প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

ইসলামী ব্যাংক: বিদেশি অংশীদারদের চাপেই পরিবর্তন: অর্থমন্ত্রী

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: বেসরকারি ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে সম্প্রতি যে পরিবর্তন হয়েছে, তা ব্যাংকটির বিদেশি অংশীদারদের চাপেই হয়েছে বলে দাবি করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

গতকাল রোববার সচিবালয়ে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) নতুন কমিটির সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ দাবি করেন।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ২৪০তম সভায় ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়। ওই সভায় ব্যাংকটির চেয়ারম্যান মুস্তাফা আনোয়ার, ভাইস চেয়ারম্যান আজিজুল হক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল মান্নান স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। এদের পরিবর্তে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান পদে সাবেক সচিব আরাস্তু খান, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ব্যাংকটির নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আহসানুল আলম পারভেজ ও ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে ব্যাংকটির জ্যেষ্ঠ ডিএমডি মাহবুবুল আলমকে মনোনীত করা হয়।

এমসিসিআইর নতুন কমিটির সঙ্গে বৈঠক শেষে বেসরকারি ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে বড় ধরনের এ পরিবর্তনের বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এ মুহূর্তে আমি কোনো মন্তব্য করতে পারবো না। আমি বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি এবং শিগগির ব্যাংকটির নতুন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবো। এ পরিবর্তনটি মনে হচ্ছে ভালোই হবে। তবে আমার মনে হয়, ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদে যে পরিবর্তন হয়েছে, তা ব্যাংকটির বিদেশি পার্টনারদের প্রেশারেই হয়েছে।’

প্রসঙ্গক্রমে তিনি বলেন, ‘ব্যাংকটির ফরেন পার্টনারদের মধ্যে একটা পরিবর্তন হয়েছে। অরিজিনাল পার্টনার এখন আর নেই। একজন নতুন পার্টনার তাদের শেয়ার কিনে নিয়েছে। ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক রিটেইল ইটস শেয়ার। দে থট ইট ওয়ানটাইম টু উইথড্র। বাট উইথ দ্যা চেঞ্জ অব পার্টনার ইন সৌদি এরাবিয়া, দে ডিসাইডেড টু স্টে অন। তাদের প্রেশারেই অনেক কিছু হয়েছে, এসব পরিবর্তন হয়েছে।’

পরিচালনা পর্ষদের এই পরিবর্তন ব্যাংকটির কার্যক্রমে কোনো প্রভাব ফেলবে কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মুহিত বলেন, ‘না, না। ইউ সি, ইসলামিক ব্যাংক ইজ, অ্যাট দ্য মোমেন্ট, নাম্বার ওয়ান ব্যাংক ইন দি কান্ট্রি, ইন টার্মস অব ইটস বিজনেস। দিস এক্সপানশন গোজ টু দ্য ক্রেডিট অব ইসলামী ব্যাংক, দে ডিড ইট। মাই ইনফরমেশন ওয়াজ দিস এক্সপানশন অব সার্ভিসেস রিয়েলি হ্যাপেন্ড বিকজ অব গুড সার্ভিসেস, দে রেন্ডারড টু দেয়ার ক্লায়েন্ট।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘তবে তাদের (ইসলামী ব্যাংক) ব্যাপারে প্রশ্ন আগে থেকেই কিছু কিছু ছিল। তাদের প্রফিট আলটিমেটলি কোথায় যায়, হাউ ইট ইজ ইউজড এসব নিয়ে প্রশ্ন-ট্রশ্ন ছিল। ব্যাংকটির জেদ্দার পার্টনার ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট প্রায় দুই বছর আগে এ বিষয়টি চিঠি দিয়ে আমাকে জানিয়েছিলেন। তারপর থেকেই ব্যাংকটি আমাদের সারভেইলেন্সের অধীনে আছে।’

‘ব্যাংকটি একটি দেশীয় ব্যবসায়ী গ্রুপের হাতে চলে যাচ্ছে’ বলে ব্যাংকপাড়ায় গুঞ্জন রয়েছে। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘দেশীয় ব্যবসায়ী গ্রুপের হাতে চলে যাচ্ছে! আই ডোন্ট নো। আমি এখনো বলতে পারি না যে, কোন কোন গ্রুপ এর মধ্যে ইনভল্ভড আছে।’

শীর্ষ পদে পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় ব্যাংকটিতে আরও কোনো পরিবর্তন হবে কি নাÑ সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি জানি না। বাট আই আন্ডারস্ট্যান্ডÑ ইফ এমডি অ্যান্ড চেয়ারম্যান হ্যাভ বিন চেইঞ্জড, কমনসেন্স সাজেস্টস দ্যাট ইজ ডেফিনেটলি বিগ চেঞ্জ।’