প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

ফটিকছড়িতে বেড়েছে চোরের উপদ্রব

প্রতিনিধি, ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় সম্প্রতি বেড়েছে চোরের উপদ্রব। কোনোভাবেই চোরদের দৌরাত্ম্য থামানো যাচ্ছে না। প্রথমে ফটিকছড়ি আদালত ভবনের জজের কম্পিউটারের সিপিইউ, এরপর পাইন্দং ইউনিয়ন পরিষদে সচিব ও উদ্যোক্তার কক্ষ থেকে কম্পিউটার এবং নগদ অর্থ চুরি। সর্বশেষ সোমবার দিবাগত রাতে নাজিরহাট পৌরসভা কার্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটে। এ সময় প্রকৌশলীর বন্ধ কক্ষের টিন খুলে কম্পিউটারের ২টি হার্ডডিস্ক নিয়ে যায় চোরের দল।

এদিকে প্রতিরাতেই উপজেলার কোনো না-কোনো এলাকায় ঘটছে চুরির ঘটনা। এমন ঘটনার পর চুরি রোধে পুলিশের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে জনমনে উঠেছে নানা প্রশ্ন।

গত সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার পর যেকোনো সময় এ চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে নিশ্চিত করেছেন নাজিরহাট পৌরসভার সচিব নুরুল আবছার। তিনি বলেন, আমি সকালে অফিসে আসার পর দেখি সুইপার ঝাড়ু দেয়ার জন্য দাঁড়িয়ে আছেন। পরে আমি রুমের তালা খুলে দিই। ঝাড়ুদার পরিষ্কার করার সময় টিন খোলা দেখে আমাকে জানায়। পরে আমি গিয়ে দেখি সবকিছু এলোমেলো পড়ে আছে। কম্পিউটারের ২টি হার্ডডিস্ক খুলে নিয়ে গেছে। আলমারি খোলা, মনিটর পড়ে আছে অন্য টেবিলে। বিষয়টি মেয়রের সঙ্গে যোগাযোগ করে থানাকে জানাই। এ বিটে দায়িত্ব থাকা পুলিশ কর্মকর্তা এসে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গেছেন।

রাতে দায়িত্বে থাকা প্রহরী নুরুল ইসলাম বলেন, আমি গতরাতে হল রুমে ছিলাম। রাত সাড়ে ৩টার দিয়ে পৌরসভার ময়লার গাড়ি এলে গেট খুলে পরে বন্ধ করে দিই। পরে আমি হল রুমে গিয়ে বসলে হঠাৎ ঘুম চলে আসে। এরপর কীভাবে কী হয়েছিল আমি জানি না। সবদিকে তালা বন্ধ ছিল। তবে পৌর হল রুমের পাশের ভবনের ছাদ দিয়ে পৌরসভা কার্যালয়ে টিনশেডে আসা যায়।

নাজিরহাট পৌর মেয়র সিরাজ উদ-দৌলা বলেন, ‘আমি জরুরি কাজে ঢাকায় আছি। চুরির বিষয়ে থানাকে জানানো হয়েছে।’

ফটিকছড়ি থানার ওসি কাজী মাসুদ ইবনে আনোয়ার বলেন, ‘এরকম কোনো অভিযোগ আমি এখনও পাইনি। তবে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেবো।’

এর আগে, গত ২০ এপ্রিল ফটিকছড়ি আদালত ভবনের জজের কক্ষের জানালার গ্রিল কেটে চুরির ঘটনা ঘটে। এ সময় আদালত ভবনের বিচারক মোহাম্মদ মেজবা উদ্দিনের কক্ষের কম্পিউটারের কন্ট্রোল পাওয়ার ইউনিট (সিপিইউ) চুরি করে নিয়ে যায়। এ সিপিইউতে আদালতের মামলা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সংরক্ষিত ছিল। এরপর গত ১৫ মে রাতে পাইন্দং ইউনিয়ন পরিষদ ভবনেও চুরি ঘটনা ঘটে। এ সময় জানালার গ্রিল কেটে ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের কক্ষের দরজার তালা ভেঙে নগদ টাকা ও কম্পিউটার নিয়ে যায় চোরের দল।