মত-বিশ্লেষণ

প্রসঙ্গ করোনা, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও মুনাফাখোরদের দৌরাত্ম্য

তৌহিদুর রহমান: চীন থেকে ছড়ানো করোনাভাইরাসের কারণে গোটা বিশ্ব এখন টালমাটাল। এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১৪ হাজার জনের। আক্রান্তের সংখ্যা তিন লাখ ছাড়িয়েছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন আক্রান্তের খবর আসছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মতো উন্নত দেশ ও অঞ্চলগুলোও করোনার হাত থেকে রক্ষা পায়নি। ফলে গোটা বিশ্বের জন্যই আতঙ্ক আর উদ্বেগের কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে করোনাভাইরাস। অনেক দেশে ভাইরাস পরীক্ষার কিট থেকে শুরু করে মাস্ক, স্যানিটাইজার নিয়ে হুলস্থুল পড়ে গেছে। জরুরি ওষুধসামগ্রী ও খাদ্যপণ্য নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। সব মিলিয়ে করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে যেসব সামগ্রীর প্রয়োজন, সেগুলোর সংকট তৈরি হওয়া বা ইতোমধ্যে সে পরিস্থিতিতে পড়ার মতো পরিবেশ তৈরি হয়েছে। করোনাভাইরাসের লাগামহীন যাত্রার সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর সংকট উদ্বেগ বাড়িয়ে দিচ্ছে সন্দেহ নেই।

প্রায় তিন মাস ধরে করোনাভাইরাসের দৌরাত্ম্য চললেও শুরুতে বাংলাদেশ নিরাপদ ছিল। তবে চলতি মাসের শুরুর দিকে প্রথমবারের মতো তিনজনকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত করার ঘোষণা দেয় সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)। তারা সবাই সুস্থ হয়ে উঠলেও নতুন করে আরও কয়েকজনকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। অবশ্য এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, এ কথা বলা চলে। তবে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার পর অন্যভাবে অরাজকতা সৃষ্টি হয়েছে দেশে। সে জন্য এক শ্রেণির মুনাফাখোর বিক্রেতা এবং কিছু কাণ্ডজ্ঞানহীন মানুষ এজন্য বেশি দায়ী। সরকারের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্তদেরও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যর্থ হওয়ার দায় রয়েছে।

বিষয়টি একটু স্পষ্ট করি। চীনে যখন করোনাভাইরাস ছড়ানো শুরু হয়, তখন এর প্রতিরোধে মাস্ক বেশ কার্যকরÑএমন তথ্য প্রকাশ পায়। এছাড়া পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী বিশেষত হ্যান্ড স্যানিটাইজার, হ্যান্ডওয়াশের মতো পণ্যগুলোর কার্যকারিতার কথাও সামনে আসে। ওই তথ্যের সূত্র ধরেই বাংলাদেশে চরম বিশৃঙ্খলাপূর্ণ পরিস্থিতির সূচনা হয়েছে। দেশে যখন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করার তথ্য প্রকাশ পেল, তখন জরুরি ওই পণ্যগুলো নিয়ে হুলস্থুল পড়ে যায়। একশ্রেণির মানুষ মাস্ক, হ্যান্ডওয়াশের মতো পণ্য সংগ্রহ করার জন্য ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়ে। কিছু মানুষ সুপারশপ থেকে এ ধরনের সব পণ্য কিনে নিয়েছেন এমন তথ্যও সামনে আসে। কিছু স্থানে রীতিমতো লাইন দিয়ে পণ্যগুলো কিনতে দেখা গেছে। ফলে করোনায় আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার ঘণ্টা না পেরোতেই সুপারশপ, বিভিন্ন দোকান ও ফার্মেসি থেকে পণ্যগুলো উধাও হয়ে যায়।

এক শ্রেণির মানুষের কাণ্ডজ্ঞানহীন আচরণ ওই পরিস্থিতি তৈরি করতে মূল ভূমিকা পালন করেছে সন্দেহ নেই। জরুরি সময়গুলোয় কিছু মানুষের এমন অবিবেচনাপ্রসূত আচরণই এক শ্রেণির মুনাফাখোর ব্যবসায়ী ও বিক্রেতার বাড়তি অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার সুযোগ করে দেয়। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। যে মাস্ক আগে পাঁচ টাকা কিংবা ৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। করোনাভাইরাসের খবর সামনে আসার পর সেগুলোর দামই বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৩০ টাকা থেকে শুরু করে ১৫০-২০০ টাকা পর্যন্ত। হ্যান্ড স্যানিটাইজার কিংবা হ্যান্ডওয়াশ বিক্রি হয়েছে দ্বিগুণ কিংবা তিনগুণ বেশি দামে। যেসব বিক্রেতাদের কাছে বাড়তি পণ্য ছিল তারা এক রাতেই আঙুল ফুলে কলাগাছ! এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে জেনেও সরকারের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্তরাও প্রয়োজনীয় পূর্বপ্রস্তুতি নিতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে ঘটনার সময় যা হওয়ার সম্ভাবনা ছিল, সেটিই দেখেছি আমরা!

শুধু করোনাভাইরাসের কারণেই যে বাজারে এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, ব্যাপারটি কিন্তু তা নয়। দেশে বিশেষ বিশেষ উপলক্ষগুলোয় দ্রব্যমূল্য বাড়িয়ে দেওয়া হয় কয়েকগুণ পর্যন্ত। রমজান, দুই ঈদ এবং পূজা-পার্বণের মতো উৎসবের সময়গুলোয় বেরিয়ে আসে মুনাফাখোর অসৎ ব্যবসায়ীদের আসল চেহারা। কোনো ধরনের দুর্যোগ হলেও দ্রব্যমূল্য বাড়িয়ে দেন তারা। সবসময়ই একটা কমন বিষয় দেখা যায়, সেটি হলো সাধারণ মানুষ তাদের কাছে জিম্মি থাকে। দ্রব্যগুলো প্রয়োজনীয় হওয়ায় মানুষ কিনতেও বাধ্য থাকেন। অর্থাৎ মানুষকে জিম্মি করে ওই শ্রেণির ব্যবসায়ীরা বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। এটি স্পষ্টতই গুরুতর অপরাধ এবং ভোক্তা অধিকারের লঙ্ঘনÑতা বলে না দিলেও চলে।

আবারও দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র মাহে রমজান। আর মাত্র এক মাস পরেই ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের সিয়াম সাধনার মাসটি শুরু হচ্ছে। এ মাসে সারাদিন রোজার পর সন্ধ্যায় ইফতারে কিংবা ভোররাতে সেহরির খাবারের তালিকায় পুষ্টিকর খাবার রাখার চেষ্টা করেন সবাই। ফলে কিছু নির্দিষ্ট ধরনের খাবারের চাহিদা রমজান মাসে বেড়ে যায়। এরই মধ্যে অনেকগুলোর দামও বেশি। মানুষের এই স্বাভাবিক চাহিদাকেই সুযোগ হিসেবে নিয়ে আসছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। রমজান কিংবা ঈদ এলেই পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন তারা। সরকার নানা ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলে প্রতি বছর। কিন্তু কাজের কাজ কতটা হয় তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। আর দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন উঠলে চক্রগুলো নানা ধরনের খোঁড়া অজুহাত সামনে নিয়ে আসেন। অনিয়ম-দুর্নীতির সুযোগ তো তারা নিচ্ছেনই। কিছু ব্যক্তিকে ম্যানেজ করে তারা হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা।

রমজান সামনে রেখে এবারও আগে থেকেই আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকারের বিভিন্ন মহলে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রস্তুতি নেওয়ার কথাও চলছিল। তবে করোনাভাইরাসের বিস্তার দ্রব্যমূল্য নিয়ে আগেই উদ্বেগ তৈরি করে দিল। এখন সামনে রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য কতটা নিয়ন্ত্রণে থাকবে তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। এই অজুহাতে রমজানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার শঙ্কা থেকেই যায়। ইতোমধ্যে মানুষ শঙ্কিত হয়ে কয়েক মাসের জন্য পণ্য মজুত করা শুরু করেছে। ফলে বেড়ে গেছে, চাল, পেঁয়াজসহ বেশকিছু পণ্যের দাম। সে দৃষ্টিকোণ থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রস্তুতি শুরুর প্রয়োজন এখন থেকেই। অন্যথায় সময় গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে কি না, তা বলা মুশকিল।

রমজানে ছোলা, খেজুর থেকে শুরু করে তেল, শসা, চিনি, মাছ, মাংস, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, বেগুন, টমেটো, আপেল, কমলা, খেজুর, আঙ্গুরসহ কিছু নির্দিষ্ট পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। এর বড় অংশ আবার আসে দেশের বাইরে থেকে। দেখা যায়, প্রায়ই পণ্যগুলোর ন্যায্য দাম সম্পর্কে ক্রেতাদের কোনো ধারণা থাকে না। ব্যবসায়ীরা যে দাম বলেন সেটিই মেনে নিতে হয়। ফলে তারা যে দাম নির্ধারণ করেন সে দামেই পণ্যগুলো পাইকারি বিক্রি হয়। আর খুচরা বাজারে গিয়ে বেড়ে যায় আরও বেশি। এক্ষেত্রে তাদের ওপর সরকারের কতটা নিয়ন্ত্রণ রয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন দীর্ঘদিনের। অনেকের মত, আমদানি করা পণ্যের বিষয় সরকারের যথাযথ মনিটরিং থাকত, তাহলে ব্যবসায়ীরা এভাবে দাম বৃদ্ধির সুযোগ পেত না। আর আমদানি দাম সম্পর্কে কোনো ধরনের ধারণা না থাকায় যে দাম চাওয়া হয় সে দামেই ক্রেতারা পণ্য কিনতে বাধ্য হন। বিভিন্ন সময় খবর আসে, আমদানি পণ্য  কেনা দামের তুলনায় পাইকারি ও খুচরা বাজারে দ্বিগুণ-তিনগুণ পর্যন্ত বেশি রাখা হয়।

নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের বাজার প্রায় প্রতিবছরই রমজান মাসকে সামনে রেখে অস্থির হয়ে ওঠে। ফলে আগে থেকেই সরকারিভাবে নানা ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়। দাম বৃদ্ধি করলে নানা ধরনের শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে বলেও হুশিয়ারি দেওয়া হয়। কিন্তু বাস্তবে তা কতটা ফলপ্রসূ হয় তা নিয়ে জনমনে যথেষ্ট প্রশ্ন রয়েছে। সরকারের সতর্কতা সত্ত্বেও এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী মোটেও কর্ণপাত করেন না। এবারও রমজানে খাদ্যপণ্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের ওপর মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি খাদ্যে ভেজাল রোধ ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার কথা বলেছেন। তবে করোনাভাইরাস নিয়ে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তা নিয়ে তো অনিশ্চয়তা তৈরি হলোই, এটি কতদিন থাকবে তাও কারো জানা নেই। সঙ্গে সামনে রমজান। ফলে পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছেই।

সাম্প্রতিক বছরগুলোয় রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির আশঙ্কায় অনেক ক্রেতা আগে থেকেই কিছু পণ্য কিনে রাখার প্রবণতা দেখা গেছে। তবে সে বিষয়টিও এখন ব্যবসায়ীদের নখদর্পণে। ফলে রমজান শুরুর অন্তত এক মাস আগে থেকেই পণ্যের দাম বাড়াচ্ছেন তারা। এবারও সে অভিযোগ সামনে আসতে শুরু করেছে। এবার করোনাভাইরাসের ভয়াবহতা উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। আগে থেকে সতর্ক নজর না রাখা গেলে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠতে পারে। করোনাভাইরাস নিয়ে উদ্বেগ ছড়ানোর পর মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও পরিচ্ছন্নতা সামগ্রী নিয়ে যে অরাজকতা শুরু হয়েছে, তাতে সে শঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বাস্তবতা হলো, সে আশঙ্কা ইতোমধ্যে সত্য হতে শুরু করেছে।

বিশেষ উপলক্ষে অথবা দুর্যোগের কারণে অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট করে দাম বৃদ্ধি করার এ প্রবণতা নতুন নয়। কোনো কিছুর আভাস পেলে আগে থেকেই পণ্য আমদানি করে গুদামজাত করা হয়, পরে সুযোগ বুঝে দাম বৃদ্ধি। কিছু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে এ বাজার থাকলেও এতে জড়িয়ে আছে অনেক প্রভাবশালী। এবার করোনাভাইরাস পরিস্থিতির মধ্যে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ কয়েকটি স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযানও চালিয়েছে। কিন্তু পরিস্থিতি কতটা নিয়ন্ত্রণ করা গেছে তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। দেশে আরও একটি উদ্বেগজনক ব্যাপার ঘটতে দেখা যায় প্রতিবছর। যে পণ্যের দাম একবার বাড়ে, পরে তা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আর কমে না। ফলে বিশেষত নি¤œ আয়ের ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির ওপর বাড়তি চাপ পড়ে যায়। এভাবে দাম বৃদ্ধি কারা করছে, তা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জানা কঠিন কিছু নয়, হয়তো জানাও। তারা সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অর্থও হাতিয়ে নিচ্ছে, তারপরও তাদের নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা হতাশাজনক।

আমাদের মনে রাখতে হবে, এভাবে বারবার দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির চাপে পিষ্ট হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। এতে তাদের জীবন হয়ে উঠছে দুর্বিষহ। অনেক মানুষের যেখানে প্রতিদিনের খাবার জোগাড় করতে গিয়েই হিমশিম খেতে হয়, সেখানে এভাবে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি তাদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করে। বড় চাপ তৈরি হয় সৎ সরকারি ও বেসরকারি চাকরিজীবীদেরও। এমনিতেই তাদের আয় প্রতিমাসে নির্দিষ্ট, ব্যয়ও করতে হয় হিসাব করে। সেখানে বাড়তি খরচের বোঝা তাদের জন্য কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করে। এজন্য যে কোনো পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী থেকে শুরু করে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশসহ (টিসিবি) সবার দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন গুরুত্বপূর্ণ। এবার রমজান সামনে রেখে করোনাভাইরাসের বিস্তারের বিষয়টি মাথায় রেখে নজরদারি ও আইনের যথাযথ প্রয়োগ আরও বাড়ানো জরুরি। সঙ্গে নতুন একটি দাবি উঠতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীকে কাজে লাগানোর কথা বলছেন অনেকে, যা খুবই যৌক্তিক। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে সামরিক বাহিনীকে কাজে লাগানোর বিষয়টি গুরুত্বসহকারে ভেবে দেখতে হবে।

অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে এখনই তৎপরতা বাড়াতে হবে। তারা যতই ক্ষমতাধর হলেও কোনো ছাড় দেওয়া চলবে না, আইনানুযায়ী কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। পণ্যের দাম ঠিক রাখতে কঠোরভাবে মনিটরিং করা প্রয়োজন। এজন্য সাময়িক নয়, দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা গড়ে তোলার দিকে নজর দিতে হবে। প্রশাসনের কর্তাব্যক্তি, প্রভাবশালী নেতা বা অন্য কেউ এ ধরনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকলে ব্যবস্থা নিতে হবে তাদের বিরুদ্ধেও। দ্রব্যমূল্য বাড়া বা কমার সঙ্গে সাধারণ মানুষের ভাগ্য জড়িত থাকায় এতে ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সর্বোপরি সাধারণ মানুষ যদি সচেতন হয়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে পারেÑতাহলে এ ধরনের অসৎ ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। দায়িত্বশীল ও সৎভাবে ব্যবসা করতে হবে ব্যবসায়ীদেরও।

গণমাধ্যমকর্মী

[email protected]

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..