শেষ পাতা শোবিজ

প্লেব্যাক সম্রাট এন্ড্র– কিশোরের জীবনাবসান

নিজস্ব প্রতিবেদক: চিরবিদায় নিলেন বাংলা গানের প্লেব্যাক সম্রাট এন্ড্র– কিশোর। দীর্ঘ ১০ মাস ক্যানসারের সঙ্গে যুদ্ধ করে হেরে গেলেন তিনি। গতকাল সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এ প্রখ্যাত গায়ক। নিজ শহর রাজশাহীর মহিষবাথান এলাকায় বোনের বাড়িতে শেষ হলো তার জীবনের গল্প।

সিঙ্গাপুরে চিকিৎসারত অবস্থায় তিনি নিজের ইচ্ছায় দেশে ফিরতে চেয়েছিলেন। বলেছিলেন, ‘আমি আমার দেশে গিয়ে মরতে চাই, এখানে নয়।’ ১১ জুন বিকালে সিঙ্গাপুর থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে দেশে ফেরেন তিনি। এরপর ফিরে যান রাজশাহীতে। 

শরীরে নানা ধরনের জটিলতা নিয়ে অসুস্থ অবস্থায় গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে দেশ ছেড়েছিলেন এন্ড্র– কিশোর। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ১৮ সেপ্টেম্বর তার শরীরে নন-হজকিন লিম্ফোমা নামের ব্লাড ক্যানসার ধরা পড়ে। সেখানে দীর্ঘদিন চিকিৎসা নেন। অবশ্য মাঝে চিকিৎসায় কিছু সাড়া মেলে। এ বছরের এপ্রিলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছিলেন, এখন আর দরকার নেই, শুধু ওষুধ খেতে হবে। দেশে ফিরে যেতে পারবেন এন্ড্র– কিশোর।

বাংলা গানের এ কণ্ঠশিল্পী ‘প্লেব্যাক সম্রাট’ নামে পরিচিত। বাংলাদেশের আধুনিক ও চলচ্চিত্র জগতের কালজয়ী অনেক গান তার কণ্ঠে সমৃদ্ধ হয়েছে। ১৯৫৫ সালের ৪ নভেম্বর তিনি রাজশাহীতে জš§গ্রহণ করেন। সেখানেই তিনি বেড়ে উঠেছেন। পড়াশোনা করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে।

এন্ড্র– কিশোর প্রাথমিকভাবে আবদুল আজিজ বাচ্চুর অধীনে সংগীতের পাঠ শুরু করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের পর কিশোর নজরুল, রবীন্দ্রনাথ, আধুনিক, লোক, দেশাত্মবোধকসহ প্রায় সব ধারার গানে রাজশাহী বেতারে তালিকাভুক্ত হন। চলচ্চিত্রে এন্ড্র– কিশোর গান গাওয়া শুরু করেন ১৯৭৭ সালে। ছবির নাম ‘মেইল ট্রেন’; পরিচালক শিবলী সাদিক। এ ছবিতে তিনি গেয়েছিলেন ‘অচিনপুরের রাজকুমারী নেই যে তার কেউ’ গানটি।  তবে এন্ড্র– কিশোর সবার কাছে পৌঁছে যান দু’বছর পর। তার এ গান ছিল ‘ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে’। মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনিরের লেখা গানটির সুরকার ও সংগীত পরিচালক ছিলেন আলম খান।

দীর্ঘদিন পুরোদস্তুর পেশাদার কণ্ঠশিল্পী হিসেবে দুই বাংলায় গান করেছেন এন্ড্র– কিশোর। একের পর এক জনপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন তিনি। গেল বছরের সেপ্টেম্বরে অসুস্থ হয়ে পড়ার আগ পর্যন্ত এন্ড্র– কিশোর প্লেব্যাক ও স্টেজ শো নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করেছেন।

এন্ড্র– কিশোরের সবচেয়ে জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে ‘ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে’, ‘আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি’,  ‘জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প’, ‘হায় রে মানুষ রঙিন ফানুস’, ‘আমার বুকের মধ্যিখানে’, ‘তুমি যেখানে আমি সেখানে’, ‘সবাই তো ভালোবাসা চায়’, ‘চাঁদের সাথে আমি দেব না তোমার তুলনা’, ‘বেদের মেয়ে জোসনা আমায় কথা দিয়েছে, ‘তুমি আমার জীবন আমি তোমার জীবন’, ‘ভালো আছি ভালো থেকো’, ‘ভেঙেছে পিঞ্জর মেলেছে ডানা’, ‘ভালোবেসে গেলাম শুধু ভালোবাসা পেলাম না’, ‘তুমি আমার কত চেনা’, ‘তুমি মোর জীবনের ভাবনা’, ‘তোমায় দেখলে মনে হয়’, ‘বাবার মুখে প্রথম যে দিন’ ‘তুই তো কাল চলে যাবি আমাকে ছেড়ে’ প্রভৃতি। গানের জন্য তিনি আটবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছে। পাঁচবার পেয়েছে বাচসাস পুরস্কার। এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক এন্ড্র– কিশোর। তারা দুজনেই অস্ট্রেলিয়ায় থাকেন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..