প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

প্রথম বাজেট অনুমোদন দিল আফগানিস্তানের নতুন সরকার

শেয়ার বিজ ডেস্ক: ২০২১ সালের ১৫ আগস্ট আফগানিস্তানের ক্ষমতায় আসে তালেবান। সেপ্টেম্বরে অন্তর্র্বর্তী সরকার গঠনের ঘোষণা দেয় তালেবান। আর গত বাজেট অনুমোদন দিল এ অন্তর্বর্তী সরকার। তবে তারা যে বাজেটের অনুমোদন দিয়েছে, তাতে বিদেশি সাহায্যের কোনো উল্লেখ নেই। খবর: সিএনএন।

আগামী মার্চে দেশটির সরকার তাদের প্রথম বার্ষিক বাজেট ঘোষণা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

আফগানিস্তানের অর্থ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আহমদ ওয়ালি হকমল বলেন, গত দুই দশকে প্রথমবারের মতো আমরা এমন একটি বাজেট তৈরি করেছি, যা বিদেশি সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল নয়। এটি আমাদের জন্য খুব বড় অর্জন। তালেবান কোষাগারের অর্থায়ন আমাদের নিজস্ব সম্পদ দিয়েই করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে কর, বাণিজ্য ও খনি রাজস্ব।

৫৩ দশমিক ৯ বিলিয়ন আফগান মুদ্রার এ বাজেট গত বুধবার অনুমোদন দেয়া হয়। বাজেটের আওতাকাল ২০২২ সালের প্রথম ত্রৈমাসিক। অনুমোদন দেয়া বাজেটটি প্রায় সম্পূর্ণরূপে সরকারি প্রতিষ্ঠানে অর্থায়নের জন্য তৈরি করা হয়েছে।

বাজেটের প্রায় চার দশমিক সাত বিলিয়ন আফগানি ব্যয় করা হবে পরিবহন অবকাঠামোসহ উন্নয়ন প্রকল্পে। হকমল বলেন, এ অর্থের পরিমাণ সামান্য। কিন্তু আপাতত তারা এ অর্থই বরাদ্দ করতে পারছেন।

এর আগে দুই দশকে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত সাবেক আফগান সরকারের আমলে দেশটির অর্থনীতি ব্যাপকভাবে বিদেশি সাহায্যনির্ভর ছিল।

মুখপাত্র বলেন, সরকারি কর্মচারীরা, যাদের অনেকে কয়েক মাস ধরে বেতন পাননি, তারা জানুয়ারির শেষে বেতন পেতে শুরু করবেন। দেশটির সরকারি নারী কর্মীরা, যাদের বেশিরভাগকে চাকরিতে ফিরে আসতে বাধা দেয়া হয়েছে, তাদেরও বেতন দেয়া হবে বলে জানান হকমল। তারা (নারী কর্মী) কাজে ফিরে এসেছেন বলে আমরা গণ্য করি। আমরা তাদের বরখাস্ত করিনি।

জাতিসংঘ জানায়, ২০২২ সালে আফগানিস্তানে মানবিক বিপর্যয় ঠেকানোর পাশাপাশি বিধ্বস্ত দেশটি পুনর্র্নির্মাণে তাদের ৫০০ কোটি মার্কিন ডলারের তহবিল দরকার।

আফগানিস্তানে প্রায় দুই দশক ধরে চলা যুদ্ধের অবসান হয়েছে সম্প্রতি। তবে এ যুদ্ধের জেরে বিধ্বস্ত দেশটির অর্থনীতি। পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো। বিশেষ করে আর্থিক সাহায্য বন্ধ করে দিয়েছে দাতা সংস্থাগুলো। তার ওপর আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সম্পদ গচ্ছিত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কোষাগারে। সব মিলিয়ে দেশ চালাতে গিয়ে হিমশিম পোহাচ্ছে তালেবান সরকার। এমন পরিস্থিতিতে দুই দশকের মধ্যে এবারই প্রথম কোনো বিদেশি অর্থ সাহায্য ছাড়া বাজেট তৈরি করতে চলেছে আফগানিস্তান। তবে বিদেশি সাহায্য ছায়া তাদের পক্ষে বাজেট তৈরি সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। সেই শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে বাজেট অনুমোদন করা হলো।

গত বছর হকমল জানিয়েছিলেন, আমরা দেশীয় আয় থেকেই বাজেট তৈরি করেছি। আমরা বিশ্বাস করি, বিদেশি আর্থিক সাহায্য ছাড়াই বাজের পেশ করতে পারব।

তালেবান মসনদে বসার পর যুক্তরাষ্ট্রে রাখা আফগানিস্তানের সব অর্থ ‘ফ্রিজ’ করা হয়েছে। তাদের পাশাপাশি তালেবান সরকারকে আর্থিক সাহায্য দিতে নারাজ বিশ্বব্যাংক থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সন্ত্রাসে মদত দেয়ার অভিযোগে তালেবান সরকারের হাতে ত্রাণের টাকা তুলে দিতে রাজি নয় ইউরোপের দেশগুলোও। তালেবানকে আর্থিক সাহায্য করার আগ্রহ দেখাচ্ছে না চীন ও রাশিয়া।

জব্দ করা তহবিল থেকে জাতিসংঘের দুটি সংস্থার জন্য ২৮ কোটি মার্কিন ডলার স্থানান্তরে সম্মত হয়েছে। এ অর্থ দেশটিতে জাতিসংঘের খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচিতে স্থানান্তরে দাতারা সম্মত হয়েছেন।

নিজস্ব বাজেট তৈরিতে এ অর্থছাড়ের বিষয়টিও ভূমিকা রেখেছে বলে জানিয়েছে আফগানিস্তানের অর্থ মন্ত্রণালয়। তারা আশাবাদী শিগগির আরও অর্থছাড়ের খবর দেবে দাতা সংস্থাগুলো। কেননা দীর্ঘদিন ধরে তীব্র মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকট উত্তরণে সংস্থাগুলো তালেবানকে সাহায্য করার ব্যাপারে একমত হচ্ছে বলে ধারণা তাদের।