সম্পাদকীয়

প্রবাসীদের নিরাপদ কর্ম নিশ্চিতে পদক্ষেপ নিন

দেশে কর্মসংস্থান সমস্যা প্রকট। এমন পরিস্থিতিতে জনশক্তি রফতানির মাধ্যমে দেশ বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে। কিন্তু বৈদেশিক শ্রমবাজারের আকাশে কালো মেঘ ভর করেছে। ২০১৮ সালে বাংলাদেশের কর্মীদের দ্বিতীয় প্রধান গন্তব্য ছিল মালয়েশিয়া। ওই বছর এক লাখ ৭৫ হাজার ৯২৭ কর্মী দেশটিতে যায়। চলতি বছর ৩১ আগস্ট পর্যন্ত এ সংখ্যা মাত্র ২৭৬। একটি প্রধান গন্তব্যের দেশে এভাবে রফতানি কমে যাওয়া কাম্য নয়।
মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের একটি সংঘবদ্ধ চক্রের অনৈতিক ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ ওঠে। এর জেরে গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে দেশটিতে নতুন কর্মী নিয়োগ বন্ধ রয়েছে। অবশ্য তখন সব দেশ থেকেই শ্রমিক নেওয়া বন্ধ করে দেয় দেশটির সরকার। এরপর কর্মী নিয়োগে নেপাল চুক্তি করতে পারলেও আমরা এখনও সে সুযোগ নিতে পারিনি। আশার কথা, সরকার দেশটিতে শ্রমবাজার চালুর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় গতকাল একটি সহযোগী দৈনিকে প্রকাশিত ‘হঠাৎ অভিযান, আতঙ্কে প্রবাসী বাংলাদেশিরা’ শীর্ষক খবর সাধারণ মানুষকে উদ্বিগ্ন করবে।
এতে বলা হয়েছে, অবৈধ বিদেশি শ্রমিকদের পাকড়াও করতে পথে পথে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে দেশটির পুলিশ। সঙ্গে পাসপোর্ট না পেলেই আটক করা হচ্ছে। অথচ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বাংলাদেশি কর্মীর পাসপোর্ট নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের কাছে থাকে। বৈধ কাগজপত্র
না-থাকা বিদেশি শ্রমিকদের স্বদেশে ফিরে যেতে গত জুলাইয়ে ‘দ্য ব্যাক ফর গুড প্রোগ্রাম’ (কল্যাণের জন্য ফিরে যাওয়া কর্মসূচি) শুরু করে মালয়েশিয়া। এর আওতায় অবৈধ কর্মীরা ১ আগস্ট থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার সুযোগ পাবেন। কিন্তু এরই মধ্যে ধরপাকড় চলছে। বহু বাংলাদেশি শ্রমিক গ্রেফতার এড়াতে পালিয়ে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন।
সাধারণ ক্ষমা চলাকালে ধরপাকড় চলার কথা নয়। বাংলাদেশি কর্মীরা যাতে অহেতুক ভোগান্তির শিকার না হন এবং যাদের কাছে পাসপোর্ট ও নিয়োগপত্র নেই, তাদের দেশে ফেরার ব্যবস্থা করতে হবে। আমরা আশা করি, শ্রমিকদের পাশে থাকবে হাইকমিশন।
দেশটিতে শ্রমবাজার বন্ধের দায়ে অভিযুক্ত ১০ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং নতুন করে নিয়োগ শুরুর আলোচনার মধ্যেই কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার কাজ পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে ওই চক্র। মনে রাখতে হবে, যারা বৈধ কাগজপত্র ছাড়া মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠিয়েছে, তারা প্রশ্রয় পেলে কেবল নিরীহ শ্রমিকরাই বিড়ম্বনার শিকার হন না, দেশের সুনামও নষ্ট হয়, হারাতে হয় সম্ভাবনাময় শ্রমবাজার। তাই নিরাপদ শ্রমপরিবেশ নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি হয়ে পড়েছে বলে মনে করি।

সর্বশেষ..