প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

প্রবাসে পুরুষ কমলেও বেড়েছে নারীকর্মী

নিজস্ব প্রতিবেদক: বছরের শেষ প্রান্তে এসে এবার প্রবাসে যাওয়া কর্মীর পরিসংখ্যান দিল রামরু। সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রবাসে কর্মী যাওয়া গত বছরের চেয়ে কমেছে। পুরুষ কর্মী যাওয়া কমেছে সবচেয়ে বেশি, কিন্তু এর মধ্যেও সংখ্যায় নারী কর্মীর সংখ্যা বেড়েছে।

বাংলাদেশ থেকে শ্রম অভিবাসনের গতিপ্রকৃতি নিয়ে কাজ করে রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস ইউনিট (রামরু)। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে চলতি বছরের অভিবাসন নিয়ে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে সংস্থাটি।

রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্যের বরাত দিয়ে রামরু জানায়, গত জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত মোট ছয় লাখ চার হাজার ৬০ বাংলাদেশি কর্মী বিদেশে গেছেন। গত বছরের আলোচিত সময়ে এ সংখ্যা ছিল ছয় লাখ ৮৪ হাজার ৯৬২ জন। অর্থাৎ আগের বছরের চেয়ে ৮০ হাজার ৯০২ জন কম শ্রমিকের অভিবাসন হয়েছে চলতি বছরের ১১ মাসে।

অন্যদিকে চলতি বছরের ১১ মাসে ৯৭ হাজার ৪৩০ নারী শ্রমিক বিদেশে গেছেন, যা আগের একই সময়ে ছিল ৯১ হাজার ৯২১ জন। অর্থাৎ আগের বছরের চেয়ে পাঁচ হাজার ৫০৯ জন বেশি নারী শ্রমিক এবার বিদেশ গেছেন।

রামরুর সভাপতি অধ্যাপক তাসনীম সিদ্দিকী বলেন, চলতি বছরের ১১ মাসে বিদেশে কর্মী যাওয়ার সংখ্যা আগের বছরের চেয়ে কমলেও রেমিট্যান্সের পরিমাণ বেড়েছে। ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১৬ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলার। গত বছরের আলোচিত সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৫ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলার।

শ্রমিক অভিবাসন ও রেমিট্যান্স প্রবাহের চলমান ধারা অব্যাহত থাকলে গত বছরের চেয়ে প্রবাসী কর্মীর সংখ্যা ১০ শতাংশ কমে যাবে। রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে দুই শতাংশ হারে প্রণোদনা ঘোষণার ফলে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বেড়েছে।

রামরু সভাপতি বলেন, প্রবাসে নারী কর্মীদের নিগ্রহের ঘটনা বড় আকারে প্রকাশ পেলেও চলতি বছর তাদের বিদেশে যাওয়ার সংখ্যা বেড়েছে। এ বছর নভেম্বর পর্যন্ত ৯৭ হাজার ৪৩০ নারী কর্মী বিদেশে গেছেন। ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ৯১ হাজার ৯২১ নারী শ্রমিক বিদেশে গিয়েছিলেন, যা গত বছরের ১১ মাসের তুলনায় পাঁচ হাজার ৫০৯ জন বেশি।

তিনি জানান, নারী শ্রমিকদের অভিবাসনের ক্ষেত্রে সৌদি আরবই বাংলাদেশের প্রধান গন্তব্য। গত ১১ মাসে দেশটিতে ৫৮ হাজার ২৮৩ নারী কর্মীর অভিবাসন হয়েছে, যা মোট নারী অভিবাসীর ৫৯ দশমিক ৮২ শতাংশ।

এর বাইরে নভেম্বর পর্যন্ত ১৮ হাজার ১২৩ নারী কর্মী জর্ডানে ও ১১ হাজার ৩২৩ নারী কর্মী ওমানে পাড়ি জমিয়েছেন। এই তিন দেশ মিলে ৯০ শতাংশ নারী কর্মীর গন্তব্য।

এ বছর জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে ৮৫০ নারী দেশে ফিরে এসেছেন। ফেরার কারণ হিসেবে তারা জানান, সেখানে যৌন নিপীড়নসহ নানা ধরনের নির্যাতন করা হয়েছে তাদের ওপর। খবর গণমাধ্যমে আসার পর বিভিন্ন নারী সংগঠন সরব হয়।

রক্ষণশীল দেশটিতে নারী কর্মী না পাঠানোর দাবি উঠেছে জোরেশোরে। সম্প্রতি জাতীয় সংসদে আলোচনায় বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য সৌদি আরবে আর কোনো নারী গৃহকর্মী না পাঠানোর দাবি তোলেন। বেসরকারি সংস্থাগুলোর হিসাবে সৌদি আরব থেকে আনুমানিক তিন হাজার নারী কর্মী এবং ২১ হাজার পুরুষ কর্মী দেশে ফেরত এসেছেন বলে জানান অধ্যাপক তাসনীম।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২০১৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত সৌদি আরবে তিন লাখ ৬০ হাজার ২৪ কর্মী গেছেন, যা এ বছরের মোট প্রেরিত কর্মীর প্রায় ৬০ শতাংশ।

শ্রম গ্রহণকারী দেশের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে ওমান (১১ দশমিক ৬৮ শতাংশ), সেখানে গেছেন ৬৭ হাজার ১৭৭ কর্মী। তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে আছে কাতার (আট দশমিক শূন্য সাত শতাংশ) ও সিঙ্গাপুর (সাত দশমিক ৫৮ শতাংশ)।

তথ্য উল্লেখ করে বলা হয়, পূববর্তী বছরের মতো ২০১৯ সালের অক্টোবর পর্যন্ত কুমিল্লা জেলা থেকে সবচেয়ে বেশি মানুষ বিদেশে গেছেন। এই জেলা থেকে চলতি বছর প্রবাসে গেছেন ৫৩ হাজার ৯১১ কর্মী, যা মোট সংখ্যার আট দশমিক ৯২ শতাংশ।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে বিদেশে গেছেন ৩৪ হাজার ১৪৯ জন, যা মোট সংখ্যার শতকরা পাঁচ দশমিক ৬৫ ভাগ। টাঙ্গাইলকে সরিয়ে তৃতীয় অবস্থানে আসা চট্টগ্রাম জেলা থেকে বিদেশে গেছেন ২৯ হাজার ২৭০ জন, যা মোট সংখ্যার চার দশমিক ৮৫ শতাংশ। অন্যদিকে টাঙ্গাইল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত কর্মী গেছেন ২৮ হাজার ৩৩৯ জন, যা মোট সংখ্যার শতকরা চার দশমিক ৬৯ ভাগ।