কোম্পানি সংবাদ পুঁজিবাজার

প্লাস্টিক ও পলিমার পণ্য উৎপাদন ব্যবসায় বিনিয়োগ করবে ইবনে সিনা

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্লাস্টিক এবং পলিমার পণ্য উৎপাদন ও বিতরণের ব্যবসায় বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে সাবসিডিয়ারি কোম্পানি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানি দি ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, ‘ইবনে সিনা পলিমার ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড’ নামে একটি নতুন কোম্পানি গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দি ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ। প্লাস্টিক এবং পলিমার পণ্য উৎপাদন ও বিতরণের জন্য কাজ করবে নতুন এ কোম্পানিটি। ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড এবং ইবনে সিনা ট্রাস্ট্রের যৌথ উদ্যোগে এ কোম্পানি গঠন করা হবে। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা চক পাড়াতে নতুন এ কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করা হবে।

গত ৩০ জুন ২০১৯ সমাপ্ত হিসাববছরের জন্য ৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা দিয়েছে ওষুধ ও রসায়ন খাতের এ কোম্পানিটি। আলোচিত সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ১০ টাকা ৭৬ পয়সা এবং ৩০ জুন ২০১৯ তারিখে শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ৪৭ টাকা ৩২ পয়সা। আর ওই সময়ে শেয়ারপ্রতি নগদ অর্থপ্রবাহ হয়েছে ১৩ টাকা ৮৭ পয়সা।

এদিকে সর্বশেষ কার্যদিবসে কোম্পানিটির শেয়ারদর সাত দশমিক ৫৭ শতাংশ বা ১৬ টাকা ২০ পয়সা বেড়ে প্রতিটি সর্বশেষ ২৩০ টাকা ২০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল ২৩২ টাকা ৭০ পয়সা। ওইদিন কোম্পানিটির ৮২ লাখ ৯৩ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। দিনজুড়ে ৩৬ হাজার ১৯৭টি শেয়ার মোট ৩২৭ বার হাতবদল হয়। ওইদিন শেয়ারদর সর্বনিম্ন ২১৮ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২৩২ টাকা ৭০ পয়সায় হাতবদল হয়। গত এক বছরে কোম্পানির শেয়ারদর ১৯২ টাকা থেকে ২৯০ টাকা ৯০ পয়সায় ওঠানামা করে।

এর আগে ৩০ জুন ২০১৮ সমাপ্ত হিসাববছরে কোম্পানিটি ৩০ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা দিয়েছে। আলোচিত সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১৫ টাকা ৯২ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ৪৩ টাকা ২১ পয়সা। এর আগের বছরও কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের ২৫ শতাংশ নগদ ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছিল। ওই সময় ইপিএস হয়েছিল ৯ টাকা ছয় পয়সা ও ৪২ টাকা ৭৯ পয়সা, যা তার আগের বছর একই সময় ছিল ১১ টাকা ৪৪ পয়সা ও ৩৮ টাকা ৭২ পয়সা। ২০১৮ সালে মোট মুনাফা করে ৪৫ কোটি ২৩ লাখ টাকা, যা আগের বছর ছিল ২৩ কোটি ৩৮ লাখ ৩০ হাজার টাকা।

ওষুধ ও রসায়ন খাতের ‘এ’ ক্যাটেগরির কোম্পানিটি ১৯৮৯ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। ৫০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ৩১ কোটি ২৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা। কোম্পানিটির মোট তিন কোটি ১২ লাখ ৪৩ হাজার ৬২৮টি শেয়ার রয়েছে। ডিএসইর সর্বশেষ তথ্যমতে, মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে রয়েছে ৪৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ শেয়ার, প্রাতিষ্ঠানিক ২১ দশমিক ৫২ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে ৩৪ দশমিক পাঁচ শতাংশ শেয়ার। সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন ও বাজারদরের ভিত্তিতে শেয়ারের মূল্য আয় (পিই) অনুপাত ২১ দশমিক ৬৩ এবং হালনাগাদ অনিরীক্ষিত ইপিএসের ভিত্তিতে ২০ দশমিক ৩৪।

এদিকে চলতি হিসাববছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের (অক্টোবর-ডিসেম্বর, ২০১৯) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ইবনে সিনা। আর গত বছরের তুলনায় এ বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) বেড়েছে ৯১ পয়সা।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, দ্বিতীয় প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে চার টাকা ৪৩ পয়সা, যা আগের বছর একই সময় ছিল তিন টাকা ৫২ পয়সা। অর্থাৎ ইপিএস ৯১ পয়সা কমেছে। এছাড়া ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর তারিখে শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য হয়েছে ৫১ টাকা ৬১ পয়সা, যা ২০১৯ সালের ৩০ জুনে ছিল ৪৭ টাকা ৩২ পয়সা। আর এ প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি নগদ অর্থপ্রবাহ হয়েছে তিন টাকা ৬৯ পয়সা, যা আগের বছর একই সময় ছিল ৯ টাকা ৪০ পয়সা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..