প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে উৎপাদনশীল খাতকে বেগবান করতে হবে

এমসিসিআই’র পর্যালোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক: টেকসই উচ্চ প্রবৃদ্ধির জন্য বেসরকারি খাতে সরকারের অব্যাহত সহযোগিতা দরকার। বর্তমানে অর্থনীতির সূচকগুলো ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও ব্যবসার জন্য অপরিহার্য অবকাঠামো সুবিধার ঘাটতি রয়েছে অনেক। সঞ্চালন ব্যবস্থার ত্রুটিসহ গ্যাস ও বিদ্যুতের সরবরাহ সমস্যা উৎপাদনশীল খাতগুলোর সক্ষমতাকে দুর্বল করে দিচ্ছে। এক্ষেত্রে সমস্যাগুলো সমাধান করা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনের পাশাপাশি তা ধরে রাখার বিষয়ে সরকারকে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে বলে মনে করেন ঢাকার মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এমসিসিআই) নেতারা।

চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা প্রতিবেদনে এমন পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছে ব্যবসায়ীদের এ সংগঠনটি। এতে আরও বলা হয়, আলোচিত ত্রৈমাসিকে মুখ্য অর্থনৈতিক সূচকগুলোর ধারাবাহিক অগ্রগতি দেখে সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ইতিবাচক ছিল বলেই মনে হয়। যদিও অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির চাপ, আমদানি-রপ্তানির ধীরগতি, বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট ও প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআই) নি¤œমুখী প্রবণতাসহ কতগুলো ঝুঁকি রয়ে গেছে। তবে রেমিট্যান্স বাড়ছে, বিনিময় হার স্থিতিশীল ও বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে।

পর্যালোচনা প্রতিবেদনে এমসিসিআই বলছে, কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধি কিছুটা নি¤œমুখী। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে কৃষিতে প্রবৃদ্ধি ছিল তিন দশমিক ৫১ শতাংশ। যেখানে বিদায়ী ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এ খাতে প্রবৃদ্ধি ছিল চার দশমিক ১৯ শতাংশ। এ কারণে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) কৃষির অবদান কমে ১৩ দশমিক ৬০ শতাংশে নেমে এসেছে। গত অর্থবছরে জিডিপিতে কৃষির অবদান ছিল ১৪ দশমিক ২৩ শতাংশ।

প্রতিবেদনের তথ্যমতে, গত জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে জিডিপিতে শিল্প খাতের অবদান এক দশমিক ৪৮ শতাংশীয় পয়েন্ট বেড়ে ৩৫ দশমিক ১৪ শতাংশ হয়েছে। গত অর্থবছরে জিডিপিতে শিল্পের অবদান ছিল ৩৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ। আলোচিত সময়ে এ খাতের প্রবৃদ্ধি ছিল ১৩ শতাংশ, যেখানে গত অর্থবছরে ছিল ১২ শতাংশ।

এর মধ্যে প্রস্তুতকারক উপখাতে ১৪ দশমিক ৭৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ছিল। বৃহৎ ও মাঝারি শিল্পে প্রবৃদ্ধি ছিল ১৫ দশমিক ৬১ শতাংশ। তবে ক্ষুদ্রশিল্পের প্রবৃদ্ধি অন্যান্য উপখাতের তুলনায় কিছুটা কম ছিল।

তবে বিদ্যুৎ খাতে জুলাইয়ের তুলনায় সেপ্টেম্বরে উৎপাদন সক্ষমতা বেড়েছে। সেপ্টেম্বরে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৪২৮ মেগাওয়াট।

এমসিসিআই’র কাছে আলোচিত ত্রৈমাসিকে সেবা খাতের উপখাতগুলোর কোনো তথ্য না থাকলেও সংস্থাটি আশা করছে, এ খাত আগের বছর থেকে ভালো করবে।

মুদ্রা ও পুঁজিবাজার নিয়ে এমসিসিআই বলছে, গত আগস্টে অভ্যন্তরীণ ঋণের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ছিল ১৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ। যদিও ডিসেম্বর পর্যন্ত মুদ্রানীতির লক্ষ্য অনুযায়ী অভ্যন্তরীণ ঋণে ১৪ দশমিক ৫০ শতাংশ প্রবৃদ্ধির প্রক্ষেপণ করা হয়েছিল।

তবে এ সময়ে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ১০ দশমিক ৬৮ শতাংশ। অন্যদিকে সরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩৪ দশমিক ৪০ শতাংশ।

অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে সরকারের রাজস্ব আয়ে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় তিন দশমিক ৩৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ছিল। তবে আলোচিত ত্রৈমাসিকে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড (এডিপি) বাস্তবায়নের হার আগের অর্থবছরের একই ত্রৈমাসিকের তুলনায় আট শতাংশ কমেছে।

আলোচিত ত্রৈমাসিকে পণ্য রপ্তানি প্রায় তিন শতাংশ কমেছে। আমদানি প্রবৃদ্ধিও নেতিবাচক। তবে রেমিট্যান্সে প্রায় ১৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি রয়েছে। বিদেশি অনুদান বিতরণ কমেছে প্রায় পাঁচ দশমিক ৬২ শতাংশ। জুলাই-আগস্ট সময়ে এফডিআই বেড়েছে সাত শতাংশ। বৈদেশিক বাণিজ্যের ঘাটতি কমেছে ছয় শতাংশ। সেপ্টেম্বরে পয়েন্ট টু পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি বেড়ে পাঁচ দশমিক ৫৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।  

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..