প্রচ্ছদ শেষ পাতা

প্রথমবারের মতো দক্ষিণ কোরিয়ায় আমদানি পণ্যমেলায় বাংলাদেশ

মাসুম বিল্লাহ: দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে আগামীকাল বৃহস্পতিবার শুরু হচ্ছে দেশটির সর্ববৃহৎ আমদানি পণ্যমেলা বা ‘ইমপোর্ট গুডস ফেয়ার (আইজিএফ) ২০১৯’। প্রথমবারের মতো এ মেলায় অংশ নিচ্ছেন বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা। এতে অংশ নিতে এরই মধ্যে কোরিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (কেবিসিসিআই) একটি প্রতিনিধিদল কোরিয়ায় পৌঁছেছে।
বর্তমান বিশ্বের ১২তম ও এশিয়ার চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ কোরিয়া। দেশটি রফতানি ক্ষেত্রে বিশ্বে পঞ্চম এবং আমদানিতে অষ্টম। ২০১৮ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার মোট রফতানির পরিমাণ ছিল ৬০৫ দশমিক দুই বিলিয়ন ডলার। আর আমদানি ছিল ৫৩৫ দশমিক দুই বিলিয়ন ডলার। কিন্তু বাংলাদেশের সঙ্গে দেশটির সার্বিক বাণিজ্য এক বিলিয়ন ডলারেরও কম। এ মেলাকে দেশটিতে বাংলাদেশের পণ্য রফতানি বৃদ্ধির একটি সুযোগ হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা।
জানা যায়, বাংলাদেশ থেকে মেলায় অংশ নিচ্ছে ৯টি প্রতিষ্ঠান। এগুলো হলোÑমেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ, জিশান ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সিজ, মুনসি এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড, ইনডেক্স অ্যাক্সেসরিজ লিমিটেড, নভো কার্গো সার্ভিস, এ অ্যান্ড আই লিমিটেড, এশিয়ান ক্রু অ্যান্ড শিপিং সার্ভিস, সুমাইয়া টেক ও ন্যাশনাল পলিমার ইন্ডাস্ট্রিজ।
মেলায় অংশ নিতে কোরিয়ার পৌঁছেছেন কেবিসিসিআই’র সভাপতি মোস্তফা কামাল, উপদেষ্টা ও মেলাবিষয়ক কমিটির সভাপতি শাহাবুদ্দিন খান এবং মহাসচিব রাকিব ফখরুল। এছাড়া অংশ নেবেন সংগঠনটির সিইও ডু-কি পার্ক হেনরি।
সিউলে বাংলাদেশ দূতাবাস বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের এ বিষয়ে সার্বিক সহায়তা দিচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আবদা ইসলাম ও কমার্শিয়াল কাউন্সেলর মোহাম্মদ মাসুদ রানা চৌধুরীর উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কেবিসিসিআই’র সচিব রুকনুদ্দিন আহমেদ শেয়ার বিজকে জানান, কোরিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ানোর বেশ সুযোগ রয়েছে। এ মেলায় অংশগ্রহণ সে সুযোগ কাজে লাগানোর একটি উপলক্ষ হিসেবে কাজ করতে পারে।
জানা যায়, স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে দক্ষিণ কোরিয়া সহযোগিতা করে আসছে। এ দু’দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রগুলো হচ্ছে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতা। দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্কের তুলনায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর (ভারত বাদে) বাণিজ্য সম্পর্ক এতটা জোরালো নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক বাড়ছে। বর্তমানে বাংলাদেশে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দক্ষিণ কোরিয়া পঞ্চম। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে কোরিয়ায় রফতানি ছিল ২২ দশমিক ৬৫ মিলিয়ন ডলার। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে তা ২৫৪ দশমিক ৮৪ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়। ২০১৮ সালে জানুয়ারিতে বাংলাদেশ দূতাবাসে বাণিজ্যিক উইং স্থাপনের পর থেকে দক্ষিণ কোরিয়ায় বিভিন্ন ব্যবসা ও বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যবসায়িক সংগঠনের যোগাযোগ বাড়ছে। চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এপ্রিল পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশের রফতানি দাঁড়িয়েছে ৩১৭ দশমিক ৭২ মিলিয়ন ডলার। আশা করা যায়, এ অর্থবছর শেষে রফতানি ৩৫০ মিলিয়ন ডলার ছাড়াবে।
এ বিষয়ে জানতে কমার্শিয়াল কাউন্সেলর মোহাম্মদ মাসুদ রানা চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অর্জিত সক্ষমতা কোরীয় ব্যবসায়ীদের কাছে তুলে ধরার লক্ষ্যে বাংলাদেশ দূতাবাস সার্বক্ষণিকভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এ ধরনের মেলায় অংশগ্রহণ বাংলাদেশের বাণিজ্য ও পণ্য বহুমুখীকরণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
জানা যায়, কোরিয়া ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (কোইমা) এ মেলার আয়োজন করছে। মেলায় বিভিন্ন দেশের মোট ২০০টি বুথ থাকবে। মেলার স্পন্সর হিসেবে রয়েছে কোরিয়ার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, কোরিয়া ট্রেড ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন এজেন্সি (কোটরা), কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন (কিটা) ও বিভিন্ন বিদেশি কূটনৈতিক মিশন।
জানা যায়, বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতায় গত মে মাসে সিউলে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ বিনিয়োগ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয় এবং গত মার্চে প্রথমবারের মতো রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো সিউল ইন্টারন্যাশনাল সোর্সিং মেলায় অংশ নেয়। এ ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতায় আগামী ২৭ থেকে ২৯ জুন সিউলে অনুষ্ঠিতব্য আইজিএফে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ থেকে কেবিসিসিআই অংশ নিতে যাচ্ছে।

 

সর্বশেষ..