প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

প্রভাবমুক্ত ভোট আয়োজন করা হবে: সিইসি

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: একাদশ সংসদ নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ও প্রভাবমুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে দেড় বছরের কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করেছে কেএম নূরুল হুদা নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন। গতকাল রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের ইটিআই ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই ‘রোডম্যাপ’ প্রকাশ করে সিইসি বলেন, এটি একটি সূচনা দলিল। নির্বাচনের পথে কাজের জন্য এ কর্মপরিকল্পনাই সব নয়। সংযোজন-পরিমার্জন করে সবার মতামত নিয়ে আমরা কাজ করে যাব।

দশম সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয় ২০১৪ সালের ২৯ জানুয়ারি।  সেক্ষেত্রে ২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারির আগের ৯০ দিনের মধ্যে একাদশ সংসদ নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

সিইসির কর্মপরিকল্পনায় বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশন নির্ধারিত সময়ে সংসদ নির্বাচন করতে দৃঢ়তার সঙ্গে ও সুচিন্তিত পন্থায় এগিয়ে যাচ্ছে। দেশবাসী একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছে। সার্বিকভাবে  দেশে জাতীয় নির্বাচনের একটি অনুকূল আবহ সৃষ্টি হয়েছে।

ইসি কর্মপরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলো নিয়ে অংশীজন, গণমাধ্যম, দলসহ সংশ্লিষ্টদের সামনে উপস্থাপন করে সবার মতামত নেবে। সবার মতামতের আলোকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন আইনানুগ ও গ্রহণযোগ্য করে তোলা সম্ভব বলে ইসি বিশ্বাস করে।

এ সময় সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের স্বার্থে সংলাপে রাজনৈতিক দলসহ অংশীজনের কাছ থেকে সুপারিশের পাশাপাশি সহযোগিতাও চান সিইসি।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে কেএম নূরুল হুদা বলেন, ‘শুধু সরকার  কেন, রাজনৈতিক দল বা যে কোনো দেশি-বিদেশি সংস্থার প্রভাবমুক্ত নির্বাচন করতে পারবো আমরা।’

এদিকে ভোট নিয়ে ইসির রোডম্যাপ সম্পর্কে তিনি জানান, তফসিল  ঘোষণা পর্যন্ত কর্মপরিকল্পনার সাতটি বিষয় ধরে তারা কাজ এগিয়ে  নেবেন। তফসিল ঘোষণার পর ইসির কাজে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা এলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্প্রতি একজন রাজনৈতিক দলের নেতার বাসায় ‘সামাজিক অনুষ্ঠানে’ পুলিশের বাধার বিষয়টি সংবাদ সম্মেলনে এলে এ ধরনের ঘটনায় ইসির পদক্ষেপ কী হবে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে সিইসি বলেন, ‘এটা সরকারের বিষয়। আমরা তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখতে যথাযথ ব্যবস্থা নেব। এখন সরকারের কাছে কোনো অনুরোধ থাকবে না। তবে তফসিল ঘোষণার পর প্রয়োজন হলে অনুরোধ করা হবে।’

সিইসি আরও বলেন, তফসিল ঘোষণার পরবর্তী ৯০ দিন নির্বাচনী আইন-বিধি অনুযায়ী ইসি কাজ করবে। এ মুহূর্তে সরকার কীভাবে পরিচালিত হবে, রাজনৈতিক কর্মপরিবেশ কীভাবে নিশ্চিত করা হবেÑতা কমিশনের এখতিয়ারে নেই।

সংবাদ সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্যে নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম বলেন, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এ পর্যন্ত সব কাজ ‘প্রশ্নের ঊর্ধ্বে রেখে’ করার চেষ্টা করা হয়েছে। ‘আমরা পরিকল্পনা ধরেই এগোচ্ছি। সুষ্ঠু, সুন্দর, সবার অংশগ্রহণে নির্বাচন করতে চাই আমরা। সততা ও শক্তির স্বাক্ষর যেন রাখতে পারি, সেজন্য সবার সহযোগিতা চাই।’

নির্বাচন কমিশন সচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহর সঞ্চালনায় এ অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, রফিকুল ইসলাম, শাহাদত  হোসেন চৌধুরী ও অতিরিক্ত সচিব মোখলেসুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে নির্বাচন কমিশন কর্মপরিকল্পনা প্রকাশের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, কোনো আলোচনা না করে ঘোষিত রোডম্যাপে একাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে চলমান সংকটের সমাধান হবে না। তিনি বলেন, বিএনপি এখন পর্যন্ত নির্বাচনের ‘রোডই’ দেখতে পাচ্ছে না। ম্যাপ তো পরের প্রশ্ন। গতকাল রোববার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে পরে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, এখন প্রধান সংকট হলো নির্বাচন কীভাবে হবে? নির্বাচনের সময় সরকার কোন জায়গায় থাকবে, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা কী হবে? অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য সহায়ক সরকার প্রয়োজন। এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সেই সহায়ক সরকার গঠনের ব্যাপারে আলোচনা।

নির্বাচন কমিশন প্রভাবমুক্ত থেকে নির্বাচন করতে পারবে বলে বিশ্বাস করেÑএ বিষয়ে জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের বলেন,  দেশে নির্বাচনের কোনো পরিবেশ আদৌ আছে কি না, আগে সেটা  দেখতে হবে। বিএনপি একটা সভা করারও অনুমতি পায় না। গত শনিবার বিএনপি চেয়ারপারসন বিদেশে যাওয়ার সময় দলের জ্যেষ্ঠ  নেতাদের রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের সংলাপে বিএনপি অংশ নেবে কি না জানতে চাইলে ফখরুল বলেন, বিএনপি যতগুলো গণতান্ত্রিক পদ্ধতি আছে, সব অনুসরণ করতে চায়। এটা নির্ভর করবে নির্বাচন কমিশন ও সরকারের সদিচ্ছার ওপর, তারা বিএনপিকে যেতে দিতে চায় কি না।