সম্পাদকীয়

প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে ব্যবস্থা নিন

অর্থনীতিকে দৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করতে ব্যবসার বিকল্প নেই। অবশ্য ব্যবসার ধরনের ওপর নির্ভর করে সেটি। ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ থাকলেই ব্যবসার ব্যাপ্তি বাড়ে এবং সেই ধরনের ব্যবসাই অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করে। ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতে কোন দেশের কী অবস্থান, তা জানা থাকলেই বিদেশি বিনিয়োগকারীরা কোনো দেশে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেন। কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা বিশ্বব্যাংক ইজ ডুয়িং বিজনেস (সহজে ব্যবসা সূচক) প্রকাশ করে প্রতি বছর। এবার বিশ্বব্যাংকের এ সূচকে সেরা ২০টি দেশের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ। আগামী ২৪ অক্টোবর সেরা ব্যবসাবান্ধব দেশের মূল তালিকা প্রকাশের আগেই এ তালিকায় সবচেয়ে বেশি এগিয়ে যাওয়া ২০টি দেশের নাম প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
আমরা মনে করি, সরকার ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্যই এ স্বীকৃতি মিলেছে। এ অর্জন অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেই প্রত্যাশা। তবে ব্যবসা সূচকে এগিয়ে যাওয়ার সুফল তখনই মিলবে, যখন প্রতিযোগিতা সক্ষমতায় এগিয়ে থাকবে দেশ। ব্যবসা সূচকে এগিয়ে থাকা সত্ত্বেও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতায় পিছিয়ে থাকায় আমাদের রফতানি আয়সহ বৈদেশিক মুদ্রা আয় কমবে এটি কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়। গতকাল শেয়ার বিজের প্রতিবেদন ‘বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতায় দুই ধাপ পেছাল বাংলাদেশ’ নিঃসন্দেহে হতাশাজনক।
খবরে জানা যায়, ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ‘গ্লোবাল কমপিটিটিভনেস রিপোর্ট ২০১৯’-এর তথ্যমতে, এবার ১৪১ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ রয়েছে ১০৫তম অবস্থানে। আগের বছর ১৪০ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১০৩তম। ২০১৭ সালে ১৩৫ দেশের মধ্যে ছিল ১০২তম অবস্থানে। প্রতিযোগিতার সক্ষমতার বৈশ্বিক এ সূচকে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশের অবস্থানের অবনমন ঘটেছে। চলতি বছরের শুরুতে চালানো জরিপের ভিত্তিতে ডব্লিউইএফ বুধবার বিশ্বব্যাপী একযোগে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। বাংলাদেশে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।
কোনো দেশের অবস্থান নিরূপণে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, স্বাস্থ্য, দক্ষতা, পণ্যবাজার, শ্রমবাজারসহ ১২টি মানদণ্ড বিবেচনা করে ডব্লিউইএফ। এসব মানদণ্ডে ১০০ নম্বরের মধ্যে বাংলাদেশের স্কোর ৫২।
সক্ষমতা বাড়াতে আমাদের রফতানি পণ্যের ন্যায্য দাম প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে। আবার প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর তুলনায় যাতে আমাদের পণ্যের দাম বেশি না হয়, সেদিকেও লক্ষ রাখতে হবে। ২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত আমাদের রফতানি পণ্যের দাম প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর তুলনায় বেড়েছে ৩৬ শতাংশ। ক্রেতারা যেখানে তুলনামূলকভাবে কম দাম পাবে, সেখান থেকেই পণ্য কিনবে। প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে থাকায় আমাদের প্রধান রফতানি পণ্য পোশাক খাতে প্রত্যাশিত আয় অর্জিত হচ্ছে না। তাই প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে আশু ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে মনে করি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..