প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

প্রতিশ্রুতিশীল চার লেখক

1New writer- Sadat Hossainসাদাত হোসেন

মানবজনম

কথা হচ্ছিল লেখক সাদাত হোসেনের সঙ্গে। তার সরল স্বীকারোক্তি, ‘আমি যে লেখক, এ বিষয়টিই আমি জানতাম না। ছোটবেলায় আগ্রহ নিয়ে লেখালেখি করতাম। কিন্তু লেখক হওয়ার ভাবনা কখনও মাথায় আসেনি।’ প্রথমে একটি ছবির বই বের করেন তিনি। এরপর লেখেন একটি গল্পের বই। বইগুলো লিখতে গিয়ে তার মনে হয়, পাঠকের চাহিদামতো তিনি লিখছেন। নিজের চিন্তাভাবনা ব্রাত্য থেকে যাচ্ছে। আবার প্রকাশকের চিন্তাও মাথায় ভর করে।

বিষয়গুলো লেখককে খুব ভাবাতো। মনে করতেন, নিজের জন্যই লেখা উচিত। তাই  নিজের অনুভূতি ও ভাবনা থেকে লেখার তাগিদ অনুভব করেন। লেখকের ভাষায়, ‘একদিন মাঝরাতে ঘুম থেকে উঠে আমি লিখতে শুরু করলাম আরশিনগর। লিখছি, লিখছি, লিখছি। আর কাঁদছি। চোখ বেয়ে পানি ঝরছে, আমি লিখছি। লেখা শেষ করে দেখি প্রায় ৩০০ পৃষ্ঠার বই হয়ে গেছে। এখন? এত বড় বই তো আমার প্রকাশক ছাপবেন না।’ দাম হয়ে যাবে ৪০০ টাকার মতো। এত টাকা দিয়ে একজন অজানা অচেনা লেখকের বই কে কিনবে? শেষ অবধি বইটি কয়েক বছর আগে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি বের হয়। কিছু বিক্রিও হয়। তবে বছরজুড়ে বইটি ঘিরে চমকের শেষ ছিল না। গত এক বছর ধরে প্রতি মাসেই উত্তরোত্তর বিক্রি বেড়েছে এ বইয়ের। পাঠকের মুখ থেকে মুখে বইটির নাম ছড়িয়েছে। তিন বছর পরও দেখা গেলো, আরশিনগরের পাঠকচাহিদা কমেনি, বরং বেড়েছে। এটি মূলত একটি স্বপ্নযাত্রার শুরু। আরশিনগরের পর তিনি লিখেছেন ‘অন্দরমহল’। আঠারো শতাব্দীর পটভূমিতে এক জমিদার পরিবারের কল্পিত গল্প নিয়ে লেখা হয়েছে এ উপন্যাস। এ উপন্যাস ঘিরেও পাঠকের আগ্রহ রয়েছে। এবার এসেছে ‘মানবজনম’।

 

2New writer-Reazul Alam Shawonরিয়াজুল আলম শাওন

একজন সাইকো

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেছেন রিয়াজুল আলম শাওন। বিতার্কিক হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছেন তিনি। ২০০২ সাল থেকে নিয়মিত দৈনিক পত্রিকা ও ম্যাগাজিনে লিখছেন। তার লেখা ভৌতিক, রহস্য ও রম্যসাহিত্য পছন্দ করে অনেক পাঠক। তার প্রথম বই ‘কেবিন নাম্বার ৩০৫’ সেবা প্রকাশনী থেকে ২০১৫ সালে প্রকাশ হয়। তিনি আলোচনায় আসেন ‘ক্লোজআপ কাছে আসার সাহসী গল্প’ শীর্ষক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়ে। লেখকের প্রথম নাটক ‘চিনিগুঁড়া প্রেম’। ২০১৬ সালে মাছরাঙা টেলিভিশনে তার নাটক ‘শার্ট’ জনপ্রিয়তা পায়। ওইবার এনটিভির ঈদ আয়োজনে ‘বোকারাই প্রেমে পড়ে’ নাটকটিও দর্শকপ্রিয় হয়। ‘বোকারাই প্রেমে পড়ে’ লেখকের প্রথম প্রেমের রম্য উপন্যাস। এটি গত বছর বইমেলায় প্রকাশ হয়েছিল।

এবার বইমেলায় ‘একজন সাইকো’ নামে তার একটি গল্পগ্রন্থ বেরিয়েছে। এ বইয়ে ছয়টি ভিন্ন স্বাদের রহস্যগল্প রয়েছে। গল্পগুলো হচ্ছে: কুকুরের দৃষ্টি, আলো আঁধারের খেলা, মাওলানা ইসহাক, শ্রাবন্তীর বাবা, ছুটি ও একজন সাইকো। রিয়াজুল আলম শাওনের জন্ম খুলনায়। একজন সাইকো সম্পর্কে লেখক বলেন, ‘সবচেয়ে বেশি রহস্য লুকিয়ে থাকে মানুষের জীবনেই। কিন্তু সে রহস্যের সন্ধান আমরা করতে চাই না। বই নিয়ে পাঠকের উচ্ছ্বাসে আমি আনন্দিত।’ বর্তমানে কর্মসূত্রে আছেন বিজ্ঞাপনী সংস্থা ‘এশিয়াটিক মাইন্ডশেয়ার’-এ। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে শাওন বলেন, ‘পত্রিকায় নিয়মিত লিখে যেতে চাই। অচিরেই ‘বোকারাই প্রেমে পড়ে-২’ লেখা শেষ করবো। এছাড়া ভৌতিক ও জীবনের গল্পও লিখবো সমানগতিতে। নাটকও প্রচারের সম্ভাবনা রয়েছে।’

 

3New writer-Faridul islam nirjonফরিদুল ইসলাম নির্জন

আজো খুঁজি তারে

না পাওয়ার বেদনা থেকেই ফরিদুল ইসলাম নির্জন লিখেছেন ‘আজো খুঁজি তারে’ উপন্যাস। বইটি বের করেছে জাগৃতি প্রকাশনী। প্রচ্ছদ করেছেন আহমেদ ফারুক। লেখক বলেন, ‘প্রিয়জনকে পাওয়ার যেমন আনন্দ আছে, তেমনি আছে না পাওয়ার বেদনা। না পাওয়ার বেদনা থেকেই হয়তো একটা সময় সে কাউকে খুঁজে বেড়ায়। প্রিয়জনের শূন্যতা উপলব্ধি করে। সে উপলব্ধি থেকেই একটি ভিন্নধারার রোমান্টিক উপন্যাস লিখেছি।’

দুই সহপাঠীর মধ্যকার প্রেমকাহিনি নিয়ে উপন্যাসটি রচিত হয়েছে। কেন্দ্রীয় চরিত্রে রয়েছেন ফাহিম ও তমা। উপন্যাসটি কখনও হাসাবে, কখনও চোখে জল আনবে। রোমান্টিকতারও কমতি নেই সেখানে। একজন মানুষের জন্য অপেক্ষা করা যে কত কষ্টের, তা সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বইটিতে। প্রথম ঢাকায় আসার স্মৃতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হল-জীবন, ক্লাস, আড্ডাবাজিসহ গ্রামের পটভূমিও লেখক বর্ণনা করেছেন। ফরিদুল ইসলাম নির্জনের জন্ম ১৯৮৭ সালের ১০ অক্টোবর। বাড়ি সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায়। ছোটবেলা থেকে লেখালেখি আর সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। বাবা মো. আসমত আলী আর মা ফাতেমা বেগম। মা চলে গেছেন না ফেরার দেশে। বাবা ছাড়া আরও দুই ভাই ও এক বোনের ছোট্ট পরিবার। দৈনিক পত্রিকা ছাড়াও লিখছেন সাপ্তাহিক, পাক্ষিক, মাসিক, অনলাইন পোর্টালসহ দেশ-বিদেশের নানা জায়গায়। ফিচার, নিবন্ধ, রম্য কিংবা গল্প-কবিতার মতো সৃজনশীল জগতে রাখছেন স্বকীয়তার ছাপ। স্কুলজীবন থেকে বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত আছেন। ব্যস্ততার মধ্যেও মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার একটা অদ্ভুত প্রবণতা আছে তার মধ্যে। মেধা-মনন-স্বকীয়তা আর সারল্যের পুরোটা দিয়ে নির্জন এগোচ্ছেন।

 

4New writer- abdullah al imranআবদুল্লাহ আল ইমরান

দিবানিশি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইটি সোসাইটির সাবেক প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ আল ইমরানের নতুন বই দিবানিশি এসেছে এবারের বইমেলায়। লেখক বলেন, ‘মারফতি নূরে উদ্ভাসিত অলক্ষে বহমান এক জনপদের কাহিনি এ উপন্যাসে বিবৃত হয়েছে সহজিয়া জীবন-দর্শনে। আছে শেকড়ে ফিরতে চাওয়া ও জলের গর্ভে সব হারানো দুই নারীর অদম্য লড়াই। মনসা দেবীর বরে বংশবাতি নিভতে বসা চমকপ্রদ এক লোকজ মিথেরও উপন্যাস দিবানিশি।’

বইয়ের পেছনের গল্প জানিয়েছেন লেখক। গত বছর ‘ফকিরের মনবিলাস’ নামে একটি পাণ্ডুলিপি থেকে দিবানিশি উপন্যাসের প্লট তৈরি করেছেন। প্রায় দেড়শ বছর আগে মহেরউদ্দিন ফকির নামে এক সাধক এটি রচনা করেছেন। গান, গজল ও ভক্তিমূলক তত্ত্বকথায় নিরাকার নিরঞ্জনের মহত্ত্ব প্রচারই ছিল তার মূল উদ্দেশ্য। রচনাগুলো লেখকের মধ্যে ভীষণ আলোড়ন সৃষ্টি করে। দেশের দক্ষিণাঞ্চলে দেবী মনসার পূজা-অর্চনার ঐতিহ্যবাহী একটি ধারা প্রচলিত। আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে বিষহরির বন্দনায় এখনও রাতভর রয়ানি গীতের আসর বসে হিন্দুবাড়িতে। ওই অঞ্চলে বিজয়গুপ্ত রচিত ‘মনসামঙ্গল’ কাব্যের শক্তিশালী প্রভাবের মধ্যেও ‘ফকিরের মনবিলাস’কে কেন্দ্র করে মারফতি নূরে উদ্ভাসিত ধীমান মানুষেরাও যে ভিন্ন এক জগৎ তৈরি করেছেন, তা আবিষ্কার করে লেখক বিমোহিত হয়েছেন। ইতিহাস ও লোকজ মিথকে আশ্রয় করে কল্পনার পূর্ণ স্বাধীনতা নিয়ে তিনি লিখেছেন ‘দিবানিশি’। আবদুল্লাহ আল ইমরান এর আগে লিখেছেন ‘কালচক্র’ নামে একটি উপন্যাস। লেখক বিশ্বাস করেন, ‘কালচক্রে’র মতো ‘দিবানিশি’ও পাঠকহৃদয়ে নাড়া দেবে।

আহমেদ সাঈফ মুনতাসীর