ঢাকা ফুড সিস্টেম প্রকল্পের আওতায় কৃষকের বাজারের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আমাদের প্রত্যাশা ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় জনগণের খাদ্যের জোগান ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

হেলথব্রিজ ফাউন্ডেশন অব কানাডার আঞ্চলিক পরিচালক দেবরা ইফরইমসন বলেন, কৃষকের বাজার মানুষকে সবজির উৎপাদন পদ্ধতি সম্পর্কে স্বচ্ছতা দেবে। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মও আমাদের দেশে কৃষকদের অবদান ও বিভিন্ন উৎপাদিত সবজি সম্পর্কে ধারণা পাবে। বিশ্বের অন্যান্য দেশে কৃষকের বাজার এতটাই জনপ্রিয় যে, অনেকে কৃষকের বাজারে বেড়ানোর উদ্দেশ্যে যান। এ বাজারগুলোয় কৃষিপণ্য বিক্রির পাশাপাশি বাগান করা শেখানো, রান্না করা শেখানো, স্বাস্থ্যবিষয়ক বিভিন্ন তথ্য প্রদান প্রভৃতি কার্যক্রম হয়। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার সাসটেইনেবেল এগ্রিকালচার স্পেশালিস্ট জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কৃষকের বাজারের দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এখানে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর খাদ্য নিশ্চিত হবে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের হস্তক্ষেপ থাকবে না। আমরা যে শাকসবজি-ফলমূল খাই তাতে রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার হয়। আবার পরিবহন ও সংরক্ষণের জন্যও প্রচুর কীটনাশক ব্যবহার করা হয়। কিন্তু কৃষকের বাজারের মাধ্যমে ঢাকার আশেপাশে উৎপাদিত কৃষিপণ্য সরাসরি ক্ষেত থেকে সংগ্রহ করে ভোক্তার কাছে পৌঁছানো সম্ভব।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের পরিচালক গাউস পিয়ারী বলেন, আমরা জানি সুস্থ থাকতে হলে নিরাপদ খাদ্যের বিকল্প নেই এবং এক্ষেত্রে কৃষকের বাজার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..