সম্পাদকীয়

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য অর্থ সহায়তা নিশ্চিত করুন

নভেল করোনা ভাইরাসজনিত রোগের (কভিড-১৯) কারণে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর কী প্রভাব পড়েছে, তা নিয়ে গত ফেব্রুয়ারিতে জরিপ করেছে ‘নাগরিক প্ল্যাটফর্ম’ নামীয় সংগঠন। ‘কীভাবে অতিমারিকে মোকাবিলা করছে বাংলাদেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী: একটি খানা জরিপের ফলাফল’ শীর্ষক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে ফল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হয়। দেশের এক হাজার ৬০০ পরিবারে সরাসরি পরিচালিত এ জরিপে কভিড-১৯ বিষয়ক নানা জিজ্ঞাসার জবাবও দিয়েছেন অংশ নেয়া ব্যক্তিরা। জরিপে উঠে এসেছে ৭৯ শতাংশ পরিবার আর্থিক সমস্যায় পড়েছে। সাত দশমিক পাঁচ শতাংশ পরিবার কভিডের ধাক্কা সামলে উঠতে পারেনি। ৬১ শতাংশ পরিবারকে ঋণ নিয়ে টিকে থাকতে হয়েছে। প্রান্তিক জনের আয় কমেছে ১৬ শতাংশ।

জরিপের তথ্য দেশের সার্বিক চিত্র তুলে ধরেছে কি না, তা নিশ্চিত করে বলা না গেলেও এটি যে নির্ভরযোগ্য; তা বোধকরি বলাই যায়। জরিপে উঠে আসা বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে সরকার করণীয় নির্ধারণ করতে পারে। একটি বিষয় লক্ষণীয়, ৮২ শতাংশ পরিবার সরকারের বিনা খরচের কভিড টিকা নিতে আগ্রহী এবং ৭৮ দশমিক সাত শতাংশ কভিড নিয়ে তেমন একটা ভোগেননি। তবে তাতে তৃপ্ত হওয়ার সুযোগও কম, যে হারে সংক্রমণ বাড়ছে এটি সামনে রেখে ব্যবস্থা নিতে হবে। ‘কভিডকালে পরিবারগুলোর মধ্যে ৮০ দশমিক ছয় শতাংশ খাদ্যের জন্য খরচ ব্যয় কমাতে বাধ্য হয়েছে। তাই ভবিষ্যতে এর পুষ্টির অভাবে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর শারীরিক পরিশ্রম করার সক্ষমতা কমার আশঙ্কা রয়েছে।

কভিডকালে সরকার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য যে অর্থ সহায়তা পাঠিয়েছে, সেটি নিয়ে জনপ্রতিনিধিরা কী কাণ্ড ঘটিয়েছেন, গণমাধ্যমের কল্যাণে অনেকের জানা। খোলাবাজারে চাল বিক্রির (ওএমএস) তালিকায় সচ্ছল পরিবারের সদস্য, আত্মীয়  কয়েকজনকে অন্তর্ভুক্ত করায় একজন কাউন্সিলরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ধরনের ভূরি ভূরি দৃষ্টান্ত রয়েছে। অনেকের মনে ধারণা হয়েছে, ত্রাণ-সহায়তা না পাওয়া তাদের নিয়তি!

কভিডকালে আরও বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সরকারি সহায়তায় আওতায় আনা নিশ্চিত করতে হবে।

মানুষের আয় কমে যাওয়ায় সংকটাপন্ন মানুষের সমস্যা বহুমাত্রিক। তারা আয় কমে খাদ্য সংকটে পড়েছে, আবার ঋণগ্রস্ত হচ্ছে। অনেকের কাজই হারিয়েছে।  যাদের  টিকে থাকাই সমস্যা তারা খাদ্যবহির্ভূত পণ্য কেনা বাদ দিয়েও পুষ্টিকর খাবারের সংস্থান করতে পারছেন না।

উপকূলীয় গরিব মানুষ, বস্তিবাসী আর্থিক অনটনে গবাদি পশু বিক্রি করেছে। আর্থিক অক্ষমতায় তারা কভিড টেস্ট করাতে পারছেন না। যেহেতু সাধারণ মানুষ কভিডের টিকা নিতে আগ্রহী, তাই তাদের টিকার ব্যবস্থা রতে হবে। চর, হাওর, দলিত, নৃ-গোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী,  প্রবাসফেরত, বিপন্ন নারীদের জন্য সাময়িক ভাতার ব্যবস্থা করতে হবে। উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়া নিঃসন্দেহে গর্বের বিষয়। কিন্তু এ প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সুফল না পেলে উন্নয়ন-প্রবৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাবে। চলমান এ মানবিক বিপর্যয়ে জিডিপি প্রবৃদ্ধিকে পাশ কাটিয়ে দারিদ্র্য, আয়বৈষম্য দূরীকরণ ও কর্মসংস্থান টিকিয়ে রাখার দিকে গুরুত্ব দিতে হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..