দিনের খবর

প্রথম আলো সম্পাদকের বিরুদ্ধে মামলা

আবরার রাহাতের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক

তিন দিনের ব্যবধানে মামলা ও তদন্তের মুখে দেশের তিনটি গণমাধ্যমের সম্পাদক। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী আবরার রাহাতের মৃত্যুর ঘটনায় প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়েছে। অন্যদিকে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়-বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ এনে তাকে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) তলব করা হয়েছে। এর আগে সম্পদের তথ্য গোপন করার অভিযোগে গত সোমবার দৈনিক ইনকিলাবের সম্পাদক এএমএম বাহাউদ্দীনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।

ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ ক্যাম্পাসে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নাইমুল আবরার রাহাতের মৃত্যুর ঘটনায় প্রথম আলো সম্পাদকের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন নিহত স্কুলশিক্ষার্থীর বাবা মো. মুজিবুর রহমান। গত শুক্রবার রাহাতের মৃত্যুর পর থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছিলেন মুজিবুর। এর চার দিন পর গতকাল বুধবার ঢাকায় আদালতে গিয়ে অবহেলায় মৃত্যুর অভিযোগ এনে পৃথক মামলা করলেন তিনি। মামলায় প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমানসহ কিশোর আলোর ওই অনুষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।

ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর হাকিম মো. আমিনুল হক বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে রাহাতের লাশ কবর থেকে তুলে ময়নাতদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। সেইসঙ্গে রাহাতের মৃত্যুর পর যে অপমৃত্যু মামলাটি হয়েছে, তার সঙ্গে নতুন নালিশি মামলাটি একসঙ্গে তদন্ত করে আগামী ১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে মোহাম্মদপুর থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, সঠিকভাবে বিদ্যুতের ব্যবস্থাপনা না করে এ রকম অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে এবং এতে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা করা হয়নি। ঘটনা ঘটার পর রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ ক্যাম্পাসের উল্টো পাশের সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে রাহাতকে না নিয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

মামলার বাদী মো. মুজিবুর রহমান বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ আমাকে কিছু জানায়নি। তার বন্ধু ও সহপাঠীর মাধ্যমে ছেলের মৃত্যুর সংবাদ জেনেছি। অথচ আনুমানিক ৩টার সময় সে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। আবরারকে বিকাল ৪টা ১৫ মিনিটে ইউনিভার্সেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, আর ৪টা ৫১ মিনিটে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ মৃত্যু শুধু একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা হিসেবে মেনে নেওয়ার জন্য আমাকে চাপ দেওয়া হয়। লাশের পোস্টমর্টেম ছাড়া মোহাম্মদপুর থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।’ এ সময় ‘ভুল বুঝিয়ে’ ময়নাতদন্ত ছাড়া লাশ গ্রহণের জন্য মুচলেকা নেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

বাদীর আইনজীবী মোহাম্মদ ওমর ফারুক আসিফ বলেন, ‘১ নভেম্বরের ওই মৃত্যু কোনো মর্মান্তিক দুর্ঘটনা বা অপমৃত্যু নয়, বরং আসামিদের চরম অবহেলা, অযত্ন, গাফিলাতি, অব্যবস্থাপনা, চিকিৎসার অবহেলা ও অসাবধানতার কারণে নাইমুল আবরার রাহাতের মৃত্যু হয়।’

উল্লেখ্য, রাজধানীর রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজে গত শুক্রবার কিশোর আলোর এক অনুষ্ঠান চলাকালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয় নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আবরার রাহাত। সেখান থেকে তাকে মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান ‘কিশোর আলোর’ও প্রকাশক, আর কিশোর আলোর সম্পাদক আনিসুল হক। এদিকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার জন্য কিশোর আলো কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করার পাশাপাশি কাছে এত হাসপাতাল থাকতে দূরের হাসপাতালে রাহাতকে নেওয়া ও মৃত্যুর পরও অনুষ্ঠান চালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা ওঠে। সমালোচনার পাশাপাশি ক্ষোভ-বিক্ষোভ চলতে থাকে, প্রথম আলো কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধনও হয়। বিষয়টি আলোচনায় ওঠে মন্ত্রিসভার বৈঠকেও। রেসিডেনসিয়াল কলেজ কর্তৃপক্ষ ওই ঘটনার তদন্তে একটি কমিটি করেছে। পুলিশও এরই মধ্যে কিশোর আলো সম্পাদক আনিসুল হকসহ বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। আবরারের মৃত্যু নিয়ে বিতর্ক-সমালোচনার মধ্যেই দণ্ডবিধি আইনে অবহেলার কারণে মৃত্যু সংঘটনের অভিযোগ এনে মামলা করলেন রাহাতের বাবা।

সর্বশেষ..