সম্পাদকীয়

প্রশ্নপত্র ফাঁস প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নিন

শিক্ষা মানবজীবনকে পূর্ণতা দান করে। শিক্ষার্থীকে কর্মজীবনের চ্যালেঞ্জ সাফল্যের সঙ্গে মোকাবিলা করতে নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক, মানসম্পন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যুগোপযোগী পাঠক্রমের বিকল্প নেই। কিন্তু পরীক্ষা পদ্ধতিও গুরুত্বপূর্ণ। এখানে স্বচ্ছতা-শৃঙ্খলা না থাকলে যোগ্য শিক্ষার্থী বাছাই করা সম্ভব নয়। প্রাতিষ্ঠানিক কিংবা নিয়োগ পরীক্ষায় কোনো ধরনের জালিয়াতি হলে যোগ্যরা ছিটকে পড়ে, অযোগ্যরা উতরে যায়।  মেধা ও যোগ্যতায় অনুত্তীর্ণরা দায়িত্ব পেলে সমাজ, প্রশাসন এমনকি রাষ্ট্র ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই পরীক্ষা পদ্ধতিতে দুর্নীতি কোনোভাবেই কাম্য নয়।

পরীক্ষায় দুর্নীতির প্রথম ধাপ প্রশ্নপত্র ফাঁস। কিন্তু আমরা কোনোভাবেই এ দুষ্টচক্রের দৌরাত্ম্য থেকে বেরিয়ে আসতে পারিনি। বিভিন্ন সময়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস হলেও এর প্রতিকারে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে দায় নিয়ে কাদা ছোড়াছুড়ি চলে। কার আমলে বেশি প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে, তা নিয়ে চলে বিতর্ক। ফলে পার পেয়ে যায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের কুশীলবরা।

২০১৫ সালে মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষায়  প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠে। তখন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর অভিযোগ অস্বীকার করে। যথাসময়ে কলেজগুলো ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ করে। ওই সময়ে যারা এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি হয়েছেন, তারা কদিন পরই পাস করে বের হবেন। পাঁচ বছর পর জানা গেল, ওই সময় প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছিল। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অনুসন্ধানে তা উঠে এসেছে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানায় সংস্থাটি। গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়,  সরকারি মেডিকেল কলেজ, ডেন্টাল কলেজ ও আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজের প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রেসে কর্মরত সদস্য বা তাদের পরিবারের কেউ মেডিকেলের প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে।

জানা যায়, ২০১৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে তদন্তে নামে সিআইডি। গত ১৯ জুলাই জনৈক এসএম সানোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তার করে সাইবার পুলিশ। সানোয়ার ২০১৩, ২০১৫ ও ২০১৭ সালের মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দেন।

ভর্তি, পাবলিক কিংবা নিয়োগ কোনো পরীক্ষায়ই প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়া কাম্য নয়। আমাদের অভিভাবকরাও নকল সরবরাহ ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘৃণ্য কাজে জড়িত হচ্ছেন। খোদ রাষ্ট্রপতিও এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। সময়ের কাজ সময়ে করতে হবে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠলেই তা কম সময়ে খতিয়ে দেখতে হবে। বর্তমানে নতুন পদ্ধতিতে মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষা হচ্ছে। প্রত্যেক শিক্ষার্থীর প্রশ্নপত্র হবে ভিন্ন। অর্থাৎ  প্রশ্নের বিষয়বস্তু এক হলেও একজনের প্রশ্নের সঙ্গে আরেকজনের প্রশ্নের মিল থাকবে না। যে পদ্ধতিতেই পরীক্ষা নেওয়া হোক না কেন স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..