সম্পাদকীয়

প্রবাসী শ্রমিকদের দুর্দশা লাঘবে ব্যবস্থা নিন

কয়েক বছর ধরে সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশ থেকে শূন্য হাতে ফেরা শ্রমিকের সংখ্যা কমেই বাড়ছে। চলতি বছরের প্রথম ১৬ দিনে সৌদি আরব থেকে ফিরেছে এক হাজার ৬১০ বাংলাদেশি। দেশে ফেরা কর্মীদের বরাত দিয়ে গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ইকামা (চাকরির অনুমতিপত্র) তৈরির জন্য নিয়োগকর্তাকে (কফিল) তারা টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু ইকামা তৈরি করে দেননি কফিল। পুলিশের হাতে আটকের পর তারা কফিলের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন; কিন্তু কফিল দায়িত্ব নেননি।

প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে মোট ৬৪ হাজার ৬৩৮ কর্মী দেশে ফিরেছেন। এর মধ্যে সৌদি আরব থেকে ২৫ হাজার ৭৮৯, মালয়েশিয়া থেকে ১৫ হাজার ৩৮৯, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ছয় হাজার ১১৭, ওমান থেকে সাত হাজার ৩৬৬, মালদ্বীপ থেকে দুই হাজার ৫২৫, কাতার থেকে দুই হাজার ১২, বাহরাইন থেকে এক হাজার ৪৪৮ ও কুয়েত থেকে ৪৭৯ জন শূন্য হাতে ফিরেছেন।

দেশে কর্মসংস্থান সংকট প্রকট হচ্ছে। জীবিকা নির্বাহের জন্য বিদেশে যেতে হয় বেকারদের। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্যমতে, ১৯৭৬ সালে জনশক্তি রপ্তানি শুরু হওয়ার থেকে গত ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এক কোটি ২৮ লাখ ৯৯ হাজার ২৮৩ বাংলাদেশি শ্রমিক বিভিন্ন দেশে কাজ নিয়ে গেছেন এবং তাদের মাধ্যমে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স এসেছে ১৫ লাখ ২০ হাজার ৯২১ কোটি টাকা।

প্রবাসীদের কষ্টার্জিত অর্থ অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করলেও তাদের প্রতি আমরা তেমন দায়িত্বশীল নই। ধারদেনা আর ভিটেমাটি বিক্রি করে বিদেশে যান তারা। দেশে জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান দ্বারা ভোগান্তির শিকার হন, বিদেশেও নানাভাবে বঞ্চিত ও প্রতারিত হন তারা। বিদেশ যাওয়ার সময় নেওয়া ঋণ পরিশোধ করতে কয়েক বছর লেগে যায়। আবার নিয়োগকর্তার গাফিলতিতেও শূন্য হাতে দেশে ফেরেন অনেকে। এটি দুঃখজনক।

প্রবাসী শ্রমিকদের কোনো তথ্যভাণ্ডার নেই। সাধারণ শ্রমিক কাগজপত্র যাচাই করতে পারেন না। দেশে কিংবা প্রবাসে সে অর্থে শ্রমিকরা সহায়তা পান না। তারা প্রতারিত-প্রবঞ্চিত আর নিঃস্ব হয়ে দেশে ফিরছেন। বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের বেশিরভাগই হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান। অবৈধ বাংলাদেশিদের পাশাপাশি বৈধরাও রয়েছেন নানা সংকটে। অনেকে কাজ না পেয়ে দেশে ফিরে আসছেন। অর্থাৎ, তারা প্রতারিত হচ্ছেন। দূতাবাস যথাযথ উদ্যোগ নিলে প্রবাসী শ্রমিকরা কপর্দকহীন হয়ে দেশে ফিরতেন না। তাদের কাউন্সেলিং, প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসনে এগিয়ে আসতে হবে সবাইকে। ‘ফ্রি ভিসা’র নামে প্রতারণা বন্ধ করাসহ শ্রমিকদের দুর্দশা লাঘবে সরকার দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেবে বলেই প্রত্যাশা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..