স্পোর্টস

প্রত্যাশার চাপ সামলে এগোতে তৈরি ডমিঙ্গো

ক্রীড়া প্রতিবেদক: বাংলাদেশের মানুষ ক্রিকেটপাগল। স্বাভাবিকভাবে তাই দ্রুত সাফল্য পেতে তারা হয়ে পড়েন আবেগপ্রবণ। যে কারণে টাইগারদের দায়িত্বে থাকা হেড কোচের চাপটাও থাকে বেশি। প্রত্যাশার সঙ্গে একটু নড়চড় হলেই এখানে চেয়ার নিয়ে টান পড়ে। তাই আগের কোচেরা পারেননি চুক্তির মেয়াদ শেষ করতে। এ ব্যাপারগুলো বাংলাদেশে আসার আগেই টের পেয়েছেন রাসেল ডমিঙ্গো। তবে এসব নিয়ে মোটেও চিন্তিত নন সাবেক এ দক্ষিণ আফ্রিকান কোচ। মুশফিকুর রহিম-মাহমুদউল্লাহদের দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই গতকাল জানিয়েছেন, প্রত্যাশার চাপ সামলে এগোতে তৈরি তিনি।
গত পরশু সন্ধ্যায় ডমিঙ্গো পা রাখেন ঢাকায়। বিমানবন্দরেই এ কোচ দেখেছেন গণমাধ্যমের চাপ। টের পেয়েছেন মানুষের প্রত্যাশার চাপও। প্রত্যাশার সঙ্গে একটু নড়চড় হলেই এখানে নিজের চেয়ার ঠিক রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই স্বাভাবিক কারণে এ চাপ অনেকের জন্য উদ্বেগের কারণ। কিন্তু ডমিঙ্গো বলছেন এটা বরং উপভোগ করবেন তিনি, ‘বাংলাদেশের ক্রিকেট সংস্কৃতি সম্পর্কে আমি সম্পূর্ণ জানি না। তবে উপমহাদেশের ক্রিকেট সংস্কৃতি তো প্রায় একই রকম। এরা ক্রিকেটপাগল জাতি। এ ধরনের পরিবেশে কাজ করার আনন্দ আছে। সমর্থকদের চাপের কথা মাথায় রেখেই ভালো করার চ্যালেঞ্জ নিতে হয়। আমি চেষ্টা করব দর্শকদের খুশি করতে।’
যে কোনো কাজেই চাপ থাকে। সেটাকে অবশ্য জয় করেই এগোতে হয়। ব্যাপারটি ডমিঙ্গোর কোচিং ক্যারিয়ারেও এসেছে একাধিকবার। তবে কখনই ঘাবড়ে যাননি তিনি, ‘কোচ হিসেবে চাপকে জয় করেই আমরা এগিয়ে যাই। উপভোগ করি প্রত্যাশার চাপ। আমরা যদি আগেই জেনে যাই যে আমরা সব ম্যাচ জিতবই, তাহলে সেটা হবে দুনিয়ার সবচেয়ে বিরক্তিকর কাজ। চাপ যখন আসবে, চ্যালেঞ্জ আসে তখন। উপভোগের ব্যাপারটাও তখন বেশি।’
টাইগারদের দায়িত্ব নিয়ে ডমিঙ্গোর প্রাথমিক কাজ খেলোয়াড়দের সম্পর্কে ধারণা নেওয়া। আপাতত এ ব্যাপারটিকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি, ‘আমার প্রাথমিক লক্ষ্য খেলোয়াড়দের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করা। খেলোয়াড়দের বোঝা, দুই-এক সপ্তাহের মধ্যে সেটা তৈরি করতে পারব। এটাই ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। তাদের আস্থা অর্জনই মূল বিষয় হবে, দেখি তারা কে কীভাবে কাজ করে। আগামী কয়েকদিন পর্যবেক্ষণ করে শিখতে চাই তাদের কাজের ধরন।’
দক্ষিণ আফ্রিকা বয়সভিত্তিক থেকে শুরু করে জাতীয় দলের প্রধান কোচ ছিলেন ডমিঙ্গো। ফলে চাপ জয় করে সফল হওয়ার মন্ত্র তার ভালোই জানা। বাংলাদেশের কোটি ভক্তের আবেগ, ভালোবাসার বাংলাদেশ ক্রিকেট নিয়েও কাজ করাটা উপভোগ করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি, ‘দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ হিসেবে কাজ করেছি পাঁচ বছর, প্রত্যাশার চাপ সম্পর্কে ভালোই জানি। এখানেও সে রকম কিছুই দেখছি। বিমানবন্দরে নেমেই এত এত ক্যামেরা, আজও শতাধিক সাংবাদিকের উপস্থিতি জানান দেয় ক্রিকেট কতটা জুড়ে আছে এখানে। কোচ হিসেবে চাপ জয় করাই কাজ, উপভোগ করি প্রত্যাশার চাপ। জয় সম্পর্কে আগে থেকে নিশ্চিত হয়ে যাওয়া বেশ বিরক্তির কাজ। চাপ, চ্যালেঞ্জ যেখানে বেশি উপভোগের ব্যাপারটাও সেখানে বেশি।’
বাংলাদেশের দলের হেড কোচের দায়িত্ব ডমিঙ্গোর কাঁধে আপাতত থাকবে ২০২১ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত। এ সময়ে যদি টাইগারদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেন তিনি, তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ আরও দীর্ঘ হতেও পারে।

সর্বশেষ..