প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

প্লাস্টিকের ব্যবহার কমাতে সর্বাত্মক উদ্যোগ নিন

নিত্যদিনের প্রয়োজনে মানুষ বিভিন্ন জিনিসপত্র ব্যবহার করে। কিন্তু এর অনেকগুলোই পরিবেশবান্ধব নয়। প্লাস্টিকের ব্যাগ, আসবাব তৈরির প্লাইকাঠ, ন্যাপকিন টিস্যু, উলের মোজা, চামড়ার জুতো, কোমল পানীয়ের ক্যান এবং প্লাস্টিক ও অ্যালুমিনিয়ামের পণ্য দীর্ঘদিন পচে না। এসব জিনিস ব্যবহারের পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষাও গুরুত্বপূর্ণ। দেশে দেশে পরিবেশবান্ধব বিভিন্ন পদ্ধতি ও পণ্য গ্রহণে নাগরিকদের সচেতন করা হচ্ছে, আমরাও করছি। আমাদের জানা উচিত প্লাস্টিকের কনটেইনার পচে ৫০ থেকে ৮০ বছরে, অ্যালুমিনিয়ামের ক্যান পচতে প্রয়োজন ২০০ থেকে ৫০০ বছর, প্লাস্টিকের বোতলে লাগে ৪৫০ বছর, আর আমাদের ‘অপরিহার্য’ প্লাস্টিক ব্যাগ পচতে লাগে ২০০ থেকে এক হাজার বছর। ব্যবহƒত অপচনশীল ব্যাগ ডাস্টবিনে ফেললেও তা একসময় পরিবেশে মিশে যায়।

২০০৮ সাল থেকেই পাতলা প্লাস্টিকের ফয়েল ব্যাগ নিষিদ্ধ করেছে চীন। কিন্তু মজবুত প্লাস্টিকের ব্যাগ টাকা দিয়ে কিনে ব্যবহার করা যায়। ২০২০ সালে দেশটি ঘোষণা করেছিল, ধীরে ধীরে প্লাস্টিকের ব্যাগের ব্যবহার কমিয়ে আনবে। চলতি বছরের মধ্যে সব শহর থেকে প্লাস্টিক নিষিদ্ধ হবে। শুক্রবার ১৯ ধরনের প্লাস্টিক পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ভারত। সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে, সারাদেশে এখন থেকে একবার ব্যবহার করা যাবে, এমন প্লাস্টিক আর ব্যবহার করা যাবে না। এর পরিবর্তে বিকল্প উপায় অবলম্বন করতে হবে। অথচ আমরা কিনা প্লাস্টিকের মিনিপ্যাকেই বছরে দুই লাখ টন বর্জ্য উৎপাদন করছি। গতকাল শেয়ার বিজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের মানুষ দিনে প্রায় ১২ কোটি ৯০ লাখ প্লাস্টিকের স্যাশে ব্যবহার করে। গত বছরের ২১ জুন এ বছরের ২২ মে পর্যন্ত দেশে প্রায় ১০ লাখ ছয় হাজার টন ওয়ানটাইম প্লাস্টিকের বর্জ্য উৎপাদিত হয়েছে। শনিবার এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অরগানাইজেশন (এসডো) আয়োজিত ‘প্লাস্টিক স্যাশে: স্মল প্যাকেট উইথ হিউজ এনভায়রনমেন্ট ডেস্ট্রাকশন’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এ-সংক্রান্ত গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

যখন সব দেশে প্লাস্টিক পণ্য ব্যবহার কমানো হচ্ছে, তখন আমাদের দেশে এটির ব্যবহার ক্রমেই বাড়ছে। আমাদের চেয়ে অনুন্নত দেশ নেপাল ‘একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক’ পণ্য ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে অনেক আগেই। ভারতের মতো আমরাও একক ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি সামগ্রীর ব্যবহার কমিয়ে আনতে পারি। ভারতে ক্যারি ব্যাগের পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছে প্লাস্টিকের চামচ, কাঁটাচামচ, কাপ, পতাকা, ইয়ার-বাডস, ছুরি, ট্রে প্রভৃতি।

আমরা দেখেছি ফেলে দেয়া প্লাস্টিক ও প্লাস্টিকজাত পণ্য নালা-নর্দমায় গিয়ে পড়ে রাজধানীর নালা-নর্দমার মুখ বন্ধ যায়। পানি মাটির নিচে প্রবেশে বাধা পায়। শুধু তা-ই নয়, প্লাস্টিকজাত বর্জ্য নদী এবং সাগরের তলদেশেও পৌঁছে যাচ্ছে। ফলে সামুদ্রিক জীবজন্তুর জীবনও বিপন্ন হয়ে উঠছে। সাগরের মৃত প্রাণীদের পেটে পাওয়া যাচ্ছে প্রচুর প্লাস্টিক, যেগুলো পর্যটকরা বিভিন্ন সময় সাগরের বুকে নিক্ষেপ করেছেন।

দেশকে দূষণমুক্ত করতে প্লাস্টিক পণ্য ব্যবহার কমিয়ে আনতে হবে। আমরাও খালি হাতে বাজারে যাই, ফিরে আসি প্লাস্টিক ব্যাগে করে জিনিস নিয়ে। পরিবেশ রক্ষায় যত পরিকল্পনাই নেয়া হোক, প্লাস্টিকের যথেচ্ছ ব্যবহার অব্যাহত রেখে তা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তাই প্লাস্টিকের বিপণন ও ব্যবহার বন্ধে রাষ্ট্রকেই উদ্যোগ নিতে হবে।