প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

প্রবাসীদের ব্যয়বহুল ১০০ শহরের তালিকায় নেই রিয়াদ

শেয়ার বিজ ডেস্ক: প্রবাসীদের কাছে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহরগুলোর তালিকায় গত বছর ২৯তম অবস্থানে ছিল সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ। চলতি বছর সেই অবস্থান থেকে এক লাফে ৭২ ধাপ নিচে নামার পর শহরটির অবস্থান হয়েছে ১০৩। অর্থাৎ প্রবাসীদের কাছে আর ব্যয়বহুল শহর নয় রিয়াদ। খবর: আরব নিউজ।

সম্প্রতি প্রকাশিত বিশ্বের বিভিন্ন শহরের ওপর করা যুক্তরাষ্ট্রের সমীক্ষাবিষয়ক প্রতিষ্ঠান মারসারের এক তালিকায় এই দাবি করা হয়েছে। মারসার চলতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন শহরের ওপর সমীক্ষা চালায়। ফলের ওপর ভিত্তি করে শহরের এ তালিকা প্রকাশ করে তাদের ওয়েবসাইটে।

২০২২ সালে বিশ্বের চারশ’র বেশি শহরের দুই শতাধিক পণ্য ও সেবার মূল্যের ভিত্তিতে এ জরিপের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এ তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাওÑবিদেশি কর্মীদের বসবাসের জন্য ঢাকা (৯৮তম) এখনও বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত কিছু শহরের তুলনায় ব্যয়বহুল রয়েছে। মারসারের এ তালিকায় মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুর ১৮১তম, কাতারের দোহা ১৩৩তম, কানাডার অটোয়া ১৩২তম, কুয়েতের রাজধানী কুয়েত সিটি ১৩১তম, সৌদি আরবের জেদ্দা ১১১তম, কানাডার ভ্যানকুভার ১০৮তম, থাইল্যান্ডের ব্যাংকক ১০৬তম ও অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরা ১০৪তম অবস্থানে রয়েছে।

এ বছর মারসার বিশ্বের ২২৭টির বেশি শহরে জরিপ পরিচালনা করে এ সূচক তৈরি করেছে। আবাসন, পরিবহন, খাদ্য, পোশাক, গৃহস্থালি পণ্যসামগ্রী, বিনোদনসহ প্রতিটি শহরের দুই শতাধিক পণ্য ও পরিষেবার তুলনামূলক খরচের ভিত্তিতে এ সূচক তৈরি করা হয়েছে। এ বছরের মার্চের জীবনযাপনের খরচের ভিত্তি ধরে এ হিসাব করা হয়েছে। সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার ব্যয়বহুল শহরের তালিকায় ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাই ১২৭তম, নয়াদিল্লি ১৫৫তম, চেন্নাই ১৭৭তম ও বেঙ্গালুরু ১৭৮তম অবস্থানে রয়েছে। সূচকে কলম্বোর অবস্থান ১৮৩তম। এরপর ভারতের হায়দরাবাদ ১৯২তম, পুনে ২০১তম ও কলকাতা ২০৩তম অবস্থানে রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় প্রবাসীদের জীবনযাপনের জন্য সবচেয়ে কম ব্যয়বহুল শহর এখন পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ ও দেশটির বন্দরনগরী করাচি। বৈশ্বিক হিসেবে এ শহর দুটির অবস্থান যথাক্রমে ২২৪ ও ২২৩তম। বিশ্বের সবচেয়ে কম ব্যয়বহুল শহর হিসেবেও শহর দুটির অবস্থান চতুর্থ ও পঞ্চম। এ ছাড়া তুরস্কের (নতুন নাম তুর্কিয়ে) রাজধানী আঙ্কারা ২২৭তম অবস্থানে রয়েছে।

রিয়াদের এই অবস্থান নিয়ে মেনাসাত রিয়েলিটি কোম্পানির খালেদ আল-মোবায়েদ বলেন, আমাদের ধারণার চেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে রিয়াদ। কভিড মহামারির সংকট ও মূল্যস্ফীতির পরও এই উন্নতি আশাব্যঞ্জক। তালিকায় ১০০ শহরের বাইরে থাকা শুভ লক্ষণ। এতে বোঝা যায়, অর্থনীতি সঠিক পথে রয়েছে।

আরব দেশগুলোর মধ্যে বিদেশি কর্মীদের জন্য সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহর হচ্ছে লেবাননের রাজধানী বৈরুত (৩১তম)। গত বছর এ শহরের অবস্থান ছিল তৃতীয়। অর্থনৈতিক সংকটের কারণে বৈরুতকে প্রথমে তালিকায় রাখেনি মারসার। শহরটির অবস্থান পতনের পেছনে অন্যতম কারণ ছিল লেবানিজ মুদ্রা পাউন্ডের দরপতন। লেবাননের অর্থনৈতিক বিশ্লেষক বাসেল

আল-খতিব আরব নিউজকে বলেন, পাউন্ডে বেতন পাওয়া কর্মীদের কাছে লেবানন ভীষণ ব্যয়বহুল, তবে ডলারে বেতন পাওয়া কর্মীদের কাছে বেশ সস্তার। লেবানন দেশি-বিদেশি সবার জন্য ব্যয়বহুল। পাউন্ডের পতন হয়েছে ৯৫ শতাংশ, ডলারের রেকর্ড উত্থান হয়েছে বলে

জানান বাসেল।

আরব শহরগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে আবুধাবি (৬১তম)। বিদেশি কর্মীদের কাছে বিশ্বে সবচেয়ে ব্যয়বহুল তালিকার তকমা পেয়েছে হংকং। জুরিখ ও জেনেভা রয়েছে যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে।

সৌদি আরবের শাসকরা ‘ভিশন ২০৩০’ নামের এক মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন। এ পরিকল্পনা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করার সম্ভাবনা কিছুটা কম। তারপরও একটা লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করাকে অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। সৌদি সরকারের এ ভিশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ রাজধানী রিয়াদের উন্নয়ন। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য রিয়াদকে ২৬টি সেক্টোরাল প্রোগ্রামের আওতায় আনা হয়েছে। এসব সেক্টরে রয়েছে ৭০০টি প্রকল্প। এ প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে শহরটি বিশ্বে শীর্ষ বাসোপযোগী শহরের তালিকায় থাকবে।