সম্পাদকীয়

প্রযুক্তির বিকাশে সফটওয়্যার মেলা

বেসরকারি খাতের সবচেয়ে বড় তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক প্রদর্শনী ‘বেসিস সফটএক্সপো ২০১৭’ শুরু হয়েছে গত বুধবার। ‘ফিউচার ইন মোশন’ স্লোগানে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এ মেলার আয়োজক তথ্যপ্রযুক্তি খাতের শীর্ষ বাণিজ্যিক সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)। মেলায় ১০০টির বেশি দেশি প্রতিষ্ঠান তাদের তৈরি সেবা ও সফটওয়্যার প্রদর্শন করছে। মেলায় দর্শনার্থীর উপস্থিতিও চোখে পড়ার মতো।

দেশে আইটি খাত বিকশিত হচ্ছে। এর বিকাশের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি উন্নতমানের সফটওয়্যার রফতানি করে আরও বৈদেশিক মুদ্রা আয় সম্ভব। মানসম্পন্ন সফটওয়্যারের চাহিদা দেশের পাশাপাশি বিদেশেও ক্রমান্বয়ে বাড়ছে।

আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের সুবাদে অনলাইনে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়ছে বিশ্বে। শিল্পোন্নত দেশে এর জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী। বাংলাদেশেও বিশেষত তরুণদের মধ্যে বাড়ছে এর জনপ্রিয়তা। অনলাইনে বেচাকেনায় ঝামেলা কম। এতে ব্যবসা করতে পুঁজিও কম লাগে। এ ধরনের ব্যবসার জন্য শোরুম বা আলাদা অফিসের প্রয়োজন হয় না। গ্রামে বসেও ব্যবসা করা যায়। তরুণরা অনলাইনে ব্যবসার দিকে ঝুঁকছে বেশি। অনেকে প্রথাগত চাকরির পেছনে না ছুটে এ ধরনের ব্যবসায় আগ্রহী এবং অন্যদেরও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করছে। তাছাড়া এ ধরনের ব্যবসায় ঝুঁকি নেই বললেই চলে।

অনলাইনে ব্যবসার জন্য প্রযুক্তি প্রসারের বিকল্প নেই। প্রযুক্তির উৎকর্ষের সঙ্গে এ ধরনের ব্যবসার প্রসার হবে। এজন্য প্রযুক্তিপণ্যের সহজলভ্যতার ব্যবস্থা করতে হবে। কম দামে এর সরবরাহের ওপর নজর দিতে পারেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশের অনেক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বিদেশি নানা অনলাইন প্রতিষ্ঠান থেকে পণ্য কিনে থাকে। যদি দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আন্তর্জাতিক মানের করে তোলা যায়, তাহলে তারাই এক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারবে।

প্রযুক্তি বিকাশে উন্নত সফটওয়্যারের বিকল্প নেই। দেশের যেসব প্রতিষ্ঠান এসব তৈরি করছে, তাদের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। সফটওয়্যার তৈরিতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বরাবরই এগিয়ে। এক্ষেত্রে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো বেশি করে এগিয়ে আসতে পারে। সফটওয়্যারের এমন মেলায় দর্শনার্থী ও আয়োজকদের মধ্যে একটা মেলবন্ধন হয়। অনেক প্রতিষ্ঠান নিজেদের জন্য মেলায় প্রয়োজনীয় সফটওয়্যারের অর্ডার দিয়ে থাকে। তাছাড়া এ মেলায় শিশুদের কোডিং শেখানোর জন্য মাইক্রোসফট একটি কর্মশালার আয়োজন করেছে। এতে ৪০০ শিক্ষার্থী এ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পাবে। দেশের সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর কিাশে এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে বলে মেলা সংশ্লিষ্টরা জানান। সফটওয়্যার ব্যবসা প্রসারে গ্রাহক ও উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এ ধরনের মেলা আরও বেশি করে আয়োজিত হবে এটাই প্রত্যাশা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..