সম্পাদকীয়

প্রত্যাবাসনে রোহিঙ্গাদের আস্থা ফেরানো হোক

দ্বিতীয়বারের মতো রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগে এখনও কোনো সফলতা আসেনি। কেউই দেশে ফিরতে রাজি হয়নি। এক্ষেত্রে কিছু এনজিও’র ‘ইল মোটিভ’ নিয়ে কাজ করা ও মিয়ানমারের প্রতি রোহিঙ্গাদের ভরসা না পাওয়ার মতো যে দুটো বিষয় উঠে এসেছে, তার উভয়ই এখানে ঘটতে পারে অথবা না। তবে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ভরসা না পাওয়ার বিষয়টিই এখানে অতিমাত্রায় ক্রিয়াশীল। এক্ষেত্রে নিশ্চয় রোহিঙ্গাদের আস্থা ফেরাতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার কোনো বিকল্প থাকে না। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের চেয়ে মিয়ানমার ও ইউএনএইচসিআর’কেই অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। এ ব্যাপারে কারও কোনো ইল মোটিভ থাকলে এবং দেশে ফেরানো পর্যন্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কাজ করবে নিজ দায়িত্বে।
২০১৭ সালের হামলা-পরবর্তী পূর্বপরিকল্পিত ও কাঠামোগত সহিংসতা জোরালো করতে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর পরিচালিত হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন সহিংসতা ও নিপীড়নের কারণে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া সাত লাখ এবং ১৯৮২ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মোট ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রত্যাবসন চুক্তিতে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের ওপর ভরসা করতে পারছে না। গতকাল স্বেচ্ছামূলক, নিরাপদ ও মর্যাদার ভিত্তিতে প্রত্যাবসনের সাক্ষাৎকারে চীন ও মিয়ানমারের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতেও রোহিঙ্গারা সাড়া দেয়নি। সেক্ষেত্রে রোহিঙ্গা স্বীকৃতি, ভিটেমাটি ফিরে পাওয়া, নাগরিক অধিকার লাভ ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চেয়ে মিয়ানমারের প্রতি রোহিঙ্গাদের চারটি দাবি কেন অমীমাংসিত থাকবে, সে প্রশ্ন যথার্থ। এই দাবি মিটমাট করতে ইউএনএইচআর’কে উদ্যোগী হতে দেখা যায়নি বরং মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে, এতটুকু আশ্বাসকেই তারা বড় করে দেখছেন। নিজ দেশের নাগরিক হিসেবে মিয়ানমার যদি রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে চায় এবং ২০১৭ সালের নিপীড়নের কথা স্বীকার করে, তবে কেন ফিরিয়ে নেওয়ার সময় তাদের মৌলিক চারটি অধিকার দিতে মিয়ানমার রাজি হবে না? এই দাবির ওপর জাতিসংঘকে অবশ্যই একটি মধ্যস্থতা করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক মহল মানবিক ও আইনানুগ চাপ প্রয়োগে উদ্যোগী হবে। এদিকে এনজিওদের ‘ইল মোটিভে’র যে অভিযোগ উঠেছে, সেটা যদি এনজিওগুলো রোহিঙ্গাদের অধিকার ঠিকঠাক বুঝে নেওয়ার জন্য চালিয়ে থাকে, তবে তাকে মানবাধিকারের প্রশ্নে সঠিক বলতে হয়। কেননা স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসনের নামে রোহিঙ্গাদের ভয়ার্ত পরিস্থিতিতে ঠেলে দেওয়া যায় না। তবে তারা যদি অন্য কোনো অপব্যাখ্যা রোহিঙ্গাদের সামনে তুলে ধরে, সেটা তদন্তের দাবি রাখে।
আন্তর্জাতিক মহলের উদ্যোগে রোহিঙ্গাদের দাবি মিটমাট করে রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদের মিয়ানমারে পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করানো হবে এবং মিয়ানমারে কার্যরত ইউএনএইচসিআর সেখানে একটি সেইফ জোন নিশ্চিত করবে বলে প্রত্যাশা করি।

সর্বশেষ..