ফিচার

‘প্রযত্নে হারুন ভাই’এনেছেন অপূর্ণ রুবেল

বছর ঘুরে আবারও এসেছে অমর একুশে গ্রন্থমেলা। এবারের মেলায় প্রকাশিত হয়েছে নাট্যকার ও সাংবাদিক অপূর্ণ রুবেলের তৃতীয় বই ‘প্রযতেœ হারুন ভাই’। বইটি মূলত রুবেলের ফেসবুক স্ট্যাটাসের জনপ্রিয় একটি চরিত্র, যে চরিত্র দিয়ে তিনি দেশ, সমাজ ও পরিবার নিয়ে নানা প্রতিবাদী মন্তব্য ও নানা ধরনের সমস্যার সব সমাধান দেন।

হারুন ভাইয়ের সঙ্গে লেখক অপূর্ণ রুবেলের নাতিদীর্ঘ আলাপচারিতার গল্প নিয়ে সাজানো হয়েছে বইটি। বইয়ের ফ্ল্যাপে হারুন ভাই সম্পর্কে লেখক ও সাংবাদিক ইশতিয়াক আহমেদ লিখেছেন, আমি বেশ গভীরভাবে হারুন ভাইয়ের কর্মকাণ্ড লক্ষ করি ও পড়ি। পড়ে মজা পাই। তিনি সমাজকে অন্য অ্যাঙ্গেলে দেখেন ও তা মানুষকে দেখানোর চেষ্টা করেন। এ দেখানোর চেষ্টায় তার একটা উদ্দেশ্য রয়েছে। তিনি নানা কাজের ভুল ধরিয়ে দেন। ভুল শুধরে নেওয়ার পথ দেখান। সব মিলিয়ে হারুন ভাই অনন্য। হারুন ভাইয়ের মাঝে সবচেয়ে লক্ষণীয় ব্যাপার, তিনি তার আবিষ্কারক অপূর্ণ রুবেলের চেয়েও বুদ্ধিমান।

বইয়ের অন্য ফ্ল্যাপে কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক লিখেছেন, অপূর্ণ রুবেল কথাটির একটি আভিধানিক অর্থ আছে। রুবেল হলো রাশিয়ার কারেন্সি। তার মানে আমাদের অপূর্ণ রুবেল রাশিয়ার টাকার এক টাকার একটু কম। কিন্তু সে বগুড়ার ছোল পুঁটি মাছ মারবার যায়া সে বোল মেরে আনে। অপূর্ণ রুবেল প্রিয় মানুষ, সাংবাদিক ও লেখক। সে ভালো লেখে। তাই হারুন ভাই সিরিজের লেখাগুলো নিয়ে সে বই করেছে। এইবার সে তার নাম বদল করে রাখতে পারে পরিপূর্ণ রুবেল। জয় হোক সাহিত্যিক-গ্রন্থকার অপূর্ণ রুবেলের।

বইটির প্রচ্ছদ করেছেন নিয়াজ চৌধুরী তুলি। কালো প্রকাশনীর ২১৭ নম্বর স্টলে পাওয়া যাবে বইটি। মেলার বাইরে বইটি পাওয়া যাবে রকমারিতে।

অপূর্ণ রুবেলের জš§ বগুড়ার ধুনট উপজেলায়। পারিবারিক নাম হাবিবুল্লাহ সিদ্দিক। স্কুলে থাকতেই লেখালেখিতে হাতেখড়ি হয় তার। প্রথম লেখা প্রকাশিত হয় দৈনিক করতোয়ায়। ধুনট এন ইউ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করার পর ঢাকায় আসেন। ব্যবসায় শাখায় তেজগাঁও কলেজ থেকে এইচএসসি ও সরকারি তিতুমীর কলেজে থেকে মার্কেটিংয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।

কাজ করেছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি সাপ্তাহিক ও দৈনিক পত্রিকায়। এছাড়া গল্প, ফিচার ও ভ্রমণকাহিনি লিখেছেন প্রথম সারির সব পত্রিকায়। এখন নাটক লিখছেন নিয়মিত। তার লেখা ‘সাবলেট’, ‘প্রতি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটা’, ‘রঞ্জনা আমি আবার আসব’, ‘একটি সুখবর’ নামের নাটকগুলো হয়েছে সমাদৃত ও দর্শকনন্দিত। নাটক লেখার সঙ্গে জড়িত তরুণদের নিয়ে তার ‘গল্পের বাড়ি’ নামে একটি টিমও রয়েছে।

২০১০ সালে উৎস প্রকাশন থেকে প্রকাশিত হয় তার ছোটগল্পের বই ‘ঘণ্টার হিসেবে একটি ভালো না বাসার গল্প’। ২০১৭ সালে দেশ পাবলিকেশন্স থেকে প্রকাশিত হয় সাপ্তাহিক ২০০০-এ প্রকাশিত নির্বাচিত ফিচার নিয়ে বই ‘বিচিত্র যত মুখ’।

  মো. ইমরান হোসেন

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..