প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

প্রবৃদ্ধি নিয়ে চলমান বিতর্ক ও কিছু কথা

এম খালেক: শীর্ষস্থানীয় তিনটি আন্তর্জাতিক অর্থায়ন প্রতিষ্ঠান, যাদের আমরা ইদানীং ডেভেলপমেন্ট পার্টনার হিসেবে আখ্যায়িত করছি এক মাসেরও কম সময়ের ব্যবধানে প্রায় একযোগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থনীতির গতি-প্রকৃতি সম্পর্কে পূর্বাভাস দিয়েছে। বিশেষ করে ২০১৭ সালে কোন দেশ কত হারে জিডিপি (মোট দেশজ উৎপাদন) প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে, তার প্রাক্কলন প্রকাশ করেছে। জিডিপি প্রবৃদ্ধি-সংক্রান্ত এ পূর্বাভাস ইতোমধ্যেই অর্থনীতিবিদদের মাঝে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সম্ভাব্য বিশ্ব অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রকাশকারী প্রতিষ্ঠান তিনটি হলো এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি), বিশ্বব্যাংক (ডব্লিউবি) ও ইন্টারন্যাশনাল মানিটরি ফান্ড (আইএমএফ)। প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিবেদনে বাংলাদেশের বিষয়টি বেশ গুরুত্বের সঙ্গে স্থান পেয়েছে। তারা এর অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রশংসা করেছে; পাশাপাশি চলতি অর্থবছরের জন্য ঘোষিত জাতীয় বাজেটে সরকার জিডিপি প্রবৃদ্ধির যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে তার সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করেছে। তারা বলেছে, বাংলাদেশ সরকার জিডিপি প্রবৃদ্ধির যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, তা অর্জিত হবে না। এডিবি তাদের ‘ডেভেলপমেন্ট আউটলুক আপডেট-২০১৭’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলেছে নানা সীমাবদ্ধতার কারণে প্রবৃদ্ধি কিছুটা হলেও শ্লথ হতে পারে। সংস্থাটি আরও বলছে, কিছু অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির উদ্ভব হওয়ায় বাংলাদেশের অর্থনীতিকে এবার জটিল সমস্যা মোকাবিলা করতে হতে পারে। চলতি অর্থবছরে সর্বোচ্চ জিডিপি প্রবৃদ্ধি হতে পারে ছয় দশমিক ৯ শতাংশ। কাছাকাছি সময়ে প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ চলতি অর্থবছরে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারবে না। তারা বলেছে, এবার সর্বোচ্চ ছয় দশমিক চার শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হতে পারে। অন্যদিকে আইএমএফ বলেছে, বাংলাদেশ চলতি অর্থবছরে সাত দশমিক এক শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারে। তিনটি আন্তর্জাতিক অর্থায়ন প্রতিষ্ঠানের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বাংলাদেশের সম্ভাব্য জিডিপি প্রবৃদ্ধির হারের মধ্যে কোনো মিল নেই। এর মধ্যে বিশ্বব্যাংকের প্রাক্কলন অত্যন্ত সংরক্ষণশীল। সে তুলনায় আইএমএফের প্রাক্কলন সরকারঘোষিত প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রার অধিকতর নিকটবর্তী। উল্লেখ্য, চলতি অর্থবছরের জন্য জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার নির্ধারিত রয়েছে সাত দশমিক চার শতাংশ। গত অর্থবছরের (২০১৬-১৭) জন্য প্রবৃদ্ধির হার নির্ধারিত ছিল সাত দশমিক দুই শতাংশ। সরকারি হিসাবমতে, গত অর্থবছরে সাত দশমিক ২৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। যদিও বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ গত অর্থবছরের জন্য যথাক্রমে ছয় দশমিক আট শতাংশ ও ছয় দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি প্রক্ষেপণ করেছিল। পরবর্তীতে এ দুটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান তাদের প্রক্ষেপণ সংশোধন করেনি। ফলে জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। কার পরিসংখ্যান সঠিক আর কারটি ভ্রান্ত তা নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়। চলতি অর্থবছরের সূচনালগ্নে আবারও পুরোনো বিতর্ক নতুন করে শুরু হয়েছে। যদিও অর্থমন্ত্রী আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রক্ষেপণকে বাতিল করে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, উন্নয়ন সহযোগীরা প্রতিবছরই প্রবৃদ্ধি কম দেখায়। এবারও তারা তা-ই করেছে।

এডিবি বলেছে, চলতি অর্থবছরে কৃষি খাতের সম্ভাব্য প্রবৃদ্ধি অনেকটাই শ্লথ হয়ে পড়বে। কৃষি খাতে দুই দশমিক ছয় শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে। বন্যায় ফসলহানি ও রোহিঙ্গা সংকটের কারণে চলতি অর্থবছরে স্থানীয় বাজারে চালের মূল্য অনেকটা বেড়ে যেতে পারে। তবে ধীরগতির প্রবৃদ্ধির কারণে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সমর্থ হবে বলেই সংস্থাটি আশা করছে। চলতি অর্থবছরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছয় শতাংশে সীমিত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। আগে তারা মূল্যস্ফীতি ছয় দশমিক তিন শতাংশ হবে বলে উল্লেখ করেছিল। এডিবি তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, চলতি অর্থবছরে দেশের রফতানি খাতে ছয় শতাংশ বা তার কিছুটা বেশি প্রবৃদ্ধি হতে পারে। তবে রফতানির ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত বাজারের তুলনায় নতুন বাজারে প্রবৃদ্ধি বেশি হবে। এ বছর তৈরি পোশাক খাতে রফতানি আয় বেশি হতে পারে। তৈরি পোশাক খাতের করপোরেট ট্যাক্স ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১২ শতাংশ নির্ধারণ করায় এ খাতে ভালো প্রবৃদ্ধি হতে পারে। আমদানি খাতেও প্রবৃদ্ধি ভালো হবে। এ বছর আমদানি খাতে ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে। চাল ও অন্যান্য খাদ্যপণ্য আমদানি বৃদ্ধি ও বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধিতে জ্বালানি তেলের চাহিদা বাড়ায় সার্বিকভাবে আমদানি ব্যয় বাড়বে। এডিবি মনে করছে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা দিনদিন বাড়ছে। তাই উৎপাদন ও সেবা খাতে ব্যাপকভিত্তিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাটা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। কৃষিশ্রমিকের মজুরি কম হওয়ায় তারা এখন উৎপাদন ও সেবা খাতের দিকে ঝুঁকছে। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দুটি পন্থা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে এডিবি। প্রথমত, উৎপাদনশীল খাতে প্রবৃদ্ধি বাড়ানো; দ্বিতীয়ত, পল্লি এলাকায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড জোরদার ও আঞ্চলিক বৈষম্য দূরীকরণ। অবকাঠামোগত উন্নয়নের কারণে ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ কিছুটা বাড়তে পারে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকায় শিল্প খাতে এবার ভালো প্রবৃদ্ধি হতে পারে। তারা বলছে, শিল্প খাতে ১০ দশমিক দুই শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে। প্রসঙ্গত, ৪৮টি নন-ব্যাংক ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশন আছে। এদের মধ্যে ৩১টি এপ্রিল পর্যন্ত সম্মিলিতভাবে ১৮০ কোটি ডলার মুনাফা করেছে। অবশিষ্ট ১৭ প্রতিষ্ঠান সম্মিলিতভাবে লোকসান দিয়েছে ৯৮ কোটি ডলার। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপিসির মুনাফা কিছুটা কমেছে। চলতি অর্থবছরে সেবা খাতের প্রবৃদ্ধি কমে যেতে পারে। এ খাতে ছয় শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সবচেয়ে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রেরিত রেমিট্যান্স কমে যাওয়ার বিষয়টি। এভাবে রেমিট্যান্স হ্রাস পেতে থাকলে আগামীতে গ্রামীণ অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়বে। গ্রামীণ অর্থনীতিতে কৃষিনির্ভরতা কাটিয়ে শিল্পভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হওয়ার যে প্রক্রিয়া সাম্প্রতিক সময়ে শুরু হয়েছিলÑতা থমকে যেতে পারে। গ্রামীণ অর্থনীতিতে ভোগ ব্যয়ের প্রবণতাও হ্রাস পেতে পারে, যা সার্বিকভাবে দেশের অভ্যন্তরীণ ভোগ চাহিদার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে। তবে উল্লিখিত তিন প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনের লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, বাংলাদেশ কিছুটা শ্লথগতিতে হলেও উচ্চ প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখতে সমর্থ হয়েছে। কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রভাবশালী ভারতের প্রবৃদ্ধি এবার কমে যাবে বলে আশঙ্কা। ২০১৬ সালের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল সাত দশমিক ৯ শতাংশ; সেটা চলতি বছর একই প্রান্তিকে পাঁচ দশমিক সাত শতাংশে নেমে এসেছে। ভারত সরকার মনে করছে, চলতি অর্থবছরে তাদের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হতে পারে ছয় দশমিক সাত শতাংশ। তারা আগে বলেছিল, প্রবৃদ্ধি হবে সাত দশমিক তিন শতাংশ। ভারতের এ সম্ভাব্য জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার এডিবির ইতঃপূর্বেকার প্রাক্কলনের চেয়েও কম। সংস্থাটি বলেছিল, ভারতের প্রবৃদ্ধি হতে পারে সাত শতাংশ। ভারতের সব রাজ্যের জন্য একই হারে ট্যাক্স ধার্য করার নিয়ম চালুকরণ, বাজার থেকে হঠাৎ করে ১০০০ ও ৫০০ রুপির নোট প্রত্যাহার করে নেওয়ায় দেশটির অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়েছে বলে ধারণা।

বাংলাদেশের জন্য বর্তমানে যে সমস্যাটি সবচেয়ে প্রকট, তা হলো প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আনুপাতিক হারে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি না হওয়া। ফলে বেকার সমস্যা দ্রুত বাড়ছে। দেশে বর্তমানে চার কোটি ৬০ লাখ বেকার রয়েছে বলে মনে করা হয়। সরকারি পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয়েছে বেকারের সংখ্যা ২৬ লাখ। এ পরিসংখ্যান গ্রহণযোগ্য হচ্ছে না কারও কাছেই। বলা হচ্ছে, দেড় বছরে ১৪ লাখ নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগে যে স্থবিরতা বিরাজ করছে, তাতে এ পরিসংখ্যান বিশ্বাসযোগ্য নয়। দেশ ক্রমে কর্মসংস্থানহীন প্রবৃদ্ধির দিকে এগিয়ে চলেছে। এটা কোনোভাবেই অর্থনীতির জন্য মঙ্গলজনক নয়।

চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এগুলো মোকাবিলা করে উচ্চ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন বেশ কঠিন কাজ। কিন্তু উন্নয়ন অর্থায়নী প্রতিষ্ঠানগুলো যে প্রক্ষেপণ প্রকাশ করেছে, তা নিয়ে যে কেউ প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারেন। এডিবি, বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ সেপ্টেম্বরে তাদের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধির যে প্রক্ষেপণ করা হয়েছে, তা কি পঞ্জিকাবছরের, না অর্থবছরের? বাংলাদেশের অর্থবছর শুরু হয় জুলাই থেকে। তার অর্থ হচ্ছে, এ ক্ষেত্রে যদি অর্থবছর বিবেচনা করা হয়, তাহলে সংস্থাগুলো মাত্র দুই মাসের তথ্য ব্যবহারের সুযোগ পেয়েছে। মাত্র দুই মাসের অর্জিত সাফল্য-ব্যর্থতা দিয়ে কী পুরো অর্থবছরের মূল্যায়ন সম্ভব? সব দেশের অর্থবছর কিন্তু জুলাই থেকে শুরু হয় না। অনেক দেশের অর্থবছর শুরু হয় জানুয়ারি থেকে। ভারতের অর্থবছর শুরু এপ্রিল থেকে। কাজেই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অর্জনকে অন্য দেশের সঙ্গে তুলনা করা যাবে না। এটা করতে হলে বছর শেষ হওয়ার পরই সঠিক পরিসংখ্যান দিয়ে তা করা যেতে পারে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্বব্যাংকের লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন বলেন, বিশ্বব্যাংক পূর্ববর্তী তিন-চার বছরে অর্জিত সাফল্যের গড় হিসাবের ভিত্তিতে পরবর্তী দু-তিন বছরের প্রাক্কলন করে। এখানে আরও একটি বিষয় উল্লেখ্য, সাধারণত একটি দেশের অর্থনৈতিক সাফল্য-ব্যর্থতা পরিমাপ করা হয় জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও তার ভিত্তিতে মাথাপিছু জাতীয় আয়ের পরিমাণ দিয়ে। তবে এ পন্থা কোনোভাবেই বিতর্কহীন নয়। কারণ বাংলাদেশের অনেক খাতই জিডিপির হিসাবের বাইরে থেকে যাচ্ছে। নারীরা বাড়িতে যে কাজ করেন, তা এখনও জিডিপিতে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে না। একটি বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তথ্যমতে, নারীর এ অনানুষ্ঠানিক কাজের পরিমাণ হচ্ছে মোট জিডিপির ৭৬ থেকে ৮৫ শতাংশ। ইনফরমাল সেক্টরের অবদানও প্রচুর; এটাও হিসাবের মধ্যে গণ্য করা হচ্ছে না। এ দুটি খাত জিডিপিতে অন্তর্র্ভুক্ত করা গেলে বর্তমান অবস্থাতেই জিডিপির আকার অনেকটা বৃদ্ধি পাবে। প্রবৃদ্ধির হার ১০ থেকে ১১ শতাংশে উন্নীত হতে পারে। এ-ছাড়া মাথাপিছু জাতীয় আয় যেটা প্রদর্শন করা হয়, তা গড় জাতীয় আয়। এ আয় দিয়ে সাধারণ মানুষের অবস্থা নির্ণয় করা যায় না। জিডিপি প্রবৃদ্ধি কতটা অর্জিত হলো, তারচেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে অর্জিত অর্থনৈতিক সাফল্যের সুফল জনগণ ন্যায্যতার ভিত্তিতে ভোগ করতে পারছে কি না। দেশের অর্থসম্পদ কিছু মানুষ বা মহলবিশেষের হাতে পুঞ্জিভ‚ত হলে তাকে সঠিক ও কল্যাণকর উন্নয়ন বলা যায় না। যেমন দেহের পুরো রক্ত মুখে এসে জমা হলে তাকে সুস্বাস্থ্য বলা যায় না। তাই দেশের সম্পদ বৃদ্ধির পাশাপাশি তার সুফল যাতে সবাই ন্যায্যতার ভিত্তিতে ভোগ করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। তাহলেই কেবল সুষম উন্নয়ন সম্ভব।

 

অর্থনীতিবিষয়ক কলাম লেখক