সুশিক্ষা

প ড় তে  চা ই: মার্চেন্ডাইজিং

যুগোপযোগী পেশাগত প্রশিক্ষণ ভালো ক্যারিয়ার গড়তে সহায়তা করে। এমনই একটি প্রশিক্ষণ কোর্স গার্মেন্ট বায়িং অ্যান্ড মার্চেন্ডাইজিং। পণ্য  কেনাবেচা সম্পর্কিত পেশা মার্চেন্ডাইজিং। বাংলাদেশে গার্মেন্ট মার্চেন্ডাইজিং দু’ধরনের বায়িং হাউজ মার্চেন্ডাইজিং ও ফ্যাক্টরি মার্চেন্ডাইজিং। গার্মেন্ট পণ্য বিক্রিতে তৃতীয় পক্ষ হিসেবে কাজ করে বায়িং হাউস। পোশাক খাতের এসব প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মার্চেন্ডাইজাররা। অর্থাৎ তৈরি পোশাকশিল্পের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ পেশাটি। উৎপাদন থেকে বাজারে বিপণন পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করে থাকেন মার্চেন্ডাইজার। এ প্রক্রিয়া বা পেশাকেই বলা হয় মার্চেন্ডাইজিং। দেশে মার্চেন্ডাইজারদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

আমাদের দেশের গার্মেন্ট শিল্প বিশ্বে বিখ্যাত। রফতানি আয়ের প্রধান খাত এটি। দেশের অর্থনীতিতে কয়েক দশক এ শিল্পের অবদান অতুলনীয়। বাংলাদেশের মোট জাতীয় রফতানির আয়ের প্রায় তিন- চতুর্থাংশ আসে পোশাক শিল্প থেকে। এ শিল্পে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত প্রায় ৭০ লাখ মানুষ। অর্থাৎ এ শিল্পের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য উন্নয়নের পাশাপাশি ব্যাপক কর্মসংস্থান ও সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

ভর্তি

মার্চেন্ডাইজিং কোর্সে ভর্তির ন্যূনতম যোগ্যতা এইচএসসি পাস। উচ্চতর ডিগ্রি নিতে চাইলে এ বিষয়ে অনার্স ও এমবিএ সম্পন্ন করা যায়। এছাড়া তিন মাস, ছয় মাস, এক বছর ও দুবছরের ডিপ্লোমা সার্টিফিকেট কোর্সেরও সুযোগ রয়েছে। বিজ্ঞান, মানবিক, ব্যবসায় প্রশাসনসহ সব বিভাগের শিক্ষার্থী এ বিষয়ে পড়তে পারেন।

যা শেখানো হয়

বাস্তব অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কর্মীর চাহিদা সব সময়ই তুলনামূলক বেশি। পোশাকশিল্পের এ পেশাটি সম্পূর্ণ বাস্তবধর্মী কাজের ওপর নির্ভরশীল। প্রশিক্ষণে গার্মেন্ট, বায়িং হাউজ ও মার্চেন্ডাইজিং পেশা-সংশ্লিষ্ট সবকিছু শেখানো হয়। সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট, গার্মেন্ট প্রোডাকশনের ওভেন, নিট, সোয়েটার, কোয়ালিটি কন্ট্রোলিং ফ্যাব্রিকস প্রভৃতি শেখানো হয়। এছাড়া অ্যাকসেসরিজ, ল্যাব টেস্ট, কস্টিং, মার্চেন্ডাইজিং, প্রোডাকশন প্ল্যানিং, মার্কেটিং, ফ্যাব্রিক ডিজাইন, প্রিন্টিং ফ্যাশন ও ফ্যাশন মার্চেন্ডাইজিংও শেখানো হয়। পাশাপাশি টেক্সটাইল সায়েন্স, কালার মিক্সিং, টেক্সটাইল ফাইবার অ্যান্ড ইয়ার্ন, টেক্সটাইল ফিনিশিং, প্রিন্টিং অ্যান্ড টেস্টিং, প্যাটার্ন মেকিংসহ এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট বিষয়ে হাতে-কলমে শেখার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া বায়িং পলিসি, ইন্ডেন্টিং, ব্যাংক, কাস্টমস, ডিইডিও, ইপিবি, শিপিং, এলসি, ডকুমেন্টেশন, করেসপন্ডেন্স, জিএসপি, কনজামশন অ্যান্ড গার্মেন্ট কাস্টিং, উৎপাদন পরিকল্পনার ব্যবস্থাপনা, সোশ্যাল কমপ্লায়েন্স, বিপণন, ই-মেইল, ইন্টারনেট প্রভৃতি বিষয়ে ব্যবহারিক শিক্ষা দেওয়া হয়। এসব বিষয়ে জ্ঞান থাকা জরুরি মার্চেন্ডাইজিংয়ে কাজ করার জন্য।

চাকরির সুযোগ

বাংলাদেশে প্রায় ১০ হাজার গার্মেন্ট ফ্যাক্টরি রয়েছে। এছাড়া বায়িং হাউজ, সোয়েটার ফ্যাক্টরি, টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রি, কোয়ালিটি কন্ট্রোল প্রতিষ্ঠান ও ফ্যাশন ডিজাইন হাউজ রয়েছে। গার্মেন্ট, বায়িং ও মার্চেন্ডাইজিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ থাকলে এসব প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুযোগ রয়েছে। জেনারেল ম্যানেজার, মার্চেন্ডাইজিং, প্রোডাকশন ম্যানেজার, ফ্লোর ইনচার্জ, কোয়ালিটি কন্ট্রোলার, কোয়ালিটি কো-অর্ডিনেটর, কোয়ালিটি ইন্সপেক্টর, টেকনিক্যাল ডিরেক্টর, কমার্শিয়াল ম্যানেজার, অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোডাকশন ম্যানেজার, কোয়ালিটি কন্ট্রোল ম্যানেজার, সুপারভাইজার, প্রোডাকশন

কো-অর্ডিনেটর প্রভৃতি পদে কাজ করতে পারবেন। মার্চেন্ডাইজারদের বিভিন্ন দেশের বায়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়। এজন্য ইংরেজিতে যোগাযোগ-দক্ষতা থাকতে হয়। পাশাপাশি অন্য দেশের ভাষা জানা থাকলে বাড়তি যোগ্যতা হিসেবে ধরা হয়। কম্পিউটারেও দক্ষতা থাকা চাই।

 

কোথায় পড়বেন

বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডিজাইন

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ফ্যাশন ডিজাইন

পিনাকল ইনস্টিটিউট অব ফ্যাশন টেকনোলজি

মার্চেন্ডাইজারস ইনস্টিটিউট অব ফ্যাশন টেকনোলজি

ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ফ্যাশন ডিজাইন

কারিগরি শিক্ষা বোর্ড

 

শিপন আহমেদ

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..