প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

প্রাতিষ্ঠানিকদের আগ্রহে বিনিয়োগের শীর্ষে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান

শেখ আবু তালেব: বিদায়ী সপ্তাহের শুরুটা ছিল সূচকের নেতিবাচক প্রবণতার মধ্য দিয়ে। কিন্তু শেষের দিনগুলোয় সব সূচকের উত্থান ঘটে। অবশ্য মিশ্র প্রবণতা দেখা গিয়েছে শেয়ার ও ইউনিটের বাজারদরে। লেনদেন কম হলেও সূচকের উত্থান নিয়ে বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, হঠাৎ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ দেখা গিয়েছে ব্যাংক ও ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে। এতে ভর করে সূচকের পতন ঠেকেছে।

এ সময় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মোট লেনদেনের প্রায় এক তৃতীয়াংশ অবদান রাখে ব্যাংক খাত। অন্যদিকে সাপ্তাহিক গেইনারের দিক দিয়ে শীর্ষে ছিল জ্বালানি ও আর্থিক খাত দুটো। কিন্তু এ সময় ব্যাংক খাতের বিনিয়োগকারীরা আগের সপ্তাহের তুলনায় এক দশমিক পাঁচ শতাংশ গেইনার দেখতে পেয়েছেন।

গত ২ ডিসেম্বর সমাপ্ত ডিএসইর সাপ্তাহিক তথ্য বিশ্লেষণ করে পাওয়া গেছে এমন তথ্য। জানা গেছে, ডিএসইতে এ সময় মোট ৩৮৪টি সিকিউরিটিজ লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে দর বৃদ্ধি পায় মাত্র ১৭৬টির, শেয়ারদর হ্রাস পায় ১৬৮টির, অপরিবর্তিত ছিল ৩৬টির ও লেনদেন হয়নি চারটির।

ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমে ৮৪ দশমিক ১১ পয়েন্ট, ডিএস৩০ কমে যায় ৩৩ পয়েন্ট ও ডিএসইএস বাড়ে ১৬ দশমিক ৫৩ পয়েন্ট। একই সঙ্গে লেনদেন কমে যায় ২০ শতাংশ।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে সময় পার করছে দেশের পুঁজিবাজার। এ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের তৎপরতা অনেক সময় ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের বোধগম্যের বাইরে থাকে। বিশেষ করে, কয়েকটি খাতের প্রতি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ সেই প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ মনে করছেন, পুঁজিবাজার ইস্যুতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছে। আইনের ব্যাখ্যা ও আইন সংশোধনের বিষয়ে আলোচনা চলছে। কিন্তু কোনো সিদ্ধান্ত হচ্ছে না। দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থাই একই রকম সিদ্ধান্তের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ভিন্ন বক্তব্য দিচ্ছে। এতে বাজারে নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করছে।

বিষয়টি সমাধানের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিয়েছে। বিষয়টি ইতোমধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এ তথ্যর ওপর ভর করে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা সক্রিয় হয়েছেন। কিন্তু এটি স্বতঃস্ফূর্ত ও আর্থিক মানদণ্ডের আলোকে কিনা, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে ইতোমধ্যে। বর্ধিত এ দামের শেয়ারগুলো বিক্রয়ে শেষ পর্যন্ত ক্রেতা পাওয়া যাবে কিনা, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

বিশেষ করে ব্যক্তি পর্যায় থেকে বিক্রয় চাপ বেশি ছিল গত সপ্তাহে। এতে বেশিরভাগ শেয়ারের দরপতন হয়। এরপরও মৌলভিত্তির খাতের মধ্যে ব্যাংক ও ওষুধ খাতের শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেশি দেখা গেছে।

জানা গেছে, এ পতনের বাজারেও গত সপ্তাহে ব্যাংক, বিমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, প্রকৌশল, সিরামিক ও ওষুধ খাত ইতিবাচক ধারায় লেনদেন শেষ করেছে। এ সময় ডিএসইর মোট লেনদেনে শীর্ষে উঠে আসে ব্যাংক খাত। মোট লেনদেনের ২৮ দশমিক ৯ শতাংশই অবদান রাখে খাতটি। এরপর থাকা ওষুধ খাত ১৩ দশমিক চার, বস্ত্র খাত আট দশমিক ৯, প্রকৌশল খাত চার দশমিক আট, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত চার দশমিক ৯, জীবন বিমা তিন দশমিক পাঁচ ও সাধারণ বিমা দুই দশমিক ৯ শতাংশ অবদান রাখে।

একক কোম্পানি হিসেবে ডিএসইতে শেয়ারের দর বৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায় উঠে আসে সেনা কল্যাণ ইন্স্যুরেন্স, এক্মি পেস্টিসাইডস ও ওরিয়ন ইনফিউশনস। অন্যদিকে আলোচিত সময়ে দর হারানোর শীর্ষ তালিকায় ছিল আরামিট সিমেন্ট, তুংহাই নিটিং ও এইচ আর টেক্সটাইল।