দিনের খবর শেষ পাতা

প্রথম দিনের অর্ধেক ফ্লাইট বাতিল

ভোগান্তিতে প্রবাসী কর্মীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রথম দিনেই ধাক্কা খেল প্রবাসী কর্মীদের কর্মস্থলে ফেরানোর উদ্যোগ। ১২টি এয়ারলাইনসের ১৪টি ফ্লাইটের মধ্যে কমপক্ষে সাতটি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। সৌদি আরবের অনুমতি না পাওয়া ও যাত্রী না পাওয়ায় এসব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এয়ারলাইনসগুলো। এদিকে লকডাউনের মধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিমানবন্দরে এসে অনেকে শুনছেন ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে যাদের ভিসার মেয়াদ শেষের দিকে, তারা আছেন বেকার হওয়ার ঝুঁকিতে।

গতকাল শনিবার বিমান বাংলাদেশে এয়ারলাইনসের রিয়াদগামী ফ্লাইট (বিজি-৫০৩৯) সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। এ কারণে এয়ারলাইনসের নির্দেশনা অনুসারে ছয় ঘণ্টা আগে রাত ১টার মধ্যেই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসেছিলেন যাত্রীরাও। কিন্তু ফ্লাইটটি বাতিল হয়েছে। এ কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে রাতে প্রবাসীকর্মীরা বিক্ষোভ করেন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। পরে এসব যাত্রীকে হোটেলে রাখার ব্যবস্থা করে বিমান।

শনিবার বিমানের পাঁচটি ফ্লাইট ছিল। এর মধ্যে চারটি বাতিল হয়েছে। বাতিল হওয়া ফ্লাইটের মধ্যে রয়েছেÑসৌদি আরবের দাম্মামগামী একটি, রিয়াদের একটি ও দুবাইয়ে দুটি ফ্লাইট। তবে রাতে সৌদি আরবের জেদ্দাগামী ফ্লাইট বাতিল করেনি বিমান। তারা সৌদি আরবের অনুমতির আশায় রয়েছে।

প্রবাসী কর্মীরা বলছেন, লকডাউনে যান চলাচল বন্ধ। গাড়ি ভাড়া করে ঢাকায়  আসার পর জানা যাচ্ছে ফ্লাইট বাতিল। এখন আমরা কোথায় যাব। আবার গাড়ি ভাড়া কে দেবে। আর যাদের ভিসার মেয়াদ বেশি দিন নেই, তাদের কপাল পুড়বে সময়মতো যেতে না পারলে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের উপমহাব্যবস্থাপক তাহেরা খন্দকার বলেন, সৌদি আরবে ল্যান্ডিং পারমিশন না পাওয়ায় ফ্লাইটটি বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া যাত্রী সংকটের কারণে দুবাইয়ের দুটি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া ফ্লাই দুবাইয়ের দুটি ফ্লাইটও বাতিল হয়েছে। ইউএস বাংলা দুবাইগামী একটি ফ্লাইট বাতিল করেছে। তবে সালাম এয়ার ঢাকায় এসে যাত্রী নিয়ে গেছে।

ইউএস বাংলার মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) মো. কামরুল ইসলাম বলেন, সপ্তাহে ৯টি ফ্লাইট ঢাকা থেকে দুবাই, সাতটি ফ্লাইট ঢাকা থেকে মাসকাট, চারটি ফ্লাইট ঢাকা থেকে দোহা ও একটি ফ্লাইট ঢাকা থেকে সিঙ্গাপুরে পরিচালনা করা হবে। তবে প্রথম দিনে দুবাইয়ের একটি ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে। মাত্র ২০ জনের মতো যাত্রী পাওয়া গেছে। এখানে শুধু যাত্রী থাকলেই হচ্ছে না, করোনা টেস্টের রিপোর্টও লাগবে। লকডাউনে অনেকে আসতেও পারছেন না। সব মিলিয়ে যাত্রী সংকট আছে।

গতকাল বিকালে সৌদি এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট ছিল। কিন্তু ফ্লাইটটি আদৌ যাবে কি না কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেনি। ফলে ভোর থেকেই রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকায় সোনারগাঁও হোটেলে সৌদি এয়ারলাইনসের অফিসের সামনে অপেক্ষা করতে থাকেন প্রবাসীরা। অপেক্ষারত সৌদিগামী যাত্রীরা বলেন, আজ (গতকাল) সৌদি এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট ছিল; সেটি ছাড়বে কি না, তারা যেতে পারবেন কি নাÑএ বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য এখানে অপেক্ষা করছেন। এখন পর্যন্ত সৌদি এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষের কেউ তাদের বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত করেনি। তারা অপেক্ষায় আছেন।

এ বিষয়ে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার আল ফারুক বলেন, ‘সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কয়েকটি বিশেষ ফ্লাইট সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা হবে। কিন্তু কখন ফ্লাইট চালু হবে কিংবা ছেড়ে যাবে কি নাÑএ বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য ভোর থেকে অনেকে সৌদি এয়ারলাইনস অফিসের সামনে অপেক্ষা করছেন। আমরা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলছি এবং অপেক্ষারত জনসাধারণের সঙ্গেও কথা বলছি। কর্তৃপক্ষ এখনও কিছু জানায়নি। ফ্লাইটের ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে।’

প্রবাসী কর্মীদের কর্মস্থলে ফেরা নিশ্চিত করতে গতকাল সকাল ৬টা থেকে পাঁচটি  দেশে ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দেয় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। এই পাঁচটি দেশ হচ্ছে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, কাতার ও সিঙ্গাপুর। শুধু প্রবাসীকর্মীরা এসব ফ্লাইটে যেতে পারবেন। আর দেশে এলে ১৪ দিনের বাধ্যতামূলক প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে প্রবাসী কর্মীদের।

এ পাঁচ দেশে ফ্লাইট পরিচালনার জন্য ১২টি এয়ারলাইনসকে অনুমতি দিয়েছে বেবিচক। এ ১২টি এয়ারলাইনস হচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, ইউএস বাংলা এয়ারলাইনস, সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইনস, ওমান এয়ার, সালাম এয়ার, কাতার এয়ারওয়েজ, এমিরেটস, ইতিহাদ, এয়ার অ্যারাবিয়া, এয়ার অ্যারাবিয়া আবুধাবি, ফ্লাই দুবাই এবং সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..