সম্পাদকীয়

প্রাতিষ্ঠানিক তহবিলের অপব্যবহার রোধ করুন

সঞ্চয় দুর্দিনের অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। সাধারণ মানুষকে সঞ্চয়ী হতে উদ্বুদ্ধ করা, বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে থাকা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সঞ্চয় জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের মাধ্যমে সংগ্রহ করা, সঞ্চয় স্কিমের মাধ্যমে দেশের বিশেষ বিশেষ জনগোষ্ঠী, যেমন নারী, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিক, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং শারীরিক প্রতিবন্ধীদের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় আনতে সহায়ক ভূমিকা রাখার উদ্দেশ্যে গঠিত হয় জাতীয় সঞ্চয় পরিদফতর। কর্মপরিধি বেড়ে যাওয়ায় ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে এটিকে জাতীয় সঞ্চয় অধিদফতরে উন্নীত করা হয়। কিন্তু বিধি যথানিয়মে পরিপালিত না হওয়ায় প্রকৃত লক্ষ্য পূরণ করতে পারছিল না সংস্থাটি। অপেক্ষাকৃত ধনাঢ্য ব্যক্তিরা এর সুফল ভোগ করছিল। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের আক্ষেপের অন্ত ছিল না। বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি প্রজ্ঞাপন তাদের মনে আশার সঞ্চার করবে বলেই ধারণা। কৃষিভিত্তিক কয়েকটি ফার্মের আয় ছাড়া সঞ্চয়পত্রে অন্য কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ যাতে না করা হয়, সেজন্য সতর্কবার্তা জারি করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
গতকাল শেয়ার বিজে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। খবরে জানা যায়, কৃষিভিত্তিক নির্দিষ্ট কয়েক ধরনের প্রতিষ্ঠানের আয় দ্বারা পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র কেনা যাবে। অথচ কৃষিভিত্তিক না হওয়া সত্ত্বেও এখানে বিনিয়োগ করে আসছে অনেক প্রতিষ্ঠান। এ অপব্যবহার ঠেকাতে ‘সঞ্চয়পত্র বিধিমালা ১৯৭৭’ যথাযথভাবে অনুসরণের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
ওই বিধিমালায় বলা হয়েছে, মৎস্য, হাঁস-মুরগির খামার, পোলট্রি ফিড, বীজ উৎপাদন, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বীজ, গবাদিপশু বিপণন, কৃষিকাজ, দুগ্ধখামার, উদ্যানপালন, ব্যাঙ চাষ, মাশরুম চাষ, ফুলের চাষ, রেশম উৎপাদন প্রভৃতি থেকে প্রাপ্ত কোনো আয় দিয়ে সঞ্চয়পত্র কেনা যাবে। বিভিন্ন সময় এ আইন সংশোধন করা হলেও আইন প্রণেতা ও নীতিনির্ধারকরা উপরোক্ত বিধি পরিবর্তন করেননি। এটি পরিপালিত হলে উপকারভোগী হতো সীমিত আয়ের কর্মজীবীরা। অথচ বছরের পর বছর উচ্চ সুদহারের কারণে প্রাতিষ্ঠানিক তহবিল দিয়ে সঞ্চয় স্কিম কেনা হচ্ছে। আমরা চাই কেবল তাগিদ দেওয়ার মধ্যেই নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাজ সীমাবদ্ধ থাকবে না। যথাযথ নজরদারি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করলেই জাতীয় সঞ্চয়পত্রের সুফল পাবে সাধারণ মানুষ।
এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ডের নামে বড় অঙ্কের অর্থ সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করা হলেও সেটি কতটা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের কল্যাণে ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটিও খতিয়ে দেখার বিষয়।
বর্তমানে ‘জাতীয় সঞ্চয় স্কিম অনলাইন ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি’র মাধ্যমে দেশের সব স্থানে সঞ্চয়পত্র বিক্রি করা হচ্ছে। ঠিক একইভাবে এটি নজরদারি করা গেলে প্রাতিষ্ঠানিক তহবিল দিয়ে সঞ্চয় স্কিম কেনার প্রবণতা কমবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..