সম্পাদকীয়

প্রবাসীদের সৌদি আরব গমন নির্বিঘ্ন হোক

কভিডকালে বিশ্বের শ্রমজীবী মানুষ বেশ বিপাকে আছেন। এ সময় আগে থেকে স্বদেশে ছিলেন এবং কিংবা স্বদেশে এসেছেন, সবাই আটকা পড়েছেন। এদিকে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে। যেসব দেশের বৈদেশিক আয়ের বড় উৎস রেমিট্যান্স, সে দেশগুলো কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করেছে।

আমাদেরও বৈদেশিক আয়ের বড় উৎস রেমিট্যান্স। কিন্তু আমরা সেভাবে নিয়োগকর্তা দেশের সঙ্গে যে যোগাযোগ রক্ষা করিনি বলেই প্রতীয়মান। গতকাল শেয়ার বিজের ‘প্রবাসী কল্যাণ ভবন ঘেরাও করে বিক্ষোভ সৌদি প্রবাসীদের’ শীর্ষক প্রতিবেদন সেটিরই প্রমাণ।

খবরে বলা হয়, সৌদি আরবে ফেরার টিকিট না পেয়ে বিক্ষুব্ধ প্রবাসীরা গতকাল (বুধবার) বিক্ষোভ করেছেন। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সড়ক অবরোধ করার পর ইস্কাটনে প্রবাসী কল্যাণ ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে তারা তুলে ধরেছেন নিজেদের দাবি।

বিক্ষোভকালে প্রবাসীরা এতটুকু উচ্ছৃঙ্খল হননি। তারা কেবল তাদের ন্যায্য দাবি কর্তৃপক্ষের গোচরে আনার চেষ্টা করেছেন। চলতি মাসের মধ্যে সৌদি আরব যেতে না পারলে যে তাদের অনেকেই চাকরি হারাবেন, এটি আমাদের কর্তাব্যক্তিরা জানেন। তারা কী ব্যবস্থা নিয়েছেন, আমরা জানি না। কভিডকালে অনেকে চাকরি হারিয়েছেন। এখন নতুন করে যেন কেউ চাকরি না হারান, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।  

দেশে অবস্থানকারী প্রবাসীদের দ্রুত ফেরার ব্যবস্থা করা জরুরি। ভিসার মেয়াদ বাড়াতে হবে, পাশাপাশি  কর্মস্থলে যাওয়ার টিকিটও লাগবে তাদের। কভিডের মধ্যে সৌদি আরবের অনুমতি না মেলায় এখনও সেদেশে ফ্লাইট চালু করতে পারেনি বাংলাদেশ বিমান। সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইনসও টিকিট দিতে পারছে না। আমাদের শ্রমিকদের বিদেশ যেতে কী ঝক্কি-ঝামেলা পোহাতে হয়, সবাই জানেন। ঘরভিটা, সর্বস্ব বিক্রি করে ধারদেনা করে বিদেশ যান তারা। এখন যদি যেতে না পারেন, তাহলে ভোগান্তির অন্ত থাকবে না। রাষ্ট্রকে এই নিরীহ কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে হবে। কোনো প্রবাসী যেন চাকরি না হারান, সে লক্ষ্যে ব্যবস্থা নিতে হবে। সৌদি আরবে ২০ লাখের বেশি বাংলাদেশি বিভিন্ন পেশায় কাজ করেন। ২০১৯-২০ অর্থবছরে যে এক হাজার ৮২০ কোটি ৫০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স দেশে এসেছে, তার মধ্যে ৪০১ কোটি ৫১ লাখ ডলারই সৌদি প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন।

আমরা আশা করি, প্রবাসীদের বিড়ম্বনা থেকে রক্ষায় সরকার তৎপরতা বাড়াবে। সৌদি সরকার ঘোষণা দিয়েছে যাদের ইকামার (কর্মভিসা) মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে, তাদের মেয়াদ বাড়ানো হবে। সৌদিতে  প্রবেশের আগে যাত্রার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যাত্রীদের করোনা পরীক্ষার নেগেটিভ সনদ পাঠাতে হবে। এ ব্যাপারে যেন সময়ক্ষেপণ না হয়, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। অনেক প্রবাসীর সৌদির রিটার্ন টিকিট কাটা থাকলেও লকডাউনের কারণে যেতে পারেননি। এখন টিকিটের তারিখ পরিবর্তনের জন্য যেন এজেন্সিগুলো অতিরিক্ত টাকা নিতে না পারে, সে সমস্যার সমাধানও করতে হবে। সুযোগ সন্ধানী দেশি কিছু এজেন্সির বিরুদ্ধে টিকিট নিয়ে কারসাজির অভিযোগ রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..