বাণিজ্য সংবাদ

প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণে শিল্পমন্ত্রীর গুরুত্বারোপ

চতুর্থ শিল্পবিপ্লববিষয়ক কর্মশালা

নিজস্ব প্রতিবেদক: চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের উপযুক্ত জনশক্তি গড়ে তুলতে প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন। তিনি বলেন, মানসম্মত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ কর্মিবাহিনী তৈরি করতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বয় ঘটাতে হবে। গতকাল রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ‘ন্যাশনাল কনসালটেশন অন ফোর্থ ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিভোল্যুশন অ্যান্ড ফিচার অব ওয়ার্ক’ শীর্ষক কর্মশালায় তিনি এ কথা বলেন।
জাতিসংঘ শিল্প উন্নয়ন সংস্থা (ইউনিডো) ও এটুআই যৌথভাবে এ কর্মশালার আয়োজন করে। শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন। কর্মশালায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. সৈয়দ গোলাম ফারুক, এমসিসিআইর সভাপতি নিহাদ কবীর ও আইএলসি বাংলাদেশের সিনিয়র স্পেশালিস্ট কিশোর কুমার সিং।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, দেশে নতুন নতুন আধুনিক শিল্পকারখানা স্থাপিত হচ্ছে। এসব কারখানায় এদেশের প্রশিক্ষিত কর্মিবাহিনী দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছে। বেসরকারি খাতে যেসব বিষয়ে দক্ষ কর্মিবাহিনী প্রয়োজন, সেসব বিষয়ে পাঠ্যক্রম প্রণয়ন ও প্রশিক্ষণদানে সহায়তা প্রদানের জন্য বড় বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, পাঠ্যক্রমে আইসিটি শিক্ষা অন্তর্ভুক্তির ফলে জাতীয় অর্থনীতিতে শিল্প খাতের অবদান বাড়ছে। চতুর্থ বিপ্লবের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ জনশক্তি তৈরির লক্ষ্যে রোবোটিকসহ নতুন নতুন বিষয় চালু করা হবে বলে তিনি জানান।
কর্মশালায় মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এটুআই’র পলিসি অ্যাডভাইজার আনির চৌধুরী ও ইউনিডো’র আঞ্চলিক প্রতিনিধি ভ্যান বারকেল রেনে।
আনির চৌধুরী বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রভাবে আগামী ২০ বছরে দেশে শ্রম খাতে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। এর ফলে তৈরি পোশাকশিল্পের ৩০ শতাংশ, ফার্নিচার শিল্পের ৬০ শতাংশ, চামড়া খাতে ৩৫ শতাংশ, ট্যুরিজম খাতে ২০ শতাংশ সর্বমোট ৫৫ লাখ কর্মসংস্থান ঝুঁকির সম্মুখীন হবে। বিশেষ করে, অল্প শিক্ষিত নারী শ্রমিকদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
ইউনিডো’র আঞ্চলিক প্রতিনিধি ভ্যান বারকেল রেনে বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবকালে মানুষ ও যন্ত্র টিমমেট হিসেবে কাজ করবে। এতে শক্তি ও জনশক্তির ব্যবহার কমবে। কাস্টম-মেড পণ্য কম খরচে পাওয়া যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ পরিস্থিতিতে মানবসম্পদ উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা জোরদারকরণ এবং এগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সংস্থান রাখার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোক্তাদের মাঝে সমন্বয় ও সহযোগিতা বাড়াতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ বলেন, বাস্তবায়নাধীন ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চলে আগামী দিনের চাহিদা অনুসারে শিল্প অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। তিনি বর্তমানের নয়, আগামী দিনের প্রযুক্তি দেশে নিয়ে আসার জন্য দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।
জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন বলেন, দেশের সর্বত্র জনশক্তির দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন ফান্ডের প্রস্তাব বর্তমানে মন্ত্রিপরিষদের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। তিনি বলেন, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলো প্রশিক্ষণ প্রদানে সহায়তা ও তদারকি করবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..