ফটিকছড়ির চরাঞ্চলে শীতকালীন সবজি চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা

ওবাইদুল আকবর রুবেল, ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম): শীতকালীন সবজিতে ভরে উঠেছে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার হালদা, ধুরুং ও সর্তাখালের বিস্তীর্ণ চর। বাজারের চাহিদা বিবেচনায় রেখে একটু বেশি লাভের আশায় সবজিতে স্বপ্ন বুনছেন এ উপজেলার কৃষকরা। খালের চরজুড়ে শোভা পাচ্ছে বেগুন, ঝিঙা, শিম, মিষ্টি কুমড়া, ঢেঁড়স, চিচিঙ্গা, লাউ, টমেটো, লাল শাক ও শসাসহ নানা রকম শীতকালীন সবজিতে। চলতি বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় শীতকালীন আগাম সবজি চাষ করে লাভবান হচ্ছেন চরাঞ্চলের কৃষকরা।

কোদাল, পাচুন, মাথল, লাঙল ও গরুসহ আনুষঙ্গিক কৃষি সরঞ্জামাদি নিয়ে কাকডাকা ভোরে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন কৃষকরা। এরপর ক্ষেতে গিয়ে যে যার মতো কাজে নেমে পড়েন। উপজেলার কাঞ্চননগর, পাইন্দং, খিরাম, সুয়াবিল, নাজিরহাট, হারুয়ালছড়ি, ভূজপুর ও নারায়ণহাটসহ একাধিক সবজিখ্যাত গ্রাম ঘুরে আগাম সবজি চাষ নিয়ে কৃষকদের কর্মব্যস্ততার এমন দৃশ্য চোখে পড়ে।

আগাম শীতকালীন সবজির বর্ণিল সবুজে ভরে উঠেছে উপজেলার বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ। শোভা পাচ্ছে নানা ধরনের শীতকালীন সবজি। এরই মধ্যে কৃষকরা বেগুন, মুলা, সিম, টমেটো, ফুলকপি ও বাঁধাকপি বাজারে তুলতে শুরু করেছেন। এসব চরে উৎপাদিত সবজি স্থানীয়দের চাহিদা মিটিয়ে পাইকাররা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন সারাদেশে। দেশেজুড়ে খ্যাতি রয়েছে এসব চরে উৎপাদিত বেগুন, মুলা, শিমসহ হরেক সবজির। অনুকূল আবহওয়া ও চাষিদের যথাযথ পরিচর্যায় চলতি বছর বেশ ভালো পরিমাণে সবজি উৎপন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা কৃষি অফিস।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর ফটিকছড়িতে তিন হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে সব ধরনের সবজি চাষ করছেন কৃষকরা। বেড়াজালী গ্রামের কৃষক আব্দুর রহিম ও মো. রিযাজ বলেন, ‘এবার শীতকালীন সবজির দাম অনেক ভালো। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার আগামী শীতকালীন সবজি উৎপাদন করা সহজ হয়েছে। তবে আগামী সবজি চাষে পোকামাকড়ের আক্রমণ বেশি থাকে, যা দমন করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে ক্ষতিতে পড়তে হয় আমাদের।’

কাঞ্চন নগর ইউনিয়নের কৃষক মো. কাজল জানান, পোকামাকড়ের আক্রমণ ও শ্রমিক সংকটে পড়তে হয়। বাড়তি মজুরি দিয়ে ক্ষেতে কাজ করতে হয়। ফলে খরচটা একটু বেশি আগাম সবজি চাষে। তবে ভালো দাম পেলে তা সহজে কেটে ওঠা যায়।

কাঞ্চন নগরহাটের পাইকারি সবজি ব্যবসায়ী মো. শফি জানান, এখানকার বিভিন্ন চরে উৎপাদিত সবজির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তাছাড়া এসব সবজি কীটনাশকমুক্ত। এ ধরনের সবজিতে ক্রেতাদের ঝোঁক তুলনামূলক বেশি। তাই আমি এ বাজার থেকে সবজি কিনে হাটহাজারী ও নগরীর বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করে থাকি।

উপজেলা কৃষি অফিসার মো. হাসানুজ্জামান দৈনিক শেয়ার বিজকে বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে শীতকালীন সবজির বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। পাশাপাশি ভালো দাম পেলে কৃষকরাও লাভবান হবেন। এ অঞ্চলে উৎপাদিত সবজির খ্যাতি রয়েছে দেশজুড়ে। এছাড়া উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের পরার্মশ ও সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন   ❑ পড়েছেন  ৯১  জন  

সর্বশেষ..