দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

প্রতিবেদনের ব্যাখ্যা তলব করে রাকাবকে চিঠি

জয়নাল আবেদিন: দৈনিক শেয়ার বিজে প্রকাশিত প্রতিবেদনের অনিয়মগুলোর ব্যাখ্যা চেয়ে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংককে (রাকাব) চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ‘রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকে অনিয়ম: পিয়ন, কেরানি, প্রহরী ও অফিস সহকারী থেকে ম্যানেজার’ প্রতিবেদনে উল্লিখিত অনিয়মগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টসসহ সুস্পষ্ট ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা/মতামত প্রদান করে জরুরি ভিত্তিতে অবহিত করার নির্দেশ দিয়েছে নিয়ন্ত্রণ সংস্থাটি।

পিয়ন, সশস্ত্র প্রহরী, কেরানি ও শ্রুতিলেখক থেকে ব্যাংকের ম্যানেজারে পরিণত হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছিল ওই প্রতিবেদনে। পাশাপাশি নীতিবহির্ভূতভাবে একই শাখায় তিন বছরের অধিক, এমনকি ১০ বছরেরও বেশি সময় অবস্থান করা কর্মকর্তা সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, অনভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে শাখা পরিচালনার কারণেই দিনের পর দিন লোকসান গুনছে ব্যাংকটি। এছাড়া বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ, সময়ের ব্যবধানে গ্রামাঞ্চল থেকে চাকরি পেয়ে রাজধানীতে এসে স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তন, বেতনবৈষম্য এবং দীর্ঘ বছর ধরে জ্যেষ্ঠতা তালিকা প্রকাশ না করার মতো অপরাধগুলো ছিল অন্যতম।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দৈনিক শেয়ার বিজে প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর নতুন জ্যেষ্ঠতা তালিকা বা সিনিয়রিটি লিস্ট প্রকাশ করেছে রাকাব। তবে নতুন তালিকাতেও গোঁজামিলের কোনো শেষ নেই। অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ২০১৪ সালের জ্যেষ্ঠতা তালিকায় ওপরের দিকে থাকা কর্মকর্তাকে নিচের দিকে এবং বহু নিচে থাকা কর্মকর্তাকে ওপরের দিকে আনা হয়েছে। কর্মকর্তারা বলছেন, ওপরের চাপে দীর্ঘ ছয় বছর পর সিনিয়রিটি লিস্ট প্রকাশ করা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু এখানে স্বজনপ্রীতির বিষয়টি সুস্পষ্ট। একটি বিশেষ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সিনিয়রিটি লিস্টের ওপরে রাখা হয়েছে। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিজেও একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বলে অভিযোগ করছেন কর্মকর্তারা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুনভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ৩৮৩টি শাখার মধ্যে ১৯৫ শাখাই লোকসানে রয়েছে। সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরে (২০১৯-২০) রাকাবের পরিচালন লোকসানের পরিমাণ ৬০২ কোটি টাকা। এ সময়ে মোট

পাঁচ হাজার ৭০০ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে ব্যাংকটি। এর মধ্যে ৩১ শতাংশই খেলাপি, অঙ্কে যার পরিমাণ এক হাজার ৭৫৫ কোটি টাকা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেই সময়ের ব্যবধানে হয়ে উঠেছেন শাখার সর্বোচ্চ কর্মকর্তা। কিন্তু তাদের অধীনেই কাজ করছেন দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা মেধাবী ছাত্ররা। শাখা ব্যবস্থাপকের নামে খোলা ই-মেইল আইডিতে লগ ইন ও আউট কোনোটাই করতে পারেন না তাদের অনেকে, করতে পারেন না জরুরি তথ্যের আদান-প্রদান।

শুধু তাই নয়, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের বিভিন্ন দুর্নীতির মধ্যে জ্যেষ্ঠতা ক্রম লঙ্ঘন করে কর্মকর্তাদের পদোন্নতি, জ্যেষ্ঠতা তালিকা প্রকাশ না করা, নীতিবহির্ভূতভাবে ব্যাংকের একই শাখায় তিন বছরের অধিক অবস্থান এবং গ্রামের স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তন করে রাজধানীতে সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) হিসেবে পদোন্নতির মতো ঘটনাও রয়েছে। এসব অনিয়মের কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রাকাবের কর্মকর্তারা। তারা বলেন, গুটিকয়েক সদস্যের একটি চক্রের মাধ্যমে এসব দুর্নীতি সম্পন্ন হয়ে আসছে বহুদিন থেকে। দিনের পর দিন এ ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতি আরও বাড়ছে।

ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত মাসের (সেপ্টেম্বর) ২৪ তারিখ জ্যেষ্ঠতা তালিকা-বিষয়ক একাটি সার্কুলার জারি করে রাকাব। এতে উপ-মহাব্যবস্থাপক, সহকারী মহাব্যবস্থাপক ও সমমান পদে কর্মরত কর্মকর্তাদের ‘৩০ জুন, ২০২০’ ভিত্তিক খসড়া জ্যেষ্ঠাতা তালিকা বা সিনিয়রিটি লিস্ট প্রকাশের বিষয়ে সব কর্মকর্তাকে অবগত করা হয়। খসড়া তালিকায় বর্ণিত জ্যেষ্ঠতার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কারও কোনো আপত্তি থাকলে তা সংশোধনের জন্য উপযুক্ত তথ্য-প্রমাণাদিসহ সার্কুলার লেটার জারির ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে কর্মী ব্যবস্থাপনা বিভাগে পৌঁছানোর আহ্বান করা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো আপত্তি না পাওয়া গেলে জারিকৃত খসড়া জ্যেষ্ঠতা তালিকা চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য করা হবে। সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত কোনো আপত্তি জানাননি কেউ।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..