দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

প্রস্তাবিত বাজেটের চেয়েও ১০ বছরে বেশি অর্থ পাচার হয়েছে: মওদুদ

নিজস্ব প্রতিবেদক: এক দশকে যত অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে, তার পরিমাণ আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের চেয়েও বেশি বলে দাবি করেছেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ।
গতকাল রাজধানীতে এক মানববন্ধনে তিনি বলেন, ‘গত এক দশকে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার বা পাঁচ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়ে গেছে। এটি বর্তমান বাজেটে যে অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে, তারচেয়েও বেশি।’
এই অর্থ কারা পাচার করছে প্রশ্ন রেখে মওদুদ বলেন, ‘যারা এ সরকারের মদতপুষ্ট হয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য করছে, তারাই এই কালোটাকা করেছে, দেশে বিনিয়োগ না করে তারা বিদেশে এ টাকা চালান করেছে। আজকে আপনি কানাডা যান, মালয়েশিয়া যান, নিউইয়র্কে যান, অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে যান। আপনি দেখবেন বড় বড় মল, বড় বড় বাড়ি, বড় বড় দোকান, বড় বড় ব্যবসা-বাণিজ্য সব আওয়ামী লীগের পৃষ্ঠপোষকতায় অর্থ পাচার করে সেখানে তারা গড়ে তুলছে, ব্যবসা করছে।’
এ সরকারের পতন হলে ‘বাংলাদেশের মাটিতে থাকা খুব কঠিন হবে’ বুঝে নিজেদের জন্য তারা একটি বিকল্প ঘরবাড়ির ব্যবস্থা করে রেখেছে বলে মন্তব্য করেন বিএনপির এই নেতা।
তৃতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেট গত বৃহস্পতিবার সংসদে পেশ করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। প্রস্তাবিত বাজেটে ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য পাঁচ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
‘এ বাজেট সরকারের সুবিধাভোগীদের জন্য’ বলে মন্তব্য করে সাবেক আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বলি, এই বাজেট জনসাধারণের জন্য নয়। এ বাজেটের মাধ্যমে দরিদ্র আরও দরিদ্র হবে, ধনী আরও ধনী হবে। কালোটাকা সাদা করার ব্যবস্থা গত ১০ বছর যাবৎ এই সরকার রেখেছে। কেন? তাদেরই লোকজন, তাদেরই মদতপুষ্ট লোকেরা, তাদেরই স্বার্থান্বেষী যেসব ব্যক্তি আছে, তারাই এই কালোটাকার মালিক। এই কালোটাকা সাদা করার উদ্দেশ্য হলো ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের বা ব্যক্তিদের, যারা অনেক কালোটাকা করেছে এবং ‘আন্ডার দ্য কার্পেট’ অর্থ উপার্জন করেছেÑসেই অর্থকে সাদা করার আবার একটি সুযোগ দেওয়া।’
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি আন্দোলনের জন্যও সবাইকে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান বিএনপি স্থায়ী কমিটির এ সদস্য। আমরা বলতে চাই, আইনি প্রক্রিয়ায় আমরা বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যবস্থা করতে যথাসাধ্য চেষ্টা করব। তবে তার সত্যিকারের মুক্তি আসবে আন্দোলনের মাধ্যমে। রাজপথেই বেগম জিয়ার মুক্তি নিশ্চিত হতে পারে। সেজন্য আমাদের সংগঠিত হতে হবে, আমাদের কর্মসূচি দিতে হবে এবং এমন কর্মসূচি দিতে হবে যাতে করে সরকার বাধ্য হয় তাকে মুক্তি দিতে।’
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের উদ্যোগে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে এ মানববন্ধন হয়। সংগঠনের সহসভাপতি মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহমেদ খানের পরিচালনায় মানববন্ধনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা বক্তব্য দেন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..