প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

প্লাস্টিক দূষণ: লাগাম  টানার এখনই সময়

সাবিহা আক্তার লাকী: বর্তমান শতাব্দীতে আমাদের স্বাস্থ্যকর অস্তিত্বের অন্যতম হুমকি প্লাস্টিক দূষণ। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে পলিথিন ও প্লাস্টিকজাতীয় পণ্যের প্রচলন মানবজীবনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসে। প্লাস্টিক কখনও দ্রবীভূত হয় না বলে এর দূষণ জন্ম দিয়েছে গভীর উদ্বেগের। কভিডকালে অনলাইন শপিং ও অনলাইন খাদ্য সরবরাহে ব্যবহƒত নানা রকমের প্লাস্টিকের মোড়ক, ওয়ানটাইম চামচ, গ্লাস প্রভৃতি প্লাস্টিক দূষণের গতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আর এ দূষণ পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য, অর্থনীতি ও মানবস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি। এই ধরণীকে বাসযোগ্য করে তুলতে এখনই সময় প্লাস্টিক দূষণের লাগাম টানার।

প্রত্যাহিক জীবনে আমরা যেসব পণ্য ব্যবহার করি, তার অধিকাংশই প্লাস্টিকের তৈরি। ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি, গৃহস্থালি আসবাবপত্র, খাদ্যদ্রব্য বিপণনÑসব ক্ষেত্রেই প্লাস্টিকের উপস্থিতি লক্ষণীয়। প্রাকৃতিক ধাতব, প্রাণিজ ও উদ্ভিজ্জ উৎস থেকে তৈরি যেকোনো দ্রব্যের চেয়ে প্লাস্টিক সস্তা, ব্যবহারবান্ধব ও দীর্ঘস্থায়ী। ফলে বিদ্যুৎগতিতে প্লাস্টিকের ব্যবহার বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ছে এবং অবচেতন মনেই আমরা জল, স্থল ও অন্তরীক্ষের সবকিছুকে প্লাস্টিক দূষণে দূষিত করে ফেলেছি। প্লাস্টিক দূষণ মানুষসহ সব জীবের অস্তিত্ব বিপন্ন করে তুলেছে। পৃথিবীতে এ পর্যন্ত প্রায় ৩০ কোটি টন প্লাস্টিক বর্জ্য জমা হয়েছে। প্রতিবছর প্রায় ৩৮১ কোটি টন প্লাস্টিক ও প্লাস্টিকজাত দ্রব্য উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ হচ্ছে একবার ব্যবহারযোগ্য। শুধু ৯ শতাংশ পুনর্ব্যবহার করা হয়।

ইউনাইটেড নেশনস এনভায়রনমেন্ট প্রোগ্রামের একটি নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে মহাসাগরে প্লাস্টিকের পরিমাণ প্রায় ৭৫ থেকে ১৯৯ মিলিয়ন টন। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ছাড়া বাস্তুতন্ত্রের প্লাস্টিক বর্জ্য নির্গমন ২০৪০ সালের মধ্যে প্রায় তিনগুণ হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। মূল্যায়ন অনুসারে ২০৩০ সালের মধ্যে এটি দ্বিগুণেরও বেশি হতে পারে। এভাবে জমতে জমতে মহাসাগরে প্লাস্টিক বর্জ্য জমাকৃত এলাকা (প্যাচ) তৈরি হয়েছে। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় প্রশান্ত মহাসাগরে বর্তমানে প্লাস্টিক বর্জ্যরে প্যাচের আয়তন প্রায় ১৬ লাখ বর্গকিলোমিটার। অনুরূপভাবে প্লাস্টিক বর্জ্য জমাকৃত এলাকা তৈরি হচ্ছে অন্যান্য সাগর ও মহাসাগরেও।

বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতচূড়া মাউন্ট এভারেস্ট। মানুষের যাতায়াত নগণ্য বললেই চলে। এই দুর্গম প্রকৃতিও রক্ষা পেল না দূষণ থেকে। এভারেস্টের শিখর থেকে মাত্র ৪০০ মিটার নিচেই খোঁজ মিলেছে মাইক্রোপ্লাস্টিকের। প্লাইমাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিন গবেষক ইমোজেন ন্যাপারের এমন গবেষণার তথ্য প্রকাশ করেছে বিজ্ঞান পত্রিকা ‘ওয়ান আর্থ’।

মানুষের শরীরে প্রথমবারের মতো মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ শনাক্ত করেছেন বিজ্ঞানীরা। বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা করে ৮০ শতাংশ মানুষের রক্তেই প্লাস্টিকের ক্ষুদ্র কণা খুঁজে পেয়েছেন। প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় শিশুদের মলে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে ১০ গুণ বেশি। অন্যদিকে প্লাস্টিকের পাত্রে যেসব শিশুদের খাবার খাওয়ানো হয়, তাদের শরীরে দিনে লাখ লাখ মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা প্রবেশ করে। নতুন একটি গবেষণায় উঠে এসেছে এ তথ্য। এনভায়রনমেন্ট ইন্টারন্যাশনাল জার্নালে গবেষণার এ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। গত ২৪ মার্চ দ্য গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে এ গবেষণার বিষয়ে জানিয়েছে।

দ্য গার্ডিয়ানে আরও বলা হয়েছে, মাইক্রোপ্লাস্টিক লোহিত কণিকার বাইরে ঝিল্লিতে আটকে যেতে পারে। ফলে তাদের অক্সিজেন পরিবহনের ক্ষমতা কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। গর্ভবতী নারীদের প্লাসেন্টাতেও কণা পাওয়া গেছে। এমনকি গর্ভবতী ইঁদুরের ওপর গবেষণা চালিয়ে দেখা যায়, কণাগুলো দ্রুত ফুসফুসের মাধ্যমে হƒৎপিণ্ড, মস্তিষ্ক ও ভ্রুণের অন্যান্য অঙ্গে প্রবেশ করে।

২০২১ সালের ২০ ডিসেম্বর বিশ্বব্যাংক এক প্রতিবেদনে বলেছে, বাংলাদেশের শহর এলাকায় ১৫ বছরে মাথাপিছু তিনগুণ বেড়েছে প্লাস্টিকের ব্যবহার। ২০০৫ সালে মাথাপিছু প্লাস্টিকের ব্যবহার ছিল তিন কেজি। কিন্তু ২০২০ সালে সে পরিমাণ তিনগুণ বেড়ে ৯ কেজি হয়েছে। ঢাকা শহরে এই পরিমাণ ২২ কেজি ৫০০ গ্রাম, যা জাতীয় গড়ের চেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বেশি। ২০০৫ সালে ঢাকায় মাথাপিছু প্লাস্টিকের ব্যবহার ছিল ৯ কেজি ২০০ গ্রাম। 

পরিসংখ্যানটি আরও বলছে, ঢাকায় প্রতিদিন ৬৪৬ টন প্লাস্টিক বর্জ্য তৈরি হয়। এর ৩১০ দশমিক সাত টন ময়লা ভাগাড়ে, ৭৭ দশমিক পাঁচ টন খাল ও নদীতে, ১৭ দশমিক তিন টন নর্দমায় ফেলা হয় এবং ২৪০ দশমিক পাঁচ টন রিসাইকেল করা হয়।

‘প্রোলিফারেশন অব মাইক্রোপ্লাস্টিক ইন কমার্শিয়াল সি সল্টস ফ্রম দ্য ওয়ার্ল্ড লংগেস্ট সি বিচ অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণায় দেশের লবণে প্লাস্টিকের উদ্বেগজনক উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এ গবেষণায় দেখা যায়, এ লবণের প্রতি কেজিতে প্রায় দুই হাজার ৬৭৬টি মাইক্রোপ্লাস্টিক রয়েছে। সেখানে বলা হয়, দেশের মানুষ যে হারে লবণ গ্রহণ করে, তাতে প্রতি বছর একজন মানুষ গড়ে প্রায় ১৩ হাজার ৮৮টি মাইক্রোপ্লাস্টিক গ্রহণ করে।

মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি এখন ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে। লবণ থেকে শুরু করে মাছের পেটেও এর উপস্থিতি মিলছে। এক পরিসংখ্যানে জানা যায়, সমুদ্রের পানিতে পাঁচ ট্রিলিয়নের বেশি প্লাস্টিক ভেসে থাকে। ১৪ মিলিয়ন টনের বেশি প্লাস্টিক প্রতিবছর সমুদ্রে জমা হচ্ছে। প্লাস্টিক দূষণ সাম–দ্রিক প্রাণীর জন্য একক সর্বাধিক হুমকির মতো। সামুদ্রিক কচ্ছপের মৃত্যু প্লাস্টিক দূষণের কারণে ঘটছে। সামুদ্রিক তিমির পাকস্থলীতে প্রচুর পরিমাণে প্লাস্টিক পাওয়া গেছে। এছাড়া সামুদ্রিক ছোট মাছের পাকস্থলীতেও প্লাস্টিক পাওয়া গেছে। তাই প্লাস্টিক দূষণ সামুদ্রিক মৎস্য প্রজাতির জন্য হুমকিস্বরূপ।

বিশ্লেষকরা বলছেন, প্লাস্টিক মাটিতে মিশতে সময় লাগে প্রায় ৪০০ বছর। ফলে এতে একদিকে যেমন মাটির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে এটি পানির সঙ্গে মিশে পানিকে করছে দূষিত। এর মাধ্যমে এসব প্লাস্টিক মানুষের শরীরে প্রবেশ করছে। পরিবেশের প্রতিটি উপাদানের সঙ্গে ধীরে ধীরে মিশছে মাইক্রোপ্লাস্টিক, যার প্রভাব পড়ছে গোটা প্রাণিজগতে। মাইক্রোপ্লাস্টিকের কারণে ক্যানসার, হরমোনের তারতম্য, প্রজনন প্রক্রিয়ায় বাধাসহ মারাত্মক সব ক্ষতি হচ্ছে। প্লাস্টিক মানুষের পরিপাকতন্ত্রের মাধ্যমে প্রবেশ করে যকৃৎ, ফুসফুসসহ অন্যান্য অঙ্গে বৈকল্য তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি হজমে প্রতিবন্ধকতা এবং নারী ও পুরুষের বন্ধ্যত্বও তৈরি করতে পারে। কারণ প্লাস্টিক মানবদেহে হরমোনের ভারসাম্যকে বাধাগ্রস্ত করে।

প্লাস্টিক দূষণের প্রভাব শুধু সামুদ্রিক মাছের ওপর নয়, সামুদ্রিক পাখির ওপরও রয়েছে। পাখিরা যখন প্লাস্টিক পদার্থ গ্রহণ করে, তথন তাদের পেটেও বিষাক্ত রাসায়নিক পলিক্লোরিনেটেড বায়োফেনল নির্গত হয়। এজন্য তাদের দেহের টিস্যু ধ্বংস হয়, তাদের দেহের প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। ধীরে ধীরে পাখির মৃত্যু হয়। শুধু উদ্ভিদ বা প্রাণী নয়, মানুষ প্লাস্টিক দূষণের কারণে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। থাইরয়েড হরমোনের অতিরিক্ত ক্ষরণের জন্য প্লাস্টিক দূষণ পরোক্ষভাবে দায়ী। সাধারণত প্লাস্টিক পদার্থে প্রচুর পরিমাণে রাসায়নিক রঞ্জক মেশানো হয়। এসব রঞ্জক কারসিনজেন হিসেবে কাজ করে ও এন্ডোক্রিনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

বর্তমান বিশ্বে বিপুল পরিমাণে প্লাস্টিকসামগ্রী ব্যাবহার করা হচ্ছে, যা পাহাড়ের চূড়া থেকে শুরু করে সমুদ্রের তলদেশ পর্যন্ত জমছে। তাই বিজ্ঞানীরা প্লাস্টিককে রিসাইকেল করে অন্যান্য কাজে ব্যবহার করা যায় কি না, এ বিষয়ে গবেষণা চালাচ্ছেন। সম্প্রতি ইউরোপীয় দেশগুলো ব্যবহƒত প্লাস্টিকের ৩০ শতাংশ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণের উদ্যোগ নিয়েছে। এছাড়া প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বর্তমানে রিসাইকেল করা প্লাস্টিকের অন্যতম ব্যবহারে তৈরি হচ্ছে রাস্তা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্লাস্টিকের দূষণ থেকে মুক্ত হওয়ার মাধ্যম হিসেবে রাস্তা তৈরির কাজে প্লাস্টিক ব্যবহার করা হচ্ছে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্য ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলার বি কে রোড পরীক্ষামূলকভাবে তৈরি করা হয়েছে প্লাস্টিক দিয়ে। ভারতের পর পাকিস্তানও প্লাস্টিকের রাস্তা বানিয়ে হইচই ফেলে দিয়েছে। দেশটির রাজধানী ইসলামাবাদের আতাতুর্ক অ্যাভিনিউয়ের রাস্তায় প্লাস্টিকের কার্পেটিং করা হয়েছে। রাস্তাটি তৈরি করতে তারা ব্যবহার করেছে প্রায় ১০ টন ফেলে দেয়া প্লাস্টিক, যা মূলত সারাদেশ থেকে সংগ্রহ করা। ধীরে ধীরে পাকিস্তানের অন্য সড়কগুলোও প্লাস্টিক দিয়ে রি-কার্পেটিং করা হবে বলে জানা যায়। বিষেজ্ঞদের মতে, প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি সড়কগুলো সাধারণ সড়কের তুলনায় দ্বিগুণ দীর্ঘস্থায়ী এবং প্রায় ৫১ শতাংশ বেশি শক্তিশালী হয়। ভারত-পাকিস্তান ছাড়াও ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে এ পদ্ধতিতে রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে।

প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহারের নানা উপায় বের করেছেন বিজ্ঞানীরা। এবার ফেলে দেয়া প্লাস্টিকের বোতল থেকেই তৈরি হবে সুগন্ধি ভ্যানিলা, যা খাদ্য, প্রসাধনী, ওষুধ, ঘর ও আসবাবপত্র পরিষ্কারের জিনিসপত্র এবং বিভিন্ন ভেষজনাশক তৈরির উপাদান। বর্জ্য প্লাস্টিককে এভাবে পরিবেশ থেকে সরিয়েও দেয়া যাবে অনেক কম খরচে। ফলে পুকুর, নদী,সমুদ্র ও মহাসাগরে উত্তরোত্তর বেড়ে চলা বর্জ্য প্লাস্টিকের পরিমাণ নিয়ে যে গভীর উদ্বেগ এখন বিশ্বের সর্বত্র, এই আবিষ্কার আগামী দিনে তার থেকে রেহাই পাওয়ার আলো দেখাতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপে নদী প্লাস্টিকমুক্ত করতে নেয়া হয়েছে অভিনব উদ্যোগ। সেখানে নদীতে কী পরিমাণ প্লাস্টিক বর্জ্য রয়েছে, তার তথ্য তারা বের করতে গুগল ম্যাপ প্রযুক্তির মাধ্যমে ‘রিভার ম্যাপিং’ নামের এক পরিভাষা ব্যবহার করে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে বর্জ্যরে অবস্থান নির্ণয় করে তা অপসারণের উদ্যোগ গ্রহণ করে। ফলে এই বর্জ্য সমুদ্রে গিয়ে পড়ে না। প্লাস্টিক দূষণরোধে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ২০০২ সালে পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধের বিধান করেছিল। কিন্তু হাইকোর্টের নির্দেশের পরও এই অগ্রগামী উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি। তাই আইনের যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্লাস্টিক ব্যবহার সীমিত করতে হবে, পাট ও পাটজাতপণ্য ব্যবহারকে উৎসাহিত করতে হবে এবং প্লাস্টিকের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে জনগণকে আরও বেশি সচেতন করার উদ্যোগ নিতে হবে। প্লাস্টিক দ্রব্যের ওপর অত্যধিক শুল্ক আরোপ করে পাটজাত দ্রব্যকে সুলভ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি প্লাস্টিক রিসাইক্লিং ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। বর্জ্য রিসাইক্লিংয়ে গ্রহণ করতে হবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। যেমন প্লাস্টিক বোতল, স্ট্র, মোড়ক, ইনস্ট্যান্ট নুডলসের মোড়ক, ইট তৈরি, কিংবা এ-জাতীয় দীর্ঘমেয়াদি সমাধানসূত্র বের করার জন্য ব্যাপক গবেষণা চালানো প্রয়োজন।

আমরা অর্থনৈতিক ও সামাজিক নানা সূচকে এগিয়েছি, অথচ নিজ শহরে ভয়াবহ প্লাস্টিক দূষণে প্রতিনিয়ত নিজেরাই ‘অবদান’ রেখে চলেছি। পাতলা পলিথিনের পরিবর্তে ব্যবহারযোগ্য কাপড় বা পাটের তৈরি ব্যাগ ব্যবহার করা যেতে পারে। খাদ্য সরবরাহকারীকে নন-প্লাস্টিক প্যাকেজিং ব্যবহার করতে হবে। নিজেরা সুস্থভাবে বাঁচার জন্য, পররর্তী প্রজন্মকে একটি সুন্দর বাসযোগ্য পৃথিবী উপহার দিতে প্লাস্টিক বর্জন এবং দূষণ রোধের কার্যক্রমকে আরও বেগবান করতে হবে।

পিআইডি নিবন্ধ