প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

প্রতি ডলারের মূল্য ৯৩.৪৫ টাকা

নিজস্ব প্রতিবদেক: একদিকে বাড়ছে ডলারের দাম, অন্যদিকে মান কমছে টাকার। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে গতকাল ডলার বিক্রি করেছে ৯৫ টাকা ৪৫ পয়সা দরে। এক দিন আগেও এ দাম ছিল ৯২ টাকা ৯৫ পয়সা। আমদানি বেড়ে যাওয়া ও প্রবাসী আয় কমার কারণে দেশে ডলারের সংকট সৃষ্টি হয়েছে। ফলে দিন দিন ডলারের দাম বাড়ছে বলে মত সংশ্লিষ্টদের।

গতকাল আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলারে কিনতে খরচ করতে হচ্ছে ৯৩ টাকা ৪৫ পয়সা। অর্থাৎ বাংলাদেশ ব্যাংক সরকারি আমদানি বিল মেটাতে এই দরে ব্যাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রি করেছে। নিয়ম অনুযায়ী, এটাই ডলারের আনুষ্ঠানিক দর। এক দিন আগেও এক ডলার বিক্রি করেছে ৯২ টাকা ৯৫ পয়সায়। আর গত মাসের শুরুর দিকে এ দর ছিল ৮৬ টাকা ৪৫ পয়সা। এ হিসাবে এক মাসের ব্যবধানে টাকার মান কমল ৭ টাকা।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, আজকে (গতকাল) প্রতি ডলার ৯৩ টাকা ৪৫ পয়সা দরে ৪২ মিলিয়ন ডলার (৪ কোটি ২০ লাখ) বিভিন্ন ব্যাংকের কাছে বিক্রি করা হয়েছে। দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত বা রিজার্ভ ৪০.৮৭ বিলিয়ন ডলার বা ৪ হাজার ৮৭ কোটি ডলার দাঁড়িয়েছে। 

তবে বিভিন্ন ব্যাংক ও কার্ব মার্কেটে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্যাংকগুলো আমদানি বিলের জন্য নিচ্ছে ৯৫ থেকে ৯৭ টাকা, নগদ ডলার বিক্রি করছে ৯৭ থেকে ৯৮ টাকা আর ব্যাংকের বাহিরে খোলাবাজার বা কার্ব মার্কেটে ডলার বিক্রি হয় ৯৮ থেকে ৯৯ টাকা।

এর আগে দেশে বেশি বেশি রেমিট্যান্স আনতে গত ২ জুন ডলারের দামের সীমা তুলে দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ওইদিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে ব্যাংকগুলোকে জানিয়ে দেয়া হয়, বাজারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ব্যাংকগুলো নিজেরাই ডলারের দাম নির্ধারণ করতে পারবে। ওই সময় আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলার ছিল ৮৯ টাকা। এরপর কয়েক দফায় মার্কিন এ মুদ্রাটির দাম বাড়ল ৪ টাকা ৪৫ পয়সা।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২০ সালের জুলাই থেকে গত বছরের আগস্ট পর্যন্ত আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের দাম ৮৪ টাকা ৮০ পয়সায় স্থিতিশীল ছিল। কিন্তু এরপর থেকে বড় ধরনের আমদানি ব্যয় পরিশোধ করতে গিয়ে ডলার সংকট শুরু হয়; যা এখন পর্যন্ত অব্যাহত আছে।