প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

প্রতিযোগিতা কমিশনকে সক্রিয় করুন

দেশে পণ্যের দাম কয়েক বছর ধরে মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে বলে প্রতীয়মান। এমনকি রমজানেও পণ্যের দাম অন্যান্য বছরের তুলনায় কমবেশি নিয়ন্ত্রণে ছিল বলে মনে করেন অনেকে। তবু লক্ষণীয়, মাঝেমধ্যে কিছু পণ্যের দাম বাড়ে অস্বাভাবিকভাবে। অভিযোগ, একশ্রেণির ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট স্বীয় স্বার্থ উদ্ধারার্থে ব্যাঘাত ঘটায় পণ্যের স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যবস্থায়। যেমন, গতকালেরই এক খবরে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান শেয়ার বিজকে বলেছেন, ‘বাজারে বর্তমান পরিস্থিতি লক্ষ করলেই দেখা যাবে মাংস নিয়ে যাচ্ছেতাই হচ্ছে।’ এখন কথা হলো, মুক্তবাজার অর্থনীতিকে আলিঙ্গন করেছে বাংলাদেশ। আর এ ব্যবস্থায় সরকারের পক্ষ থেকে পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ তুলনামূলক কম। এর দায় মুক্তবাজার অর্থনীতির ওপর চাপানোর কোনো সুযোগ নেই। বরং আমাদের অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে বড় অদৃশ্য আশীর্বাদ হচ্ছে এ অর্থনীতি। এ বাস্তবতাও এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই, একশ্রেণির চক্রের হাতে পড়ে বাড়তি দামে পণ্য কিনে ঠকছেন ক্রেতারা। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় অর্থনীতির জন্য একটি প্রতিযোগিতা আইন দরকার ছিল জরুরি ভিত্তিতে। খেয়াল করার মতো বিষয়, যথেষ্ট দেরিতে হলেও পণ্য ও সেবা বিপণন ব্যবস্থায় সুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরির লক্ষ্যে পাঁচ বছর আগে প্রণীত হয় প্রতিযোগিতা আইন। আইনটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গঠিত প্রতিযোগিতা কমিশনের বয়স চার বছর এখন। দুর্ভাগ্যবশত গতকালের শেয়ার বিজে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের শিরোনাম বলছে, ‘প্রতিযোগিতা কমিশনের সুফল মেলেনি চার বছরেও’। এ অবস্থা কারও কাম্য হতে পারে না।

২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিযোগিতা কমিশনের স্থায়ী অফিস ছিল না; জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর কার্যালয়ে দুটি কক্ষে অস্থায়ীভাবে কার্যক্রম চালিয়েছে কমিশন। আমাদের প্রতিবেদক জানাচ্ছেন, সে সমস্যার সমাধান হয়েছে চলতি মাসে। চলতি বছরে প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রে এ বছরের মাঝামাঝি থেকে কমিশন প্রতিযোগিতা আইন প্রয়োগে কার্যক্রম শুরু করবে বলে প্রত্যাশা। তবে এখানে সন্দেহের কিছু অবকাশ রয়েছে। আইন অনুযায়ী কথা ছিল, প্রতিযোগিতা তহবিল থেকে অর্থ সংগ্রহ করবে কমিশন। কিন্তু এর আর্থিক সংস্থান নাকি সন্তোষজনক নয়। এদিকে এখনও প্রণীত হয়নি প্রতিযোগিতা আইনের বিধিমালা। তদুপরি দেশে প্রতিযোগিতা আইন বাস্তবায়নে অভিজ্ঞতার ঘাটতি তো থাকছেই। ফলে যদিও সংশ্লিষ্টরা ঘোষিত সময়সীমার মধ্যেই প্রতিযোগিতা কমিশনকে সক্রিয় করে তোলার ব্যাপারে আশাবাদী, সেক্ষেত্রে কিছুটা সংশয় থাকছে। তবে কথা থাকবে, এমনিতেই যেহেতু সংস্থাটি গঠনে দেরি হয়ে গেছে, এর সক্রিয়করণে যদি আরেকটু দেরি হয়ও প্রতিযোগিতা কমিশন যেন শক্তিশালীরূপে আবির্ভূত হয় পণ্যবাজারে। আমরা আশা করি, এ প্রত্যাশা অর্জনে সরকারের পক্ষ থেকে আন্তরিকতা ও উদ্যোগের কোনো ঘাটতি থাকবে না। হতে পারে প্রতিযোগিতা আইন আমাদের মতো দেশের জন্য নতুন। বিশ্বের জন্য তো এটা নতুন কিছু নয়। যুক্তরাষ্ট্রে বহু বছর ধরে চালু রয়েছে এ ধরনের আইন। প্রতিবেশী ভারতেও এমন আইন কার্যকর বলে জানা যায়। প্রয়োজনে এসব দেশ থেকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহায়তা চাওয়া যেতে পারে। এখানে আরেকটি বিষয়, ব্যবসায়ীরা যেন প্রতিযোগিতা কমিশনের নামে কোনো ভুল না বুঝে থাকেন, সে ব্যাপারে সজাগ থাকা চাই। তাদের সচেতন করতে হবে। বাজারে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে একশ্রেণির অসাধু ব্যক্তির কবল থেকে ব্যবসায়ীসমাজের ভাবমূর্তি উদ্ধার ও অর্থনীতির অধিকতর বিকাশের স্বার্থেই এমন উদ্যোগ জরুরি। উল্লেখ্য, এক্ষেত্রে ব্যবসায়ীসমাজের সহায়তা না মিললে কঠিন হবে প্রতিযোগিতা আইনের উপযুক্ত বাস্তবায়ন।