দিনের খবর প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর সক্রিয়তায় ইতিবাচক সূচক

শেখ আবু তালেব: বিক্রির চাপ থাকলেও গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ইতিবাচক ধারায় লেনদেন শেষ হয়েছে। অবশ্য অধিকাংশ সিকিউরিটিজের শেয়ারে দরপতন হয়েছে। কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা সচল হওয়ায় সূচক নেতিবাচক হতে পারেনি। এ সময় সাধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মৌলভিত্তির শেয়ারে আগ্রহ বেশি দেখা গেছে।

গতকাল দেশের প্রধান স্টক এক্সচেঞ্জ ডিএসইতে সব সূচকই ইতিবাচক ধারায় লেনদেন শেষ করে। ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় লেনদেন শুরু হয় গতকাল। কিন্তু সময়ের আলোকে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স পতন হতে থাকে। পরবর্তী সময়ে কয়েক দফায় চলে উত্থান-পতন।

শেষ মুহূর্তে অল্পের জন্য পতনের হাত থেকে রক্ষা পায় সূচক। ফলে পূর্ববর্তী দিনের চেয়ে মাত্র শূন্য দশমিক ৩৫ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়। গতকাল ডিএসইতে মোট ৩৩৪ সিকিউরিটিজের লেনদেন হয়। এর মধ্যে শেয়ারদর বৃদ্ধি পায় ১২৪টির, কমে ১৭৫টির, দর অপরিবর্তিত ছিল ৩৬টির।

জানা গেছে, সূচকের পতন ঠেকেছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তায়। এ সময় তারা মৌলভিত্তির কোম্পানির শেয়ারে বেশি আগ্রহ দেখিয়েছে। ফলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরাও লেনদেনে অংশ নেন। এতে মৌলভিত্তির কোম্পানির শেয়ারদরে মিশ্র প্রবণতা দেখা  গেছে। অপরদিকে গতকাল সর্বোচ্চসংখ্যক শেয়ার লেনদেন করে গ্রামীণফোন।

গতকাল ডিএসইতে মোট ৩০৮ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। খাতওয়ারি তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এতে ব্যাংক খাতের অবদান ছিল ১০ শতাংশ, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হারে বেশি। তারপরও ৩০ ব্যাংকের মধ্যে গতকাল ১২টির শেয়ারদর বৃদ্ধি  পেয়েছে, কমেছে ১২টির ও অপরিবর্তিত ছিল ছয়টির।

বড় মূলধনি খাতের মধ্যে গতকাল সবচেয়ে  বেশি তিন দশমিক ৭৪ শতাংশ গেইনারে ছিল টেলিকম খাত। এছাড়া ব্যাংক খাত শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ, ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) খাত শূন্য দশমিক ১৬ শতাংশ গেইনারে ছিল। অপরদিকে লোকসানের তালিকায় শীর্ষে চলে এসেছে খাদ্য ও অনুষঙ্গিক খাতের শেয়ার। এ খাতটি গতকাল সর্বোচ্চ শূন্য দশমিক ৬৬ শতাংশ লোকসান গুনেছে। একই সঙ্গে লোকসান গুনেছে প্রকৌশল খাতের শেয়ারদর। এ খাতে শূন্য দশমিক ৪৫ শতাংশ লোকসান গুনেছেন বিনিয়োগকারীরা।

আগের দিনের মতো ডিএসইর মোট লেনদেনে গতকাল সর্বোচ্চ অবদান রেখেছে সাধারণ বিমা খাত। গতকালও খাতটি ২০ শতাংশ অবদান রেখেছে। কিন্তু খাতটির শেয়ার সবচেয়ে বেশি হাতবদল হলেও অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদরে পতন হয়েছে।

গতকাল এ খাতটির ৩৫ কোম্পানির শেয়ারদর পতন হয়; মাত্র ১২টির উত্থান হয়। অবশ্য বিনিয়োগকারীরা বলছেন, কয়েকটি ছাড়া বাকিগুলোর দর খুব বেশি পতন হয়নি। এটিকে দর সংশোধনও বলা যায়। কারণ, গত কয়েক দিন ধরেই সাধারণ বিমা খাতের শেয়ারদর বৃদ্ধি পেয়ে আসছে। তাই খাতটিতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেশি দেখা গেছে। তাদের মধ্যে অনেকেই অল্প লাভে শেয়ার ছেড়ে  দেওয়া শুরু করেন। এজন্য কিছুটা বিক্রির চাপ থাকায় শেয়ারদর পতন হয়েছে অধিকাংশের।

এছাড়া ডিএসইর মোট লেনদেনে খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাত চার শতাংশ, প্রকৌশল ১৩ শতাংশ, সিমেন্ট এক শতাংশ, সিরামিক দুই শতাংশ, বস্ত্র সাত শতাংশ, ট্যানারি তিন শতাংশ, ওষুধ ও রসায়ন ১০ শতাংশ, মিউচুয়াল ফান্ড চার শতাংশ, জীবন বিমা তিন শতাংশ ও আইটি খাত দুই শতাংশ অবদান রাখে।

গতকাল ডিএসইর ব্লক মার্কেটে মোট ১১ কোম্পানি লেনদেন করে। এতে মোট ৯ কোটি ৫৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। সবচেয়ে বেশি তিন কোটি ৫৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন করে ব্র্যাক ব্যাংক।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ »

সর্বশেষ..