দিনের খবর প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান পিপলসের আমানতকারীরা

টাকা ফেরত পেতে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক: জমা টাকা দ্রুত ফেরত পেতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ ও সহযোগিতা কামনা করেছেন অবসায়নের প্রক্রিয়াধীন পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের ছয় হাজার ব্যক্তি আমানতকারী। পাশাপাশি তিন দফা দাবি নিয়ে গতকাল মতিঝিল সিটি সেন্টারের সামনে এক মানববন্ধন করেন তারা।

ব্যক্তি ও ক্ষুদ্র আমানতকারীদের কাউন্সিলের উদ্যোগে আয়োজিত এ মানববন্ধনে কয়েক হাজার ব্যক্তি আমানতকারী অংশ নেন। বক্তব্য দেন কাউন্সিলের কনভেনর ও প্রধান সমন্বয়কারী মোহাম্মদ আতিকুর রহমান আতিক ও সেক্রেটারি জেনারেল রানা ঘোষ।

মানববন্ধনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়: ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের আকুল আবেদনÑআমরা বাঁচতে চাই। আমাদের বাঁচানোর পথ সুগম করার জন্য প্রধানমন্ত্রী, আপনার একান্ত সাহায্য আমরা কামনা করছি। আমরা আশাবাদী, প্রধানমন্ত্রীর নেওয়া যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত, যা আমাদের মতো অসহায় অমানতকারীদের জীবন বাঁচাবে। দেশের ব্যাংকিং ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ে উঠবে।’

অন্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছেÑএখনই পিপলস লিজিংকে অবসায়ন না করে ব্যক্তি ও ক্ষুদ্র আমানতকারীদের আমানত দ্রুত ফিরিয়ে দিয়ে সরকার যেভাবে ফারমার্স ব্যাংককে অবসায়ন না করে পদ্মা ব্যাংক নামে পুনর্গঠন করেছে এবং বিসিআই ব্যাংককে অবসায়ন না করে ইস্টার্ন ব্যাংক নামে পুনর্গঠন করে গ্রাহকদের আমানত ফিরিয়ে দিয়েছে, ঠিক তেমনি পিপলস লিজিংকে এখন অবসায়ন না করে পুনর্গঠনের মাধ্যমে চালু করে দ্রুত গ্রাহকদের আমানত ফেরত প্রদান করে সরকার তার নিজের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে। ফলে নিরীহ আমানতকারীরাও তাদের আমানত ফেরত পাবেন।

এ ছাড়া অবিলম্বে পিপলস লিজিংয়ের সঙ্গে জড়িত দোষী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি প্রদান করতে হবে। বিশেষ করে দোষী ব্যক্তিরা যাতে বিদেশে পালিয়ে যেতে না পারে, সেজন্য তাদের বিদেশে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা, তাদের সম্পত্তি ও ব্যাংক হিসাব জব্দ করা একান্ত প্রয়োজন।

মানববন্ধনে আমানতকারীদের প্রধান সমন্বয়কারী মোহাম্মদ আতিকুর রহমান আতিক বলেন, এই প্রতিষ্ঠানে টাকা রেখে সাধারণ জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে আমানতকারীদের। যারা পেনশনের টাকার মুনাফা দিয়ে সংসার চালাতেন, তারা এখন অসহায়। চিকিৎসার অভাবে ধুঁকে ধুঁকে মরছে অনেকে। এই অবস্থায় আমরা যে কোনো মূল্যে টাকা ফেরত চাই। আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সব রকম নিয়ম মেনেই আমরা টাকা রেখেছিলাম। কিন্তু আমাদের ঠকিয়ে নিয়মের অবমাননা করা হয়েছে।

অপর আমানতকারী সামিয়া বিনতে মাহবুব বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানে টাকা রাখা কি আমাদের অপরাধ? কয়েকজন মিলে সব টাকা নিয়ে বিদেশে পালিয়ে গেল। তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক কোথায় ছিল? সব টাকা হারিয়ে যাওয়ার পর বন্ধ ঘোষণা করা হলো প্রতিষ্ঠানটি। আমরা এই প্রতিষ্ঠানের অবসায়ন নয় পুনর্গঠন চাই। কারণ অবসায়ন হলে টাকা ফেরত পাবেন না সাধারণ আমানতকারীরা। স্বাভাবিক জীবনযাপনে ফিরতে দ্রুত আমাদের টাকা ফেরত দেওয়া হোক।

মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক এক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, আমার মৃত্যুর পর সরকারের কাছে মরণোত্তর গার্ড অব অনার চাই না, আমার টাকা ফেরত চাই। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার একটাই আবেদনÑআমাদের সঞ্চিত টাকা দ্রুত ফেরত দেওয়া হোক।

সিটি সেন্টার থেকে মানববন্ধনটি বাংলাদেশ ব্যাংকের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। শেষ করার আগে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল গভর্নর ফজলে কবিরের সঙ্গে দেখা করেন। সংক্ষিপ্ত বৈঠকে আমানতকারীদের টাকা দ্রুত ফেরতের উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, পিপলস লিজিংয়ে আমানতকারীদের জমা আছে দুই হাজার ৩৬ কোটি ২২ লাখ টাকা। এর মধ্যে ব্যক্তিপর্যায়ের আমানত রয়েছে সাড়ে ৭০০ কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠানটির বিতরণ করা ঋণের বড় অংশই নানা অনিয়মের মাধ্যমে বের হয়ে যাওয়া। এসব অর্থ ফেরত আসার তেমন কোনো সম্ভাবনা দেখছে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নানাভাবে যারা এখান থেকে অর্থ নিয়েছেন, তাদের অনেকেই এখন পলাতক। ফলে প্রতিষ্ঠানটির সম্পদ বিক্রির মাধ্যমে অর্থ ফেরত পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। যে কারণে এখন প্রতিষ্ঠানটি চালু করার মাধ্যমে অর্থ ফেরত দেওয়ার বিকল্প ভাবা হচ্ছে। তবে কী উপায়ে কতদিনের মধ্যে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে এবং বাদপড়া কর্মীদের কী হবে, আলোচনার ভিত্তিতে তা ঠিক করা হবে।

আদালতের নির্দেশনার আলোকে বর্তমানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডিজিএম আসাদুজ্জামান খান পিপলস লিজিংয়ের প্রতিষ্ঠানের সাময়িক অবসায়ক হিসেবে কাজ করছেন। প্রতিষ্ঠানটির ব্যাংক হিসাবে মাত্র ১৬ কোটি টাকার মতো জমা আছে।

 ১৯৯৭ সালের ২৪ নভেম্বর পিপলস লিজিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন পায়। পরে ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। ধারাবাহিকভাবে লোকসানে থাকা পিপলস লিজিং ২০১৪ সাল থেকে কোনো লভ্যাংশ দিতে পারছে না বিনেয়াগকারীদের। বর্তমানে শেয়ারবাজারে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার লেনদেন বন্ধ রয়েছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ ➧

সর্বশেষ..