বিশ্ব বাণিজ্য

প্রথমবার ২৮ হাজার পয়েন্ট ছাড়াল মার্কিন পুঁজিবাজার সূচক

যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্যচুক্তির সম্ভাবনা

শেয়ার বিজ ডেস্ক: প্রথমবারের মতো গত শুক্রবার অন্যতম প্রধান মার্কিন পুঁজিবাজার সূচক ডাও জোন্স ২৮ হাজার পয়েন্ট ছাড়িয়েছে। সূচকটির এ রেকর্ডকে বাজারবিশ্লেষকরা নতুন মাইলফলক হিসেবে দেখছেন। খুব শিগগিরই চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্যিক টানাপড়েনের অবসান হতে যাচ্ছে এবং দুটি দেশের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তিও হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর প্রভাবে এদিন যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজারের তিনটি প্রধান সূচকই বৃদ্ধি দিয়ে লেনদেন শেষ করে। খবর: মার্কেটওয়াচ।

শুক্রবার ডাও জোন্স সূচক দশমিক আট শতাংশ বেড়ে ২৮ হাজার পাঁচ পয়েন্টে পৌঁছায়। টানা চার সপ্তাহ ধরে সূচক বৃদ্ধির ফলে এ রেকর্ড বৃদ্ধি ঘটে। একই সঙ্গে এসঅ্যান্ডপি সূচক দশমিক ৭৭ শতাংশ বেড়ে তিন হাজার ১২০ পয়েন্টে দাঁড়ায়। এ সূচকও টানা ছয় সপ্তাহ ধরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। অন্যদিকে নাসডাক সূচক দশমিক সাত শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে আট হাজার ৫৪০ দশমিক ৮২ পয়েন্টে ওঠে। এ সূচকও সাত সপ্তাহ ধরে ঊর্ধ্বমুখী ধারায় রয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউজের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ল্যারি কাডলো জানান, চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভেদ নিয়ে আলোচনা এগিয়ে যাচ্ছে এবং তা চুক্তিতে রূপ নিতে পারে। এর পরই এটির ইতিবাচক প্রভাব পড়ে মার্কিন পুঁজিবাজারে এবং বিনিয়োগকারীরা মানসিকভাবেও চাঙা হয়ে ওঠেন। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে কর্মসংস্থান চাঙা হওয়া ছাড়াও তৃতীয় প্রান্তিকে জিডিপি’র হার বৃদ্ধির সম্ভাবনায় এ মাসের শুরুতেই ডাও জোন্স শিল্প সূচক ২৭ হাজার ৫০০ পয়েন্টে উঠেছিল। বিশ্লেষকরা বলছেন, এখন ডাও জোন্স সূচক ২৮ হাজার পয়েন্ট ছাড়িয়ে যাওয়ায় এর ইতিবাচক প্রভাব সার্বিক মার্কিন অর্থনীতিতে সুবাতাস বয়ে আনবে। কমনওয়েলথ ফিন্যান্সিয়াল নেটওয়ার্কের প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা ব্রাড ম্যাকমিলান বলেন, এ ধরনের সূচক বৃদ্ধি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি সত্ত্বেও বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করে তুলবে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তাদের ব্যয় বৃদ্ধির হারও বেশ চাঙা রয়েছে, যা মার্কিন অর্থনীতির জন্যে সুসংবাদ বয়ে এনেছে। গত অক্টোবর মাসে খুচরা বিক্রির হার দেখে এমইউএফজি’র অর্থনীতিবিদ ক্রিস রুপকি বলেন, মার্কিন ক্রেতারা ফের শপিং মলে ফিরতে শুরু করেছেন, যদিও চতুর্থ প্রান্তিকে তাদের কেনাকাটার হার কেমন দাঁড়ায় তা এখনও বোঝা যাচ্ছে না।

দীর্ঘ প্রায় ১৬ মাস ধরে চলা বাণিজ্যযুদ্ধের মধ্যে চীনের হাজার হাজার কোটি ডলারের রফতানি পণ্যে শুল্কারোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। চীনের বাণিজ্য ও শিল্পনীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে চাপ প্রয়োগের লক্ষ্যে এ পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। যদিও চীন সে পথে না হেঁটে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। তারাও হাজার হাজার কোটি ডলারের যুক্তরাষ্ট্রের রফতানি পণ্যে পাল্টা শুল্কারোপ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের দাবি, তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ চুরি এবং তা স্থানান্তর বন্ধ করতে হবে চীনকে। এছাড়া চীনের স্থানীয় কোম্পানিগুলোকে যে ধরনের প্রতিবন্ধক ভর্তুকি দেওয়া হয়, সেগুলো প্রত্যাহার করতে হবে। পাশাপাশি চীনের বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর আরও বেশি প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে পণ্য ক্রয় বাড়াতে হবে চীনকে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..