বিশ্ব বাণিজ্য

প্রাথমিক বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে শুল্ক প্রত্যাহারের শর্তে অনড় চীন

শেয়ার বিজ ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য উত্তেজনা প্রশমনে প্রথম পর্যায়ের চুক্তির জন্য শর্ত হিসেবে শুল্ক প্রত্যাহারের দাবিতে অনড় রয়েছে চীন। গতকাল বৃহস্পতিবার চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কথা জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জাও ফেং এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, চীন মনে করে, দুই পক্ষ প্রাথমিক বাণিজ্যচুক্তিতে পৌঁছাতে চাইলে একই সঙ্গে শুল্কও প্রত্যাহার করতে হবে। খবর: রয়টার্স।

এদিকে চীনের শিল্প খাতে নতুন বিনিয়োগের প্রবৃদ্ধি ক্রমেই নি¤œমুখী হচ্ছে বলে নতুন এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক বিশ্লেষণে জানানো হয়েছে, চীনের অর্থনীতি এখন বেশ ধীরগতিতে চলছে। এছাড়া শক্ত নীতি ও দীর্ঘায়িত হওয়া বাণিজ্যযুদ্ধ ক্রমেই উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। ফলে দেশটির বিভিন্ন খাতে নতুন বিনিয়োগ কমে আসছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে টালমাটাল হয়ে উঠেছে বিশ্ব অর্থনীতি। তবে গত নভেম্বরে বাণিজ্য উত্তেজনা প্রশমনে প্রাথমিক পর্যায়ের চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। নতুন চুক্তি না হলে আগামী ১৫ ডিসেম্বর থেকে ১৫ হাজার ৬০০ কোটি ডলারের চীনা রপ্তানি পণ্যে নতুন করে শুল্কারোপ করবে যুক্তরাষ্ট্র।

তবে উভয় পক্ষই এ চুক্তির ব্যাপারে আন্তরিক বলে দাবি করে আসছে। জাও ফেং সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, চুক্তির ব্যাপারে উভয় পক্ষই যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। যদিও হংকং ও উইঘুর মুসলিম ইস্যুতে দুদেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও তলানিতে পৌঁছেছে। এতে প্রাথমিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে শঙ্কা ক্রমেই বাড়ছে। চীন হুশিয়ারি দিয়ে বলেছে, জিনজিয়াং প্রদেশের মুসলিমদের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে বেইজিং। এছাড়া দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলেও হুশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে।

দু’পক্ষের মধ্যকার বাণিজ্যযুদ্ধের অবসান হবে কি নাÑতা নিয়ে যখন নানা সংশয় রয়েছে, তখন চীনের পক্ষ থেকে এ মনোভাব ব্যক্ত করা হলো। সম্প্রতি চীন কিছু বাণিজ্যযুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু অবিশ্বাসযোগ্য বস্তুর তালিকা প্রকাশ করার ইঙ্গিত দেয়। তবে চলতি বছর ওই তালিকা প্রকাশ করা হবে কি নাÑএমন প্রশ্নের জবাবে কোনো তথ্য দিতে পারেননি জাও ফেং।

এদিকে অর্থনৈতিক মন্দাসহ নানা কারণে কঠিন সময় পার করছে চীনের শিল্প খাত। ক্রমেই বিনিয়োগ কমার পাশাপাশি সব সূচক রয়েছে। একটি বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে,  দেশটির অর্থনীতি তিন দশকের মধ্যে ধীরগতিতে এগোচ্ছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, অর্থনীতির এ ধারা আগামীতে আরও প্রবল হতে হতে পারে।

তাদের এ শঙ্কা আরও বাস্তবিক হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি মন্তব্যকে ঘিরে। তিনি বলেছেন, চীনের সঙ্গে একটি বাণিজ্যচুক্তির জন্য ২০২০ সালের নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষার প্রয়োজন হতে পারে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এমনটি হলে অর্থনীতির মন্দাভাব আরও তীব্র হতে পারে। তাদের মতে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়া ঠেকাতেই প্রথম পর্যায়ের চুক্তির আশা করা হচ্ছে।

গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর মার্কিন সরকার চীনের ১৫ হাজার ৬০০ কোটি ডলার মূল্যের পণ্যের ওপর ১৫ শতাংশ বাড়তি শুল্কারোপ করে। এরপর চীনও পাল্টা শুল্কারোপ করলে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় বাণিজ্যযুদ্ধ। পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বাণিজ্য উত্তেজনা প্রশমনে নানা উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানালেও বাস্তবে তা আলোর মুখ দেখেনি। দীর্ঘ ১৭ মাস ধরে চলা বাণিজ্যযুদ্ধে চীনের হাজার হাজার কোটি ডলারের রপ্তানি পণ্যে শুল্কারোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। চীনও প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে হাজার কোটি ডলারের যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি পণ্যে পাল্টা শুল্কারোপ করেছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..