সুস্বাস্থ্য

ফটোগ্রাফিতে জনস্বাস্থ্য

বর্তমানে ডেঙ্গুজ্বরের কারণে সারা দেশ এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। এডিস মশা থেকে সৃষ্ট এ রোগের ভয়াবহতা অতীতে এত ভয়ংকর রূপে দেখা যায়নি। দেশের সাধারণ মানুষ এখন ডেঙ্গু থেকে পরিত্রাণ পেতে কিছুটা হলেও সচেতন হয়েছে। তবে আরও আগে এ সচেতনতার প্রয়োজন ছিল। তাহলে অর্ধশতাধিক মানুষের করুণ মৃত্যু হয়তো এড়ানো যেত।
সবার উচিত প্রথমে নিজেকে ভালোবাসা। নিজেকে সুস্থ রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করা, তথা নিজের শরীরের যত্ন সম্পর্কে নানা বিষয়ে সচেতন হওয়া। আর মানুষের এ স্বাস্থ্য সচেতনতার ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমধর্মী একটি আয়োজন সম্পন্ন করতে যাচ্ছে সাভারের গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র ও গণ বিশ্ববিদ্যালয়। উভয় প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজন করা হয়েছে জনস্বাস্থ্যবিষয়ক ছবি প্রতিযোগিতা। গত ১৮ জুন জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সমন্বয়ক ডা. মনজুর কাদির আহমেদ।
‘ফটোগ্রাফিতে জনস্বাস্থ্য: ফুটিয়ে তুলুন আপনার ক্যামেরায়’ প্রতিপাদ্যে দেশব্যাপী চলবে এ প্রতিযোগিতা। জনস্বাস্থ্যবিষয়ক ছবি মূলত জনসাধারণের
স্বাস্থ্য-সম্পর্কিত নানা বিষয় তুলে ধরে। আমাদের চারপাশে ইতিবাচক বা নেতিবাচক যা-ই ঘটুক না কেন তা যদি আমাদের স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত বিষয়ে ভূমিকা রাখে, অথবা আমাদের স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে, তাহলে তা ছবিতে ফুটিয়ে তুলে ধরাই প্রতিযোগিতার বিষয়বস্তু। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, একটি রেস্তোরাঁয় রান্নাঘরের চিত্র দেখে আপনি বুঝতে পারবেন সেখানে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে রান্না করা হচ্ছে কি না? রাস্তার পাশের খোলা খাবার, অপুষ্ট শিশু অথবা মা, নারীস্বাস্থ্য, প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা, বাল্যবিয়ে ও এর কুফল কিংবা বয়স্ক স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ে আপনি ছবি তুলতে পারেন। পথশিশু, শিশুশ্রম, বস্তির জীবন, শরণার্থী শিবির, ইটভাটার ধোঁয়া, গাড়ির কালো ধোঁয়া, অতিরিক্ত যাত্রী বহনকারী গাড়ি, গাড়ির হর্ন, নদীদূষণ, সড়ক দুর্ভোগ, কলকারখানার বর্জ্য, রাস্তার আশপাশ বা স্কুলের সামনে ময়লার স্তূপ অথবা খোলা ডাস্টবিন সব বিষয় জনস্বাস্থ্য-সম্পর্কিত। বিশুদ্ধ খাবার পানি সংগ্রহ অথবা পানি সংগ্রহের দীর্ঘ লাইন, খোলা টয়লেট কিংবা স্বাস্থ্য সচেতনতা-বিষয়ক র‌্যালি, টিকাদান, প্রাতঃকালীন হাঁটা ও ব্যায়াম হতে পারে আপনার ছবির বিষয়। অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধের অনিয়ন্ত্রিত, অপ্রয়োজনীয়, অসম্পূর্ণ ও যথেচ্ছ ব্যবহার কিংবা শিশুদের মোবাইল ফোনের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তিও জনস্বাস্থ্য-সম্পর্কিত ছবির বিষয় হতে পারে।
বাংলাদেশে বসবাসকারী ১৮ বছর বয়সি বা তদূর্ধ্ব যেকোনো নাগরিক এ প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন। একজন প্রতিযোগী নিজের তোলা সর্বোচ্চ তিনটি ছবি জমা দিতে পারবেন। প্রতিটি ছবির একটি অর্থবহ শিরোনাম ও ছবির জনস্বাস্থ্য-বিষয়ক গুরুত্ব ৭৫ থেকে ২০০ শব্দের মধ্যে বাংলা অথবা ইংরেজিতে বর্ণনা করতে হবে। সেইসঙ্গে ছবি তোলার কৌশলগত পারঙ্গম ও প্রতিযোগিতার বিষয়ের সঙ্গে ছবির গ্রহণযোগ্য সম্পৃক্ততা অনুযায়ী বিজয়ী নির্বাচন করা হবে।
১০ বিজয়ী পাবেন এক লাখ টাকার প্রাইজবন্ড ও ১০ রানার্স-আপ পাবেন ২০ হাজার টাকার প্রাইজবন্ড। এছাড়া পুরস্কার হিসেবে রয়েছে জনস্বাস্থ্য ও ফটোগ্রাফি-বিষয়ক বিশ্বখ্যাত বই, ক্রেস্ট ও সনদপত্রসহ নানা পুরস্কার। প্রতিযোগিতার প্রধান বিচারক হাসান সাইফুদ্দিন চন্দন।
গত বছর গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের আয়োজনে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয় এ প্রতিযোগিতা। গতবার সীমিত পরিসরে সম্পন্ন হলেও এবার আয়োজনের ব্যাপ্তি সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রতিযোগিতার সহযোগিতায় রয়েছে গণ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতিসহ (গবিসাস) দেশি-বিদেশি ২৭ প্রতিষ্ঠান। ছবি জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৭ সেপ্টেম্বর। সাভারের গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পিএইচএ মিলনায়তনে বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ ও ছবি প্রদর্শন করা হবে। ছবি জমাদানের জন্য ইমেইল করুন
publichealthphotocontest
gmail.com এ ঠিকানায়।

অনিক আহমেদ

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..