সম্পাদকীয়

প্রবাসী কর্মীদের কভিড টিকাদান নিশ্চিত করুন

প্রবাসী শ্রমিকদের কভিড ভ্যাকসিন পাওয়া সহজ করতে হবে। সরকার ঘোষণা দিয়েছিল করোনাভাইরাসজনিত রোগ কভিড প্রতিরোধী টিকাপ্রাাপ্তির ক্ষেত্রে প্রবাসী শ্রমিকরা অগ্রাধিকার পাবেন এবং তাদের ক্ষেত্রে বয়সভিত্তিক নিয়ম প্রযোজ্য হবে না। আমাদের প্রবাসী শ্রমিকদের বড় অংশ কম শিক্ষিত। তাদের অভিযোগ, টিকা পেতে যেসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়, তারা সে-সম্পর্কিত তথ্য পাচ্ছেন না। টিকা না পেয়ে ১ জুলাই রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে বিক্ষোভ করেন প্রবাসী শ্রমিকরা। বিক্ষোভের পর টনক নড়ে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি)। সংস্থাটি তখন জানিয়েছে, ২ জুলাই থেকেই সারাদেশে ৫৩টি কেন্দ্রে প্রবাসী শ্রমিকদের নিবন্ধন শুরু হবে। প্রবাসী কর্মীরা সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত সরাসরি গিয়ে নিবন্ধন করতে পারবেন।

এছাড়া ‘আমি প্রবাসী’ অ্যাপের মাধ্যমেও নিবন্ধন করা যাবে। বিএমইটি থেকে দেয়া স্মার্টকার্ড না থাকলেও যেকোনো শ্রমিক এ নিবন্ধন করতে পারবেন। সেজন্য পাসপোর্ট নম্বর প্রয়োজন হবে।

টিকা দেয়ার নিবন্ধন করতে সর্বসাধারণের জন্য সরকারের ওয়েবসাইট বা অ্যাপ ‘সুরক্ষা’য়ও পাসপোর্টের মাধ্যমে প্রবাসী নিবন্ধনের সুযোগ রয়েছে প্রবাসী কর্মীদের। সেখানে পাসপোর্ট ও মোবাইল ফোন নম্বর যাচাই করে নিবন্ধন সম্পন্ন করা যায়।

প্রবাসী কর্মীদের নির্দিষ্ট টিকা নেয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। প্রবাসী শ্রমিকরা টিকা না নিয়ে কর্মস্থলের দেশে পৌঁছানোর পর সরকার-নির্ধারিত হোটেলে নিজ খরচে ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। তবে টিকার দুটি ডোজ নেয়া থাকলে এ নিয়ম শিথিল থাকবে।

শ্রমিকদের কোয়ারেন্টাইন প্যাকেজের জন্য ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টাকাও খরচ করতে হচ্ছে। সেজন্যই টিকাদানে শ্রমিকদের অগ্রাধিকার দেয়া জরুরি। কিন্তু টিকা না পেয়ে প্রবাসী শ্রমিকদের বিড়ম্বনার খবর আসছে গণমাধ্যমে। শ্রমিকদের দেয়া হয় ফাইজারের তৈরি টিকা। এ টিকা নিতে হলে শ্রমিকদের ঢাকায় আসতে হয়। কেননা এ টিকা খুব কম তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করতে হয়। এ সুবিধা অন্য এলাকায় নেই। 

শনিবার টিকা না পেয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ করেছেন প্রবাসীরা। গতকাল শেয়ার বিজের প্রতিবেদনে বলা হয়, টিকা নেয়ার জন্য এসএমএস পেয়ে এসেছেন তারা। লাইনে দাঁড়িয়েও টিকা পাননি তারা।

ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাজমুল হক তাদের বলেন, ‘যাদের অ্যাস্ট্রাজেনেকা, ফাইজার ও মডার্না না নিলে চলবে না, তারাই ফিরে গেছেন। এসব টিকা দেয়া চালু হলেই তাদের দেয়া হবে।’

প্রবাসীদের জন্য টিকা প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে শিগগিরই ব্যবস্থা নেয়া দরকার। যেহেতু তাদের নির্দিষ্ট টিকা গ্রহণ করতে হবে, তাই ওই টিকা জরুরি ভিত্তিতে আনতে হবে। নিবন্ধন করে যাতে অল্প সময়ের জন্য টিকা দেয়া যায়, সেজন্য পর্যাপ্ত টিকা সংগ্রহ করতে হবে। যেসব টিকা প্রত্যন্ত অঞ্চলে সংরক্ষণ করার ব্যবস্থা আছে, সেগুলো আনার ব্যবস্থা করতে হবে। টিকা গ্রহণের জন্য দুবার রাজধানীতে আসা ব্যয়সাধ্য। প্রবাসী কর্মীরা যাতে নিজ জেলায় টিকা নিতে পারেন এবং টিকার জন্য এসে যেন টিকা না নিয়ে ফিরে যেতে না হয়। যাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা আছে, কোনো অব্যবস্থাপনার শিকার হয়ে যেন তারা চাকরি না হারান।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..